পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা, দুর্নীতিসহ নানা কারণে ভেনেজুয়েলা বহু বছর ধরেই অর্থনৈতিক সংকটে ধুঁকছে। এর মধ্যে মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে এসেছে স্মরণকালের ভয়াবহ ভূমিকম্প। কিন্তু ভূমিকম্পের পর উদ্ধারকাজে প্রভাব পড়েছে অর্থনৈতিক সংকটের। জ্বালানি সংকটের কারণে উদ্ধারকারী যানবাহনগুলোকে পুরোদমে কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

এদিকে সময় যত গড়াচ্ছে, ততই ভূমিকম্পে নিখোঁজদের নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। এই অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেরাই উদ্ধারকাজে নেমে পড়েছেন।

ভেনেজুয়েলা বিশ্বের সবচেয়ে বেশি খনিজ তেলের মজুত রয়েছে। কিন্তু অর্থনৈতিক দুর্দশার কারণে সেই তেল উত্তোলন করতে পারছে না দেশটি। সিএনএনের একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্যের লা গুইয়ারা শহরের বাসিন্দারা ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে এখন আপনজনদের খুঁজছেন হন্যে হয়ে। এ সময় পাশে একটি সরকারি এক্সকাভেটর (মাটি কাটার যন্ত্র) অচল হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল।

সিএনএনের সাংবাদিক অচল এক্সকাভেটরের চালককে জিজ্ঞেস করছিলেন, তিনি কেন উদ্ধারকাজে অংশ নিচ্ছেন না। জবাবে চালক বলেছেন, এক্সকাভেটরে জ্বালানি নেই।

এদিকে লা গুয়াইরার আর্দ্র বাতাসে এখন লাশের গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এখন ধসে পড়া বহুতল ভবনগুলো ভাঙার চেষ্টা করছে। প্রকৌশলী হ্যাসেল মেন্ডোজা সিএনএনকে বলেন, তাঁর মা, বোন, ভগ্নিপতি এবং ভাগনে একটি নয়তলা অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে আছেন। গত দুই রাত ধরে মেন্ডোজা মাটিতেই ঘুমাচ্ছেন। তিনি জানান, সঠিক সরঞ্জাম ছাড়া তল্লাশি চালানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। কোনো ড্রিল মেশিন নেই, কোনো সেন্সর নেই।

পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘ডাটা স্ট্র্যাটেজিয়া’র পরিচালক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক কারমেন বিয়াত্রিজ ফার্নান্দেজ বলেন, ‘মানুষ ক্ষুব্ধ। আমরা যা দেখছি তা অন্য একটি ট্র্যাজেডিরই প্রতিফলন। সেটি হলো রাষ্ট্রের সব সক্ষমতাকে কেবল দমনপীড়ন ও প্রোপাগান্ডার (অপপ্রচার) পেছনে ব্যয় করা হয়েছে। মৌলিক চাহিদা মেটানোর মতো একটি রাষ্ট্রের ন্যূনতম ক্ষমতাকেও ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।’