পিরোজপুরে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। আক্রান্তের দিক দিয়ে বরিশাল বিভাগের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে পিরোজপুর জেলায়। চলতি মৌসুমে (৩০ জুন পর্যন্ত) জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪১৭ জনে। এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে একজনের।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে জেলার বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন ৪১৭ জন রোগী। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩৭৫ জন। বর্তমানে জেলা হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে চিকিৎসাধীন ৪০ জন।

স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের একটি বড় অংশ রাজধানী থেকে আক্রান্ত হয়ে নিজ জেলায় ফিরে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আক্রান্তদের মধ্যে পিরোজপুর সদর, ভান্ডারিয়া ও নেছারাবাদ উপজেলার বাসিন্দাদের সংখ্যাই বেশি।

বরিশাল বিভাগে আক্রান্তের শীর্ষে পিরোজপুর

পিরোজপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ডেঙ্গু রোগী রফিক শেখ বলেন, গত ৬ তারিখে ভর্তি হয়েছি। এখানে চিকিৎসার মান ভালো আছে কিন্তু জায়গা স্বল্পতার কারণে অনেক সমস্যা হচ্ছে। নতুন হাসপাতালটি চালু করার দাবি জানান তিনি।

রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, ডেঙ্গু ও সাধারণ রোগীদের আলাদা করে চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে পাশাপাশি বেডে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এতে সাধারণ রোগীরাও আক্রান্তের ঝুঁকিতে রয়েছেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর স্বজন কায়সার আহমেদ বলেন, ‘ডেঙ্গু রোগীদের যদি আলাদা করে দেয়, আর আমরাও যদি আলাদা থাকতে পারি; তাহলে সবাই সেবা ভালো মতো পাবে। ডেঙ্গু ভাইরাস ছড়াইলে আমরা তো বিপদে পড়বো। আমরা তো একটা রোগ নিয়ে আসছি। এইটা ছড়াইয়া যাইতে পারে।’

বরিশাল বিভাগে আক্রান্তের শীর্ষে পিরোজপুর

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মো. শাহরিয়ার। তিনি ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমি জ্বর নিয়ে ঢাকা থেকে এসেছি। এখানে এসে চিকিৎসকের পরামর্শে ডেঙ্গু টেস্ট করাই। রেজাল্টে ডেঙ্গু ধরা পড়ে। বর্তমানে শরীরের অবস্থা আগের তুলনায় ভালো।’

এ বিষয়ে পিরোজপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. মতিউর রহমান বলেন, ‘ডেঙ্গু বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। মশাবাহিত এ রোগ ঠেকাতে সবাইকে সচেতন হওয়া জরুরি।’

মো. তরিকুল ইসলাম/এসআর/এএসএম