সুরা ফাতিহার অত্যন্ত সুন্দর ও চমৎকার অনেক ব্যাখ্যা আপনারা শুনেছেন, আজ আমি এই সুরার ওপর ভিন্ন একটি দৃষ্টিকোণ থেকে আলোকপাত করতে চাই। কারণ সুরা ফাতিহা আর দশটি সাধারণ সুরার মতো নয়। এটি এমন এক অনন্য সুরা, যা প্রতিদিন বিশ্বজুড়ে শত কোটি বার পাঠ করা হয়। এই পৃথিবীতে সুরা ফাতিহার চেয়ে বেশি আর কোনো কিতাব, কোনো ধর্মগ্রন্থ কিংবা কোনো সাহিত্যই পঠিত হয় না। এর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। সমগ্র বিশ্বে মুসলিম উম্মাহর জনসংখ্যা প্রায় ১৮০ কোটি। এর মধ্যে যদি কেবল অর্ধেক মানুষও নিয়মিত নামাজ আদায় করেন, তবে সেই সংখ্যাটি কত বিশাল একবার ভেবে দেখুন। তারা সবাই মিলে প্রতিদিন কতবার এই সুরাটি তিলাওয়াত করছেন, সেই হিসাব কি কেউ বের করতে পারবে? আপনি কিংবা আমি আমাদের জীবনের এই পর্যন্ত কতবার এটি পড়েছি, কতবার শুনেছি এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আরও কত শত-সহস্রবার এটি পাঠ করব, তার কোনো ইয়ত্তা নেই। তাই নির্দ্বিধায় বলা যায়, সমগ্র কোরআনের মধ্যে সুরা ফাতিহা এক অনন্য ও বিস্ময়কর সুরা। এটি নিজেই নিজের মধ্যে একটি জীবন্ত মোজেজা বা অলৌকিক নিদর্শন, যার বর্ণনা দিতে গিয়ে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এমন কিছু শব্দ ব্যবহার করেছেন যা কোরআনের আর কোনো সুরার ক্ষেত্রে করেননি।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ এই সুরার পরিচয় দিতে গিয়ে বলেছেন, ‘আমি আপনাকে সাতটি বারবার পঠিতব্য আয়াত দান করেছি।’ অর্থাৎ আল্লাহ স্বয়ং সুরা ফাতিহাকে বারবার আবৃত্তি করা সাতটি আয়াত হিসেবে অভিহিত করেছেন। যখন এই আয়াত বা সুরাটি নাজিল হয়েছিল, তখন ইসলামের ইতিহাসে মুসলমানদের সংখ্যা ছিল মাত্র পঞ্চাশ জনেরও কম। সেই চরম প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে মহান আল্লাহ ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন যে, এই সাতটি আয়াত অন্য সব আয়াতের চেয়ে আলাদা হবে এবং এগুলো বারবার, পুনঃপুন পঠিত হতে থাকবে। এর পাশাপাশি একই আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, তিনি আমাদের কোরআনও দান করেছেন। এই আয়াত পড়লে মনে হয় সুরা ফাতিহার মূল বক্তব্য সমগ্র কোরআনের বাণীর সারসংক্ষেপ।

আজ আমি অত্যন্ত সংক্ষেপে আপনাদের সামনে এই সুরা ফাতিহা থেকে একটি সাধারণ সত্য উদঘাটন করতে চাই, আর তা হলো—এই সুরাটি আসলে আমাদের জীবন পরিচালনার একটি সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি বা মেথডোলজি শিখিয়ে দেয়। এটি আমাদের মনস্তত্ত্বে এমন কিছু ধারণা ও চিন্তার বীজ বুনে দেয়, যা জীবনের প্রতি আমাদের মনস্তাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি কেমন হওয়া উচিত তা নির্ধারণ করে। আমরা যখন অর্থ বুঝে বারবার এই সুরাটি পাঠ করি, তখন মূলত নিজেদের ভেতর একটি নিখুঁত জীবনদর্শন ও ফ্রেমওয়ার্ক পুনর্নিশ্চিত করি। যা আমাদের এই পৃথিবীতে পথ চলতে, মানুষের সাথে আচরণ করতে এবং জগতকে ভিন্ন চোখে দেখতে সাহায্য করে।

