বরিশাল নগরীতে সাতটি শিয়াল পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বন বিভাগ। শনিবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরিশাল বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইনে রোববার আদালতে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
রফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি তাঁদের নজরে আসার পর ওই এলাকায় লোক পাঠিয়ে তদন্ত করা হয়েছে। এরই মধ্যে কারা এর সঙ্গে জড়িত, তাদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কারা জড়িত, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি এই বন কর্মকর্তা।
সম্প্রতি নগরের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের ময়দানখোলা এলাকায় এসব শিয়াল পিটিয়ে ও টেঁটাবিদ্ধ করে হত্যা করে এলাকার একদল ব্যক্তি। পরে মেরে ফেলা এসব শিয়ালের মাংস নিয়ে যেতে আহ্বান জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয় লোকজন জানান, ঘটনাটি ২ জুলাই নগরের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের ময়দানখোলা এলাকার। জানাজানি হয় ৮ জুলাই। এরপর এ নিয়ে আলোচনা হলে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সরিয়ে ফেলা হয়।
বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী সংরক্ষিত বন্য প্রাণী হিসেবে শিয়াল হত্যা করা বা এর মাংস খাওয়া ও বিক্রি করা দণ্ডনীয় বা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, পাঁচটি মৃত শিয়াল মাটিতে পড়ে রয়েছে। পাশেই আরও দুটি শিয়ালের চামড়া ছাড়ানো হচ্ছে। এ সময় লাঠি হাতে থাকা এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘এলাকায় হাঁস-মুরগি ও ছাগল খাওয়ায় শিয়ালগুলো মারা হয়েছে। কারও প্রয়োজন হলে ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের ময়দানখোলা এলাকায় এসে শিয়ালের মাংস নিয়ে যেতে পারেন।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক নারী দাবি করেন, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে শিয়ালের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় অনেকের হাঁস-মুরগি ও ছাগলের ক্ষতি হচ্ছিল। এ কারণে কয়েকজন মিলে শিয়াল মারার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর ২ জুলাই সকালে ৬০ থেকে ৭০ জনের একটি দল জঙ্গলে গিয়ে শিয়ালের আস্তানায় হামলা চালায়।
ওই নারী জানান, লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে শিয়ালগুলো দিগ্বিদিক পালানোর চেষ্টা করলে লাঠিসোঁটা দিয়ে পিটিয়ে ও টেঁটা বিদ্ধ করে সাতটি শিয়াল হত্যা করা হয়। পরে হামলাকারীরা জবাই করে মাংস খাওয়ার জন্য কয়েকটি শিয়াল স্থানীয় বাজারে নিয়ে যান। অবশিষ্ট মাংস ও চামড়া মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে।
নাম না প্রকাশ করার শর্তে স্থানীয় আরেক ব্যক্তি জানান, শিয়ালের মাংস খেলে বিভিন্ন রোগ ভালো হয়—এমন কুসংস্কারের কারণে কয়েকজন ওই দিন রাতে শিয়ালের মাংস রান্না করে রুটি–পিঠা দিয়ে খেয়েছেন। তবে কারা খেয়েছেন এবং এসব শিয়াল হত্যায় কারা নেতৃত্ব দিয়েছেন, তা তিনি জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
২৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মো. ফরিদ উদ্দিন হাওলাদার বলেন, ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। তবে কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।
ফেসবুকে পোস্ট করা ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। দেশের প্রচলিত বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন লঙ্ঘন করে এভাবে প্রকাশ্যে বন্য প্রাণী হত্যা এবং তার মাংস বিক্রির প্রচারণাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানান পরিবেশবাদীরা।





