যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে ভারত থেকে আমদানি করা পণ্যের আড়ালে (মিথ্যা ঘোষণায়) আনা ৩ হাজার ৬৭৫ কেজি ভায়াগ্রার চালান জব্দ করা হয়েছে। ৮ জুলাই বিষয়টি জানাজানি হয়। এ ঘটনায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের অনুরোধে বেনাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট শেডগুলোতে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা জোরদার করেছে।

জানা গেছে, ১৫ মার্চ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান আরাফাত এন্টারপ্রাইজ কোয়ার্টজ পাউডার ঘোষণা দিয়ে ভারত থেকে ১৬ টন পণ্য আমদানি করে। চালানটি খালাসের দায়িত্বে ছিল হায়দার অ্যান্ড সন্স নামের একটি সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান। তবে সন্দেহের ভিত্তিতে ল্যাব পরীক্ষায় ওই চালানে ১৩ ধরনের রাসায়নিকের উপস্থিতি পাওয়া যায়, যার মধ্যে ৩ হাজার ৬৭৫ কেজি ভায়াগ্রা ছিল।

কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, জব্দ করা ৩ হাজার ৬৭৫ কেজি ভায়াগ্রার চালানটি বন্দরের ৩২ নম্বর পণ্যাগারের শেডে রাখা হয়েছে। এর আগে ১ জুলাই বেনাপোল কাস্টমস হাউজের সহকারী কমিশনার অটল গোস্বামী স্বাক্ষরিত চিঠিতে বন্দর কর্তৃপক্ষকে অবৈধভাবে পণ্য সরিয়ে নেওয়ার শঙ্কার কথা জানিয়ে নিরাপত্তা জোরদারের অনুরোধ জানানো হয়। বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) শামিম হোসেন জানান, কাস্টমসের চিঠি পাওয়ার পর পণ্যাগারগুলোতে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বর্তমানে আনসার, বেসরকারি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান আল-আরাফা এবং গোয়েন্দা সদস্যরা সেখানে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া ৩৪ নম্বর শেডেও ভায়াগ্রা সন্দেহে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা আরেকটি চালানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা চলমান রয়েছে। এর আগেও ২০১৯ সালের ২৬ মে বায়েজিদ এন্টারপ্রাইজ সোডিয়াম গ্লাইকুলেট ঘোষণা দিয়ে ১০০ ড্রামে ২ হাজার ৭০০ কেজি পাউডার জাতীয় রাসায়নিক আমদানি করে। চালানটি ছাড়ের দায়িত্বে ছিল শাইনিং শিপিং সার্ভিসেস। ওই চালানটিও পরীক্ষায় ভায়াগ্রা হিসাবে শনাক্ত হয়। সেটি এখনো বন্দরের ৩৪ নম্বর শেডে রাখা রয়েছে।

বেনাপোল আমদানি-রফতানি সমিতির সভাপতি মতিউর রহমান বলেন, এ ধরনের মাদকদ্রব্য দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করলে লাখো তরুণ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির পাশাপাশি সহযোগীদেরও চিহ্নিত করতে হবে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, কিছু অসাধু ব্যবসায়ীদের কারণে সাধারণ আমরা সাধারণ ব্যবসায়ীরা হয়রানির শিকার হচ্ছি। এ কারণে অনেকেই বেনাপোল বন্দর দিয়ে ব্যবসা কমিয়ে দিয়েছেন।