গরম চা, কফি বা স্যুপ দ্রুত পান করতে গিয়ে জিভ বা মুখের ভেতরের নরম চামড়া পুড়িয়ে ফেলে। গরম তরল মুখে লাগার সঙ্গে সঙ্গেই তীব্র জ্বালাভাব, অবশ অনুভূতি এবং পরে খাওয়ার সময় অস্বস্তি শুরু হয়।
চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই ধরনের হালকা পোড়াকে ফার্স্ট ডিগ্রি বার্ন বা প্রথম স্তরের দহন বলা হয়। সাধারণত এটি গুরুতর নয় এবং কয়েক দিনের মধ্যেই সেরে যায়। তবে এই সময় মুখের ভেতরের সংবেদনশীল টিস্যুর সঠিক যত্ন নেওয়া জরুরি।
তবে রান্নাঘরে থাকা কিছু সাধারণ উপাদানই এই জ্বালাভাব কমাতে এবং ক্ষত দ্রুত সারাতে সাহায্য করতে পারে।
ঠান্ডা পানি ব্যবহার করুন
মুখের ভেতরের চামড়া পুড়ে গেলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো ক্ষতস্থানের তাপমাত্রা দ্রুত কমিয়ে আনা। এতে পোড়ার গভীরতা কিছুটা কমতে পারে এবং জ্বালাভাবও কমে।
ঘটনার সঙ্গে সঙ্গেই ফ্রিজের ঠান্ডা পানি মুখে নিয়ে কয়েক সেকেন্ড ধরে রাখুন। পানি গরম হয়ে গেলে ফেলে দিয়ে আবার নতুন ঠান্ডা পানি নিন। এভাবে ১০ থেকে ১৫ মিনিট কুলকুচি করুন। চাইলে ছোট একটি বরফের টুকরো মুখে রেখে ধীরে ধীরে গলিয়ে নিতে পারেন। তবে বরফ সরাসরি পোড়া অংশে চেপে ধরবেন না।
মধুতে দ্রুত আরাম মিলবে
খাঁটি মধুতে রয়েছে প্রাকৃতিক অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিসেপটিক উপাদান। এটি ক্ষতস্থানে আর্দ্রতা বজায় রাখে, জ্বালা কমায় এবং নতুন টিস্যু গঠনে সহায়তা করতে পারে। ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধোয়ার পর এক চা চামচ খাঁটি মধু পোড়া অংশে লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিন। দিনে ৩ থেকে ৪ বার ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যেতে পারে।
মধু মুখের পোড়া অংশে আরাম দিতে সাহায্য করতে পারে
অ্যালোভেরা জেল
অ্যালোভেরা দীর্ঘদিন ধরেই পোড়া ত্বকের যত্নে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এর শীতলকারী উপাদান মুখের ভেতরের ক্ষতেও আরাম দিতে পারে।
গাছের পাতা থেকে বের করা টাটকা অ্যালোভেরা জেলের সামান্য অংশ পোড়া জায়গায় লাগিয়ে কিছুক্ষণ রাখুন। এটি জ্বালাভাব কমানোর পাশাপাশি ক্ষত নিরাময়ের প্রক্রিয়াকেও সহায়তা করতে পারে।
ঠান্ডা টক দই
টক দইয়ের ঠান্ডা অনুভূতি পোড়া জায়গায় তাৎক্ষণিক স্বস্তি এনে দেয়। পাশাপাশি এটি মুখের ভেতরের জ্বালা কিছুটা কমাতেও সাহায্য করতে পারে।
ফ্রিজে রাখা ঠান্ডা টক দই এক চামচ মুখে নিয়ে পোড়া অংশে কয়েক মিনিট ধরে রাখুন। এরপর ধীরে ধীরে গিলে ফেলতে বা ফেলে দিতে পারেন।
লবণ-পানিতে কুলকুচি
হালকা লবণ-পানি মুখের ভেতরের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে এবং সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।
এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে আধা চা-চামচ লবণ মিশিয়ে দিনে ৩ থেকে ৪ বার আলতোভাবে কুলকুচি করুন। তবে অতিরিক্ত গরম পানি ব্যবহার করবেন না।
অতিরিক্ত ঝাল, টক বা শক্ত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে
এ সময় যেসব খাবার এড়িয়ে চলবেন
মুখের চামড়া পুড়ে গেলে অন্তত ২ থেকে ৩ দিন খুব গরম, অতিরিক্ত ঝাল, টক বা শক্ত খাবার না খাওয়াই ভালো। এসব খাবার ক্ষতস্থানে আরও জ্বালা সৃষ্টি করতে পারে এবং নিরাময় প্রক্রিয়া ধীর করে দিতে পারে। এর পরিবর্তে ঠান্ডা বা স্বাভাবিক তাপমাত্রার নরম খাবার যেমন দই, ঠান্ডা দুধ, কলা, নরম ভাত বা স্যুপ খেতে পারেন।
আরও পড়ুন
বর্ষার স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় দেয়াশলাই শুকনো রাখার উপায়
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
সাধারণত হালকা পোড়া কয়েক দিনের মধ্যেই ভালো হয়ে যায়। তবে ২ থেকে ৩ দিনের পরও যদি তীব্র ব্যথা থাকে, বড় ফোস্কা তৈরি হয়, পুঁজ বের হতে শুরু করে, জ্বর আসে বা খাওয়াই কঠিন হয়ে পড়ে, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
আরও পড়ুন
বাবল র্যাপ দেখলেই কেন ফাটাতে ইচ্ছা করে
মুখের ভেতরের পোড়া ক্ষতকে অবহেলা না করে শুরুতেই সঠিক যত্ন নিলে জ্বালাভাব দ্রুত কমে এবং স্বাভাবিকভাবে খাওয়া-দাওয়া করাও সহজ হয়ে যায়।
সূত্র: হেলথলাইন, হিন্দুস্তান টাইমস ও অন্যান্য
এসএকেওয়াই