এই সুরার শুরুটা অত্যন্ত চমৎকার। আমরা প্রথমেই আমাদের জীবনের সমস্ত ভালো কিছুর জন্য আল্লাহ তাআলার দরবারে শুকরিয়া বা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি। এটি আমাদের জীবনের ইতিবাচক ও উজ্জ্বল দিকগুলোর দিকে তাকাতে শেখায়, আমাদের আশাবাদী হতে অনুপ্রাণিত করে। ‘আলহামদুলিল্লাহ’ শব্দের মাধ্যমে আমরা সর্বদা কৃতজ্ঞ থাকার দীক্ষা পাই। একজন মুমিন সবসময় ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে আল্লাহর ইবাদত করবে এবং সে সবসময়ই আশাবাদী থাকবে। এরপরই আমরা উপলব্ধি করি যে, আমরা এমন এক সত্তার প্রশংসা ও ইবাদত করছি যিনি আমার এবং এই মহাবিশ্বের একমাত্র অভিভাবক ও পালনকর্তা। তিনি এমন কেউ নন যিনি আমাদের সৃষ্টি করে অবহেলায় ছেড়ে দিয়েছেন। বরং তিনি আমার সমস্ত লালন-পালন ও ভরণপোষণের দায়িত্বশীল। আল্লাহই আমার রব, আমার মালিক, আমার তত্ত্বাবধায়ক এবং আমার রিজিকদাতা। এই উপলব্ধি মনের ভেতর এক পরম গৌরব ও মর্যাদার অনুভূতি এনে দেয়। যেমনটি বলা হয়ে থাকে, একজন মুমিনের আসল ইজ্জত ও সম্মান তো লুকিয়ে আছে আল্লাহর প্রতি তার চূড়ান্ত দাসত্ব ও আনুগত্য স্বীকার করার মধ্যেই।

এরপর আমরা আল্লাহর অজস্র গুণের মধ্য থেকে এমন একটি গুণের কথা নিজেদের স্মরণ করিয়ে দিই, যা আল্লাহ আমাদের সবচেয়ে বেশি জানাতে চেয়েছেন—তা হলো তিনি আমাদের ভালোবাসেন, তিনি আমাদের প্রতি পরম দয়ালু ও পরম করুণাময়। আমাদের রবের মূল স্বভাবই হলো দয়া ও অনুগ্রহ। তিনি রহমান, তিনি রাহিম। আমরা এমন কোনো ঈশ্বরে বিশ্বাস করি না যিনি ক্ষতিকারক, প্রতিহিংসাপরায়ণ কিংবা কোনো কারণ ছাড়াই বান্দার ওপর ক্রুদ্ধ হন। বরং আমরা বিশ্বাস করি এমন এক দয়াময় আল্লাহর প্রতি যিনি পরম করুণাময় ও দয়ার আধার। তবে হ্যাঁ, আমাদের রব পরম দয়ালু ও করুণাময় হওয়া সত্ত্বেও আমরা কিন্তু সেই দয়ার অপব্যবহার করতে পারি না। আমাদের প্রতিটি কাজের জন্য একদিন তাঁর কাছে জবাবদিহি করতে হবে। আর এই ধারণাই আমাদের জীবনে আশা এবং ভয়ের এক নিখুঁত সমন্বয় ঘটিয়ে দেয়। আমাদের জীবনের মূল ভিত্তি হবে আশা ও রহমত, তবে সেই সুযোগে কোনো অন্যায় করা যাবে না, কারণ আমাদের কর্মের হিসাব দিতে হবে। যখন আপনি প্রতিদিন নিজেকে মনে করিয়ে দেবেন যে একটি বিচার দিবস বা ‘ইয়াওমিদ্দিন’ রয়েছে এবং আল্লাহ সেদিন আমার বিচার করবেন, তখন আপনি আপনার জীবনযাত্রায় সতর্ক হবেন। আপনি প্রতিনিয়ত আল্লাহকে স্মরণ করবেন, নিজের কাজগুলোকে পর্যবেক্ষণ করবেন, একটি নীতিবান জীবনযাপন করবেন এবং মানুষের ওপর জুলুম করা থেকে বিরত থাকবেন। আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল হওয়া সত্ত্বেও অন্য কারো অধিকার খর্ব না করার ব্যাপারে আপনি নিজের দায়িত্ব পালন করবেন।

