দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের ধপধপি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের সূর্যপুর হাট এলাকায় ১২ বছরের এক কিশোরী শনিবার বিকেলে বাড়ি থেকে খাবার কিনতে বেরিয়ে আর ফেরেনি বলে পরিবারের দাবি।সন্ধ্যা থেকে রাতভর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি চালান। পরদিন, রবিবার সকালে বাড়ির অদূরে একটি পুকুর থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় কিশোরীর দেহ উদ্ধার হয়।এই ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরিবারের অভিযোগ, কিশোরীকে যৌন নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে। তবে পুলিশ এখনও এই অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেনি।তদন্তকারীদের মতে, ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর কারণ এবং যৌন নির্যাতনের অভিযোগ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব হবে।ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যেই দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং আরও কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তের জন্য ছয় সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনটি পৃথক মামলা দায়ের হয়েছে—নাবালিকার মৃত্যুর ঘটনা, গণপিটুনিতে এক যুবকের মৃত্যু এবং পুলিশের উপর হামলার অভিযোগে।ঘটনাটি সামনে আসার পর এলাকায় বিক্ষোভ, উত্তেজনা এবং রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা নিহত কিশোরীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি ওঠে। তদন্ত এখনও চলছে, তাই ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তদন্ত শেষ হওয়ার পরই স্পষ্ট হবে।বারুইপুরে ১২ বছরের এক নাবালিকার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যেই একাধিক অভিযুক্তকে গ্রেফতার ও কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। পাশাপাশি নাবালিকার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে তদন্তকারী সংস্থা।এই ঘটনার মধ্যেই নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে আসে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন। রবিবার রাতে তিনি অভিযোগ করেন, নিহত কিশোরীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও তার বাড়ির সামনে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করে কার্যত তাঁকে বাইরে যেতে বাধা দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, এটি এক ধরনের ‘হাউস অ্যারেস্ট’-এর পরিস্থিতি।অন্যদিকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘হাউস অ্যারেস্ট’-এর অভিযোগের সমর্থনে কোনও বক্তব্য দেওয়া হয়নি। কেন অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছিল, সে বিষয়েও সরকারিভাবে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।এদিকে রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগকে খারিজ করে বলেন, তাঁকে ‘হাউস অ্যারেস্ট’ করা হয়নি। তাঁর বক্তব্য, নিরাপত্তার স্বার্থেই ওই ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ অব্যাহত রয়েছে।অন্যদিকে, নিহত কিশোরীর পরিবারের সঙ্গে ফোন ও ভিডিও কলে যোগাযোগ করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতারা। মুখ্যমন্ত্রীও পরিবারের সঙ্গে কথা বলে নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানা গেছে।বারুইপুরের ঘটনায় বর্তমানে তিনটি পৃথক মামলা রুজু হয়েছে: নাবালিকার মৃত্যুর ঘটনা, গণপিটুনিতে এক যুবকের মৃত্যু এবং পুলিশের উপর হামলার অভিযোগে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও ফরেনসিক তথ্য সামনে এলে ঘটনাটির প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।এই মুহূর্তে ‘হাউস অ্যারেস্ট’ সংক্রান্ত অভিযোগ রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় হলেও, প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কোনও পদক্ষেপ নেওয়ার কথা নিশ্চিত করা হয়নি।