বর্ষাকাল মানেই শুধু সর্দি-কাশি বা সংক্রমণের ঝুঁকি নয়, এই সময় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ে রান্নাঘরের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবারও। অতিরিক্ত আর্দ্রতা, তাপমাত্রার ওঠানামা এবং বাতাসের সংস্পর্শে এসে আটা, ময়দা, চাল, ডাল, মসলা, তেল, ঘি এমনকি মধুও দ্রুত নষ্ট হতে পারে। অনেক সময় ছত্রাক, দুর্গন্ধ বা স্বাদের পরিবর্তন দেখা দেয়, যা খাবারের গুণমান কমিয়ে দেয়।
তবে কিছু সহজ নিয়ম মেনে চললে বর্ষাকালেও রান্নাঘরের এসব উপকরণ দীর্ঘদিন ভালো রাখা সম্ভব। আসুন জেনে নেওয়া যাক কীভাবে সংরক্ষণ করবেন।
কোল্ড-প্রেসড তেল রাখুন সঠিকভাবে
কোল্ড-প্রেসড বা কাঠের ঘানির তেল সবচেয়ে বেশি সংবেদনশীল। আলো, তাপ এবং বাতাসের সংস্পর্শে এলে দ্রুত অক্সিডেশন শুরু হয়, ফলে তেলের স্বাদ, গন্ধ ও পুষ্টিগুণ নষ্ট হতে পারে। তাই এই ধরনের তেল জানালার পাশে, গ্যাসের চুলা বা ওভেনের কাছে রাখবেন না। সবসময় ঠান্ডা, শুষ্ক ও অন্ধকার জায়গায় সংরক্ষণ করুন। সম্ভব হলে এয়ারটাইট স্টিল বা গাঢ় রঙের কাচের বোতলে রাখুন।
ছোট প্যাকেটে কিনলে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কম থাকে
একসঙ্গে বেশি না কিনে ছোট প্যাকেট নিন
বর্ষাকালে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি খাদ্যসামগ্রী মজুত না রাখাই ভালো। বড় বোতল বা বড় প্যাকেট বারবার খুলতে হয়, ফলে বাতাস ও আর্দ্রতা সহজেই ভেতরে ঢুকে পড়ে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, এই সময়ে তেল, ঘি, মসলা কিংবা আটা অল্প পরিমাণে কিনুন। শেষ হয়ে গেলে নতুন করে কিনুন। এতে খাবার দীর্ঘদিন সতেজ থাকবে এবং অপচয়ও কম হবে।
পাত্র যেন সম্পূর্ণ শুকনো থাকে
তেল, ঘি, মধু কিংবা মসলা সংরক্ষণের আগে নিশ্চিত করুন পাত্রটি পুরোপুরি শুকনো। সামান্য পানিও ছত্রাক বা ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। তেল ও ঘি রাখার জন্য স্টেইনলেস স্টিল বা ভালো মানের কাচের এয়ারটাইট পাত্র সবচেয়ে উপযুক্ত। খাবার তোলার সময় ভেজা চামচ ব্যবহার করবেন না। সবসময় শুকনো ও পরিষ্কার চামচ ব্যবহার করুন।
এয়ারটাইট পাত্র ব্যবহার করলে খাবার ভালো থাকে
জানালা ও সিঙ্কের পাশে রাখবেন না
রান্নাঘরের জানালা বা সিঙ্কের আশপাশে আর্দ্রতা বেশি থাকে। ফলে সেখানে রাখা আটা, চাল, ডাল কিংবা মসলা খুব দ্রুত নষ্ট হতে পারে। এসব উপকরণ এমন আলমারি বা তাকেই রাখুন, যেখানে সরাসরি রোদ, তাপ বা আর্দ্রতা পৌঁছায় না। এতে খাবারের গুণগত মান দীর্ঘদিন অক্ষুণ্ণ থাকবে।
আটা ও ময়দা এয়ারটাইট পাত্রে রাখুন
বর্ষাকালে আটা ও ময়দা খুব সহজেই স্যাঁতসেঁতে হয়ে যায়। এতে গুটি বাঁধা, দুর্গন্ধ কিংবা পোকা হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। আটা বা ময়দা সবসময় শক্ত ঢাকনাযুক্ত এয়ারটাইট পাত্রে সংরক্ষণ করুন। দীর্ঘদিন রাখতে হলে ছোট ছোট ভাগ করে রাখুন, যাতে পুরো পাত্র বারবার খুলতে না হয়।
মসলা রাখুন আর্দ্রতামুক্ত স্থানে
গুঁড়া মসলা বর্ষায় সবচেয়ে দ্রুত নষ্ট হয়। আর্দ্রতার কারণে মসলা জমাট বেঁধে যায় এবং সুগন্ধও কমে যায়।
হলুদ, মরিচ, জিরা বা ধনিয়ার গুঁড়ো ছোট কাচের বা স্টিলের এয়ারটাইট বয়ামে রাখুন। রান্নার সময় গরম হাঁড়ির ওপরে ধরে মশলা ব্যবহার করবেন না, কারণ বাষ্প ঢুকে মশলা নষ্ট হতে পারে।
হাঁড়ি-পাতিল মাজার স্পঞ্জ কত দিন পর পর পরিবর্তন করতে হবে
মধু ও ঘির জন্যও প্রয়োজন সঠিক সংরক্ষণ
অনেকেই মনে করেন মধু বা ঘি সহজে নষ্ট হয় না। কিন্তু বর্ষাকালে ভুলভাবে রাখলে এগুলোর মধ্যেও ছত্রাক বা গন্ধের পরিবর্তন হতে পারে। মধু সবসময় শক্ত করে ঢাকনা বন্ধ করে রাখুন এবং ভেজা চামচ ব্যবহার করবেন না। ঘিও এয়ারটাইট পাত্রে রেখে শুষ্ক জায়গায় সংরক্ষণ করুন।
আরও পড়ুন
বঁটি-ছুরির মরিচা দূর করতে আলু ব্যবহার করুন
বর্ষাকালে রান্নাঘর সবসময় পরিষ্কার ও শুকনো রাখা জরুরি। আলমারি, তাক এবং সংরক্ষণ পাত্র নিয়মিত মুছে নিন। কোথাও পানি জমে থাকলে দ্রুত শুকিয়ে ফেলুন। খাবার সংরক্ষণের ক্ষেত্রে বাহারি কৌটার চেয়ে এয়ারটাইট পাত্র বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সঠিকভাবে সংরক্ষণ করলে শুধু খাবারের স্বাদই নয়, পুষ্টিগুণও দীর্ঘদিন বজায় থাকবে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, দ্য কিচেন
এসএকেওয়াই