এরপর যখন আমরা একটি বিশেষ আয়াত উচ্চারণ করি, সেই দুটি শব্দ মূলত এই দুনিয়ার সমস্ত ভয়ভীতি, নিপীড়ন আর কুসংস্কার থেকে আমাদের পুরোপুরি মুক্ত করে দেয়। আমরা যখন বলি যে আমি কোনো সৃষ্টিজীবের সামনে নিজেকে সমর্পণ করব না, আমি কাউকে ভয় পাব না এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করব না, তখনই মানুষ সত্যিকারের মুক্তি পায়। ‘ইয়্যাকা নাবুদু’ বলার মাধ্যমে আপনি নিজেকে সৃষ্টির দাসত্ব থেকে মুক্ত করে নেন, দুনিয়ার সমস্ত সংকীর্ণতা ও তুচ্ছতা থেকে নিজের আত্মাকে পবিত্র করেন এবং একমাত্র আল্লাহর আনুগত্যে নিজেকে সমর্পণ করেন। আমি এই দুনিয়ার গোলামি করব না, আমার জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য সম্পদ বা খ্যাতি নয় এবং আমার কাউকে খুশি করারও প্রয়োজন নেই—একমাত্র আল্লাহই আমার উপাস্য। এরপরই আমরা স্মরণ করি যে, এই ইবাদতের পথে চলতে গিয়ে আমাদের তাঁর সাহায্য প্রয়োজন। আর এখানেই অনেকে একটি বড় ভুল করে বসেন; তারা আল্লাহর কাছে নিজেদের চাহিদার কথা আগে প্রকাশ করেন কিন্তু আল্লাহর ইবাদতের হক ঠিকমতো আদায় করেন না। একজন প্রকৃত মুমিন সবসময় ইবাদতকে অগ্রাধিকার দেয় এবং তারপর আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে। এটি বিশ্বাস এবং কর্মের এক অপূর্ব সমন্বয়। বিশ্বাসের মূল ভিত্তি হলো কর্মের উদ্দীপনা জাগ্রত করা। আমরা আল্লাহর ওপর ভরসা করি, কিন্তু সেই ভরসার সাথে সাথে আমাদের নিজেদেরও প্রচেষ্টা চালাতে হবে। হে আল্লাহ, আমরা আপনারই ইবাদত করি, তাই আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে আপনি আমাদের সাহায্য করুন। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব, কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর জন্য আপনার তাওফিক ও সাহায্য অপরিহার্য। এই বোধ আমাদের ভেতর আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল বা পূর্ণ নির্ভরতা তৈরি করে এবং অন্য কোনো সত্তার ওপর নির্ভরশীল হওয়া থেকে দূরে রাখে। একমাত্র আল্লাহই আমাদের সমস্ত প্রয়োজন পূরণ করতে পারেন।

‘ইয়্যাকা নাবুদু ওয়া ইয়্যাকা নাস্তাইন’ বলার মাধ্যমে আমাদের ইবাদত ও তাওয়াক্কুল নিখুঁত করার পর আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করি। আমরা দুনিয়াবি নানা জিনিস, টাকা-পয়সা, ধন-সম্পদ কিংবা যশের কথা ভাবার আগে আল্লাহ আমাদের মনে করিয়ে দেন যে জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কী। তা হলো আপনার জীবনের মূল উদ্দেশ্য, আপনার ভিশন। যাত্রাপথের তুচ্ছ জিনিসগুলো চাওয়ার আগে আপনার গন্তব্য ঠিক করা জরুরি। আমরা প্রার্থনা করি, হে আল্লাহ! আমাকে সবচেয়ে মহৎ ও শ্রেষ্ঠ পথ দেখান। আমি আমার জীবনকে অর্থপূর্ণ করতে চাই। হে আল্লাহ, আমাকে সেই সরল সঠিক পথ দেখান যা আপনার নেয়ামতপ্রাপ্ত ও সম্মানিত বান্দাদের পথ। এই দোয়াটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, এই পথটি একটি দীর্ঘ পথ এবং এই পথে আমি একা নই। আমার আগে আরও অনেক সৎ ও পুণ্যবান মানুষ এই পথে হেঁটে গেছেন। তাই এটি আমাদের অতীত অধ্যয়ন করার নির্দেশ দেয় এবং এই পৃথিবীতে সৎ মানুষের সাহচর্যে থাকার প্রেরণা জোগায়। আমরা অতীতের নবী-রাসুল, সাহাবায়ে কেরাম এবং বড় বড় মনীষীদের জীবন নিয়ে পড়াশোনা করব, কারণ তাঁরাই আমাদের ‘সিরাতুল মুস্তাকিম’ বা সরল পথ দেখিয়ে গেছেন। সৎ সঙ্গ ও ভালো মানুষদের সাথে সম্পৃক্ত থাকুন যাতে এই পথে টিকে থাকার শক্তি ও সঠিক দিকনির্দেশনা আপনি পেতে পারেন।

