নদীমাতৃক বরিশালে পর্যটনে নতুন মাত্রা যোগ করতে যাত্রা শুরু করেছে ঐতিহ্যবাহী কাঠের বিলাসবহুল পর্যটন নৌযান ‘কুইন অব উলানিয়া’। বেসরকারি উদ্যোগে নির্মিত এই তরীকে ঘিরে নদীনির্ভর পর্যটনের সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। শুক্রবার বিকালে কীর্তনখোলা নদীতে আনুষ্ঠানিকভাবে নৌযানটির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এসএম জিয়াউদ্দিন হায়দার। উদ্বোধনের পর তিনি অতিথিদের নিয়ে নৌভ্রমণে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, দেশের পর্যটন শিল্পকে আরও বিকশিত করতে সরকার ‘একটি গ্রাম একটি পণ্য’ ধারণার পাশাপাশি ‘সাংস্কৃতিক গ্রাম’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে বরিশাল-ঝালকাঠি অঞ্চলের মৃৎ ও পাটিশিল্প, ভাসমান পেয়ারা বাজার এবং বরিশাল-ভোলার নদীকেন্দ্রিক পর্যটন সম্ভাবনা নিয়ে পরিকল্পনা এডিপিতে জমা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বেসরকারি উদ্যোগে ‘কুইন অব উলানিয়া’ চালু হওয়া অত্যন্ত ইতিবাচক উদ্যোগ এবং এটি অন্য উদ্যোক্তাদেরও বিনিয়োগে উৎসাহিত করবে।

নৌযানটির স্বত্বাধিকারী সৈয়দ রাজিউর রহমান চৌধুরী জানান, ২০২৫ সালের ২৭ জুন কুষ্টিয়া থেকে ঐতিহ্যবাহী কাঠের নৌকাটি সংগ্রহ করা হয়। পরে সংস্কার শেষে ২০২৬ সালের ১৪ এপ্রিল এটি চলাচলের উপযোগী করা হয়। নৌযানটি নির্মাণে কাঠ ও বাঁশের মতো দেশীয় উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে, যাতে বাংলার ঐতিহ্য ফুটে ওঠেছে।

তিনি আরও জানান, পর্যটনের পাশাপাশি দুর্গম চরাঞ্চলে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে এই নৌযান ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে। ভবিষ্যতে চিকিৎসা ক্যাম্প, চক্ষু ক্যাম্প ও কিডনি চিকিৎসাসহ বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমন বলেন, এই তরীকে কাজে লাগিয়ে শিশু-কিশোরদের জন্য শিক্ষামূলক ও সাংস্কৃতিক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ রয়েছে।

অনুষ্ঠান শেষে অতিথিদের নিয়ে কীর্তনখোলা নদী ভ্রমণ করে ‘কুইন অব উলানিয়া’ পুনরায় বরিশাল নদীবন্দরে ফিরে আসে। সংশ্লিষ্টদের আশা, এই উদ্যোগ বরিশালের নদীকেন্দ্রিক পর্যটনের নতুন দিগন্ত উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।