নরসিংদীতে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীর কানে কামড় দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলাকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। মামলার বাদী ও জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি মিয়া মোহাম্মদ সজিব অভিযোগ করেছেন, মামলার জেরে তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। তবে পলাশ উপজেলা বিএনপি দাবি করেছে, কান কামড়ের ঘটনাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
মিয়া মোহাম্মদ সজিব অভিযোগ করেন, আজ শনিবার ভোরে ঘোড়াশাল পৌরসভার মিয়াপাড়া এলাকায় তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আগুন দেওয়া হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, তাঁর ব্যবসায়িক অংশীদার বালু ব্যবসায়ী সাখাওয়াত হোসেনকে ঘোড়াশাল পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন চিশতিয়া মারধর ও কান কামড় দিয়ে আহত করেন। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর থেকেই তাঁকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় দুর্বৃত্তরা তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগুন দেয়। আগুনে বিদেশি পাখি, আসবাবপত্র, বইপত্র এবং দলীয় বিভিন্ন ছবি পুড়ে গেছে।
তবে ব্যবসায়ীকে মারধর ও কানে কামড় দিয়ে আহত করার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছে পলাশ উপজেলা বিএনপি। সংবাদ সম্মেলনে ঘোড়াশাল পৌর বিএনপির সভাপতি আলম মোল্লা বলেন, আওয়ামী লীগের পূর্বপরিকল্পনার অংশ হিসেবে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং বিষয়টি ভাইরাল করার উদ্দেশ্যে কানে কামড়ের মিথ্যা অভিযোগ প্রচার করা হয়েছে।
এর আগে গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে মেসার্স সজিব ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. সজিব মিয়া বাদী হয়ে ব্যবসায়ী সাখাওয়াত হোসেনকে মারধর ও কানে কামড় দেওয়ার ঘটনায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় ঘোড়াশাল পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন চিশতিয়াকে প্রধান আসামি করে আরও ১০ জনের নাম উল্লেখ এবং ১৫-২০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।
পুলিশ সূত্র বলেছে, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, সজিব মিয়া একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে বালু, ইট ও রড সরবরাহের কাজ পান এবং সেই কাজে সাখাওয়াত হোসেনকে ড্রেজার মেশিন ও পাইপ ভাড়াসহ নিয়োগ দেন। ১৩ জুলাই বিকেলে ঘোড়াশালের টেকপাড়া এলাকায় বাংলাদেশ জুট মিলসের অভ্যন্তরে নদীর পাড়ে ড্রেজার মেশিন স্থাপনের সময় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একদল ব্যক্তি হামলা চালায়। হামলায় সাখাওয়াত হোসেন গুরুতর আহত হন এবং তাঁর কানে কামড় দিয়ে জখম করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।