এর পরপরই আল্লাহ আমাদের সতর্ক করে দেন যে, সব পথ কিন্তু মহৎ নয় এবং সব লক্ষ্য ভালো নয়। কারণ চারপাশে অনেক বিভ্রান্তিকর পথ রয়েছে। আল্লাহ কোরআনে স্পষ্ট বলেছেন যে, আল্লাহর পথটিই অনুসরণ করো এবং অন্য কোনো পথের পেছনে ছুটো না। সৎ পথ কেবল একটিই, আর ভুল পথ রয়েছে অনেক। ভুল বা ভ্রান্ত পথগুলোর পেছনে মূলত দুটি মৌলিক সমস্যা কাজ করে। প্রথম দলটির সমস্যা হলো, তারা সত্য কী তা খুব ভালো করেই জানে কিন্তু পার্থিব কোনো স্বার্থ বা লোভের কারণে তারা তা পরিত্যাগ করেছে। তারা জানে কোনটা সঠিক, কোনটা তাদের জন্য কল্যাণকর, কিন্তু তাদের নিজস্ব কামনা-বাসনা, অহংকার, প্রবৃত্তি আর ক্ষমতার লোভ তাদের ওপর জয়ী হয়েছে। তারা সত্য জানা সত্ত্বেও ক্ষমতা, খ্যাতি, লালসা আর অর্থের মোহে নিজেদের বিবেককে অন্ধ করে ফেলেছে এবং এটি অত্যন্ত ভুল একটি পথ। আর দ্বিতীয় দলটির সমস্যা হলো, তারা আসলে সত্যকে মনেপ্রাণে চায় কিন্তু সত্য সম্পর্কে তাদের সঠিক জ্ঞান বা ইলম নেই। তাদের হয়তো কিছুটা আন্তরিকতা বা ইখলাস আছে, কিন্তু তাদের ভেতর প্রজ্ঞা ও প্রমাণের অভাব রয়েছে। ফলে তারা লক্ষ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তারা সঠিক পথে আসতে চায়, কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর জন্য যে বুদ্ধিবৃত্তিক সাধনা ও পড়াশোনা করা দরকার, সেই প্রচেষ্টা তারা করে না। এই দুটি পথই সমানভাবে বিভ্রান্তিকর এবং পরিত্যাজ্য।

পরিশেষে বলতে চাই, এই সুরাটি আসলে ইসলামের মূল বার্তা এবং জীবনদর্শনকে আমাদের সামনে চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তোলে। এটি আমাদের শেখায় আমাদের রব কে, কীভাবে তাঁর ইবাদত করতে হবে, অতীতের আম্বিয়া আলাইহিস সালামের ইতিহাস জানার তাগিদ দেয় এবং সৎ মানুষের সাহচর্যে থাকার গুরুত্ব বোঝায়। দ্বীনের তিনটি মূল স্তম্ভ—ইমান, আমল ও ইহসান—সবই এই সুরার ভেতর নিহিত রয়েছে। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি আল্লাহর সাথে আমাদের সম্পর্কের ধরনটি বারবার মনে করিয়ে দেয়। আল্লাহ হলেন আমাদের রব আর আমরা হলাম তাঁর সৃষ্টি ও বান্দা। মাত্র সাতটি আয়াতের কী এক অপূর্ব ও নিখুঁত এক সুরা! যার প্রথম তিনটি আয়াত আল্লাহর প্রশংসা ও মহিমায় পূর্ণ, শেষ তিনটি আয়াত বান্দার যাবতীয় আরজি ও দোয়ায় ভরা, আর মাঝখানের আয়াতটি আল্লাহর প্রশংসার সাথে বান্দার চাহিদাকে এক সুতোয় বেঁধে দিয়েছে।

আমরা যখনই সুরা ফাতিহা পাঠ করব, তখন যেন পূর্ণ সচেতনতা, গভীর উপলব্ধি ও অন্তর্দৃষ্টি নিয়ে সুরাটি পাঠ করি। সুরা ফাতিহার মূল উদ্দেশ্যই হলো মানুষের ভেতর একটি সুন্দর জীবনদর্শন, মনস্তাত্ত্বিক দৃঢ়তা, ইবাদতের সঠিক পদ্ধতি এবং কর্মতৎপরতা তৈরি করা। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা পবিত্র কোরআনের উসিলায় আমাদের সবাইকে বরকত দান করুন!

সূত্র: ইউটিউব চ্যানেল এপিক মসজিদে প্রকাশিত ড. ইয়াসির ক্বাদির বক্তব্যের ভিডিও থেকে লেখাটি তৈরি করা হয়েছে।

ওএফএফ