বরিশাল বিভাগে সবচেয়ে বেশি ফলন হয় তরমুজের। বিভাগে ফল উৎপাদনের দিক দিয়ে একক আধিপত্য রয়েছে তরমুজের। বিভাগটির ৬ জেলায় মোট ৫২ হাজার ৬৯ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়। চলতি বছর ফলটি উৎপাদন হয়েছে ১৯ লাখ ৪৩ হাজার ৭৫ মেট্রিক টন, যা বিভাগের সর্বোচ্চ ফল উৎপাদন।
২০২৪-২৫ অর্থবছরের কৃষি উৎপাদন সংক্রান্ত বিভাগভিত্তিক উপাত্তে জানা গেছে, উৎপাদনের দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সুপারি। ২৩ হাজার ৩৮৫ হেক্টর জমিতে চাষ করে উৎপাদিত হয়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৪১২ মেট্রিক টন সুপারি।
আরও পড়ুন
আমের চেয়ে বেশি খরচ ক্যারেট-পরিবহনে, বিপাকে চাষিরা
উৎপাদনের দিক থেকে তৃতীয় স্থানে রয়েছে নারিকেল। ৭ হাজার ৪১১ হেক্টর জমিতে চাষ করে উৎপাদিত হয়েছে ৮৯ হাজার ৪৭২ মেট্রিক টন নারিকেল। চতুর্থ স্থানে থাকা কলা ৪ হাজার ৩২২ হেক্টর জমিতে চাষ করে উৎপাদিত হয়েছে ৮৩ হাজার ৯১৪ মেট্রিক টন।
এদিকে বরিশালে আমের উৎপাদনও উল্লেখযোগ্য। ৩ হাজার ২৩৩ হেক্টর জমিতে উৎপাদিত হয়েছে ৫২ হাজার ৭৩০ মেট্রিক টন আম। যা বিভাগটির পঞ্চম সর্বোচ্চ ফল উৎপাদন।
আরও পড়ুন
চাকরি না পেয়ে উদ্যোক্তা হলেন নাঈম, ড্রাগনেই বাজিমাত
জেলা ভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, বরিশাল জেলায় ১ হাজার ১৮০ হেক্টর জমিতে তরমুজ উৎপাদন হয়েছে ৪৮ হাজার ৩৮০ মেট্রিক টন। পিরোজপুরে ১৪২ হেক্টর জমিতে উৎপাদন হয়েছে ৪ হাজার ৭৬৫ মেট্রিক টন। ঝালকাঠিতে ৭৭ হেক্টর জমিতে উৎপাদন হয়েছে ৬১২ মেট্রিক টন। পটুয়াখালীতে ২৭ হাজার ৩৩৬ হেক্টর জমিতে উৎপাদন হয়েছে ৮ লাখ ৭৪ হাজার ৭৫২ মেট্রিক টন। বরগুনায় ৯ হাজার ৭২৪ হেক্টর জমিতে উৎপাদন হয়েছে ২৬ লাখ ৬ হাজার ১৬ মেট্রিক টন ও ভোলায় ১৩ হাজার ৬১০ হেক্টর জমিতে উৎপাদন হয়েছে ৭ লাখ ৪৮ হাজার ৫৫০ মেট্রিক টন। বরিশাল বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি তরমুজ উৎপাদন হয়েছে পটুয়াখালীতে ও ভোলায়।
এদিকে জেলা ভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, বরিশাল জেলায় ২ হাজার ১৭৮ হেক্টর জমিতে সুপারি উৎপাদন হয়েছে ১০ হাজার ৮৯০ মেট্রিক টন। পিরোজপুরে ৪ হাজার ৬৬৯ হেক্টর জমিতে উৎপাদন হয়েছে ৫৩ হাজার ২০৫ মেট্রিক টন। ঝালকাঠিতে ৪৮২ হেক্টর জমিতে উৎপাদন হয়েছে ৮৬৯ মেট্রিক টন। পটুয়াখালীতে ৮০৫ হেক্টর জমিতে উৎপাদন হয়েছে ৫ হাজার ৬৩৫ মেট্রিক টন। বরগুনায় ১ হাজার ৭৫১ হেক্টর জমিতে উৎপাদন হয়েছে ১৫ হাজার ৩১৩ মেট্রিক টন ও ভোলায় ১৩ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে উৎপাদন হয়েছে ৬৭ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন। বরিশাল বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সুপারি উৎপাদন হয়েছে ভোলা ও পিরোজপুর জেলায়।

নারিকেলের জেলা ভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, বরিশাল জেলায় ৪৪১ হেক্টর জমিতে নারিকেল উৎপাদন হয়েছে ৫ হাজার ১১২ মেট্রিক টন। পিরোজপুরে ২ হাজার ৪১৭ হেক্টর জমিতে উৎপাদন হয়েছে ২৯ হাজার ৪ মেট্রিক টন। ঝালকাঠিতে ৬০৭ হেক্টর জমিতে উৎপাদন হয়েছে ৭ হাজার ২৮৪ মেট্রিক টন। পটুয়াখালীতে ১ হাজার ৪৫৫ হেক্টর জমিতে উৎপাদন হয়েছে ১৭ হাজার ৪৬০ মেট্রিক টন। বরগুনায় ৬৪১ হেক্টর জমিতে উৎপাদন হয়েছে ৮ হাজার ১২ মেট্রিক টন ও ভোলায় ১ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে উৎপাদন হয়েছে ২২ হাজার ২০০ মেট্রিক টন। বরিশাল বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নারিকেল উৎপাদন হয়েছে পিরোজপুর ও ভোলা জেলায়।
আরও পড়ুন
লিচুর বাগানে বদলে গেছে পিরোজপুরের অর্থনীতি
