ভারি বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে পুরো এলাকা। সর্বত্র পানি থৈ থৈ করছে। বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণের নৌকা এসেছে শুনে ছুটে গিয়েছিল পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া আশফাক উদ্দীন। ১১ বছর বয়সী শিশুটিকে ঘর বের হতে নিষেধ করেছিলেন মা ইসমত আরা। খাবার তৈরি করতে মা ঘরের ভেতরের কক্ষে যেতেই বেরিয়ে পড়ে সে। আর এতেই ঘটে দুর্ঘটনা। ঢলের পানিতে ভেসে গিয়ে মারা যায় সে।
চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নের ইলশা গ্রামে শুক্রবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। শনিবার ওই গ্রামে আশফাকের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্বজনদের মাতম চলছে। পানিবন্দি ঘরেই শোকে কাতর খালাসহ পরিবারের সদস্যরা বসে আছেন। সেখানে আশফাকের চাচি শিরিন আকতারকে আর্তনাদ করতে দেখা যায়। তিনি বলছিলেন, আমার কোনো সন্তান না থাকায় আশফাক উদ্দীনকে আড়াই বছর বয়স থেকে লালন পালন করে আসছিলাম। সে আমাকে ‘মাম্মা’ বলে ডাকতো। তিনি বলেন, বাড়ির পাশে বন্যাদুর্গতদের জন্য রিলিফ নিয়ে একটি স্পিডবোট আসছে শুনে সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে সে ঘর থেকে বের হয়ে যায়। এর কিছুক্ষণ পরই খবর আসে আশফাক ঢলের পানিতে ভেসে গিয়ে মারা গেছে। বন্যা আমাদের বুক খালি করে দিয়েছে।
আশফাকের বাবার নাম কামাল উদ্দিন। তিনি প্রবাসে থাকেন। পরিবার সূত্র জানায়, ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে বিদেশে তার বাবা বার বার অজ্ঞান হারাচ্ছেন। এর আগে শুকবার বিকালে স্থানীয় শেখ মঙ্গল তালুকদার জামে মসজিদে হাঁটু পানিতে জানাজা শেষে আশফাককে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। ওইদিন বন্যার ঢলে একই গ্রামে মিরাজ এবং সরল ইউনিয়নে তানিহা নুর নামে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তাদের পরিবারেও নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
এবার বন্যায় বাঁশখালীর কাথারিয়া, ছনুয়া, কোকদন্ডি, গন্ডামারাসহ উপকূলীয় ইউনিয়নগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ শনিবারও পানিবন্দি ছিল।






