বর্ষাকালে বাইরের তাপমাত্রা তুলনামূলক কম থাকলেও বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। এই অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে খাবারে দ্রুত ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে, ফলে ফ্রিজের তাপমাত্রা ঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক তাপমাত্রা বজায় রাখলে খাবার দীর্ঘ সময় সতেজ থাকে, অপচয় কমে এবং ফ্রিজও কার্যকরভাবে কাজ করে।
কেন বর্ষায় তাপমাত্রা ঠিক রাখা জরুরি?
অনেকেই সারা বছর একই সেটিংসে ফ্রিজ চালান। কিন্তু ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ফ্রিজের তাপমাত্রাও প্রয়োজন অনুযায়ী সমন্বয় করা উচিত। বর্ষাকালে বেশি আর্দ্রতার কারণে দুধ, রান্না করা খাবার, ফল ও সবজি দ্রুত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই এই সময়ে ফ্রিজের তাপমাত্রার দিকে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন।
আরও পড়ুন
গরমে ফ্রিজের তাপমাত্রা কত রাখলে বিদ্যুৎ বিল কমবে?
রেফ্রিজারেটর কত ডিগ্রিতে রাখবেন?
প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্যামসাংয়ের পরামর্শ অনুযায়ী, বর্ষাকালে রেফ্রিজারেটর অংশের তাপমাত্রা প্রায় ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রাখা সবচেয়ে উপযুক্ত। অন্যদিকে ফ্রিজারের তাপমাত্রা -১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রাখলে হিমায়িত খাবারের গুণগত মান বজায় থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণভাবে রেফ্রিজারেটরের তাপমাত্রা ১.৭ থেকে ৩.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে অধিকাংশ খাবার নিরাপদ থাকে এবং ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি অনেকটাই কমে যায়।
যেসব বিষয় মনে রাখবেন
- ফ্রিজ অযথা বারবার খুলবেন না।
- গরম খাবার সরাসরি ফ্রিজে রাখবেন না।
- ফ্রিজ অতিরিক্ত ভর্তি করে রাখলে ঠান্ডা বাতাস ঠিকভাবে চলাচল করতে পারে না।
- কাঁচা ও রান্না করা খাবার আলাদা পাত্রে সংরক্ষণ করুন।
- নিয়মিত ফ্রিজ পরিষ্কার রাখুন, যাতে দুর্গন্ধ ও জীবাণু জমতে না পারে।
- নতুন ফ্রিজে থাকলে ব্যবহার করুন মনসুন মোড
বর্তমানের অনেক আধুনিক ফ্রিজে বিভিন্ন ঋতুর জন্য আলাদা অপারেটিং মোড থাকে। আপনার ফ্রিজে যদি মুনসুন মোড বা অনুরূপ কোনো মৌসুমি মোড থাকে, তাহলে বর্ষাকালে সেটি চালু করলে ফ্রিজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে উপযুক্ত তাপমাত্রা ও কুলিং নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
মডেলভেদে তাপমাত্রা ভিন্ন হতে পারে
সব ফ্রিজের কুলিং প্রযুক্তি এক নয়। তাই নির্দিষ্ট মডেলের জন্য প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের নির্দেশিকায় উল্লেখ করা তাপমাত্রাই অনুসরণ করা সবচেয়ে নিরাপদ। প্রয়োজন হলে ব্যবহার নির্দেশিকা দেখে বা কোম্পানির ওয়েবসাইট থেকে সঠিক তথ্য জেনে নিন।
সঠিক তাপমাত্রায় ফ্রিজ ব্যবহার করলে শুধু খাবারই দীর্ঘ সময় ভালো থাকে না, বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয় এবং ফ্রিজের কর্মক্ষমতাও দীর্ঘদিন বজায় থাকে।
আরও পড়ুন
ফ্রিজে ১, ২, ৩, ৪, ৫ নম্বরের আসল মানে কী জানেন?
কেএসকে