জেলা ভিত্তিক হিসেব অনুযায়ী, বরিশাল জেলায় ৭৪৫ হেক্টর জমিতে কলা উৎপাদন হয়েছে ১১ হাজার ১৭৫ মেট্রিক টন। পিরোজপুরে ১ হাজার ৩৭০ হেক্টর জমিতে উৎপাদন হয়েছে ২৬ হাজার ২৬২ মেট্রিক টন। ঝালকাঠিতে ৭০৫ হেক্টর জমিতে উৎপাদন হয়েছে ১২ হাজার ৩৮৭ মেট্রিক টন। পটুয়াখালীতে ৫৪০ হেক্টর জমিতে উৎপাদন হয়েছে ৬ হাজার ৪৮০ মেট্রিক টন। বরগুনায় ২১২ হেক্টর জমিতে উৎপাদন হয়েছে ৫ হাজার ১১০ মেট্রিক টন ও ভোলায় ৭৫০ হেক্টর জমিতে উৎপাদন হয়েছে ২২ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন। বরিশাল বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কলা উৎপাদন হয়েছে পিরোজপুর ও ভোলা জেলায়।
এছাড়া জেলা ভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, বরিশাল জেলায় ৩৯৯ হেক্টর জমিতে আম উৎপাদন হয়েছে ৪ হাজার ৩৮১ মেট্রিক টন। পিরোজপুরে ৫৮৩ হেক্টর জমিতে উৎপাদন হয়েছে ৫ হাজার ৯৬৫ মেট্রিক টন। ঝালকাঠিতে ২৬১ হেক্টর জমিতে উৎপাদন হয়েছে ১ হাজার ৭৫০ মেট্রিক টন। পটুয়াখালীতে ৯৬৫ হেক্টর জমিতে উৎপাদন হয়েছে ২৪ হাজার ৮২৯ মেট্রিক টন। বরগুনায় ২০০ হেক্টর জমিতে উৎপাদন হয়েছে ৩ হাজার ৪৩০ মেট্রিক টন ও ভোলায় ৮২৫ হেক্টর জমিতে উৎপাদন হয়েছে ১২ হাজার ৩৭৫ মেট্রিক টন। বরিশাল বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আম উৎপাদন হয়েছে পটুয়াখালী ও ভোলা জেলায়।
পটুয়াখালী জেলার রাঙ্গাবালি উপজেলার চালিতাবুনিয়া গ্ৰামের তরমুজচাষি নান্না গাজী জানান, তিনি চলতি মৌসুমে ৬ জৈষ্ঠ্য জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। এ বছর ভালো আবহাওয়ার কারণে তরমুজ খুব একটা নষ্ট হয়নি। তাই ফলনও ভালো হয়েছে। দামও ভালো পেয়েছেন বলে জানান এ চাষি।
আরও পড়ুন
আমের লাভ গিলে খাচ্ছে ‘ঢলন’ প্রথা
পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলার আরেক চাষি দেলোয়ার হোসেন বলেন, এ বছর বন্যা বা দুর্যোগ তেমন একটা না হওয়ায় তরমুজ বেশি নষ্ট হয়নি। এ বছর আগের তুলনায় তরমুজের উৎপাদন বেশি হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বরিশাল বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম শিকদার জাগো নিউজকে বলেন, উপাত্ত অনুযায়ী, বরিশাল বিভাগের জলবায়ু ও মাটির বৈশিষ্ট্যে তরমুজ, সুপারি ও নারিকেল চাষের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী হওয়ায় এসব ফলের উৎপাদন অন্য ফলের তুলনায় অনেক বেশি। পরিকল্পিত বাজারজাতকরণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ সুবিধা বাড়ানো গেলে এ খাত থেকে আরও বেশি অর্থনৈতিক সুবিধা অর্জন সম্ভব হবে বলে তিনি জানান।
দক্ষিণাঞ্চলে কেন তরমুজের উৎপাদন বেশি
অনুকূল আবহাওয়া ও প্রচুর রোদ থাকায় দক্ষিণাঞ্চলে তরমুজের উৎপাদন বেশি হয় জানিয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বরিশাল বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম শিকদার বলেন, তরমুজ চাষের জন্য প্রচুর রোদ এবং উষ্ণ আবহাওয়া প্রয়োজন হয়। দক্ষিণাঞ্চলের আবহাওয়া তরমুজ পাকার মৌসুমে (ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল) বেশ উষ্ণ ও রৌদ্রোজ্জ্বল থাকে, যা তরমুজে মিষ্টি ও রসালো ভাব আনতে সাহায্য করে।
তাছাড়া নদী তীরবর্তী ও উপকূলীয় চরাঞ্চলের মাটি বেলে-দোআঁশ প্রকৃতির। এই ধরনের মাটিতে পানি সহজে নিষ্কাশিত হতে পারে, যা তরমুজ গাছের শিকড় বৃদ্ধির জন্য দারুণ উপযোগী। প্রতি বছর বর্ষার সময় নতুন পলি জমা হওয়ায় এখানকার জমিগুলো অত্যন্ত উর্বর থাকে, ফলে আলাদাভাবে খুব বেশি রাসায়নিক সার প্রয়োগের প্রয়োজন হয় না। মূলত অনুকূল আবহাওয়া, উর্বর মাটি ও প্রচুর রোদ থাকায় দক্ষিণাঞ্চলে তরমুজের উৎপাদন বেশি হয়।
এফএ/জেআইএম








