প্রকাশ্য দিবালোকে নিজের স্ত্রীকে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করে খুনের অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। স্ত্রীকে হত্যার পর নিজের পেটেও ধারালো ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন সেই স্বামী। বুধবার (৮ জুলাই) হাড়হিম করা এই ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার সোদপুর ফাউচার গেট এলাকায়।

জানা গেছে, সোদপুরের মহেন্দ্রনগরের বাসিন্দা গীতা দাশের সঙ্গে বছর তিনেক আগে ভালোবেসে বিয়ে হয় হাড়োয়ার বাসিন্দা সুভাষ দাশের। তবে বিয়ের কয়েক মাস পরেই গীতা জানতে পারেন, সুভাষের আগেও একটি বিয়ে হয়েছিল। গীতাকে না জানিয়ে সুভাষ তার আগের স্ত্রীর সঙ্গে আলাদা জায়গায় সংসারও করছিলেন।

এই সত্য জানার পর থেকেই গীতার সঙ্গে সুভাষের প্রতিনিয়ত সংসারে অশান্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে গীতা সিদ্ধান্ত নেন, তিনি সুভাষের সঙ্গে আর সংসার করবেন না।

এরপরই তিনি বাবার বাড়িতে চলে আসেন এবং সেখান থেকেই একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরি শুরু করেন। তবে সুভাষ বহুবার গীতাকে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য তার বাপের বাড়িতে এসে বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু গীতা তাতে রাজি হননি।

বুধবার (৮ জুলাই) সকালে গীতা কাজে যাওয়ার জন্য সোদপুর স্টেশনের দিকে রওয়ানা হন। সোদপুর ফাউচার গেট এলাকার স্কুল রোডে পৌঁছালে তার পথ আটকায় স্বামী সুভাষ। কিছু বুঝে ওঠার আগেই গীতাকে এলোপাতাড়ি ছুরি দিয়ে আঘাত করতে শুরু করেন তিনি। ধারালো ছুরি দিয়ে গীতার গলার নলি ও পেটে আঘাত করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা বাধা দিতে গেলে সুভাষ তাদের ওপরেও চড়াও হন। একপর্যায়ে নিজের পেটেও ছুরি চালিয়ে দেন তিনি।

ঘটনাস্থলেই রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন দুজনে। খবর পেয়ে খড়দহ থানার পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় সাগর দত্ত মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক গীতাকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে সুভাষ দাসকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গীতা রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়লে আশপাশের মানুষ তাকে বাঁচানোর জন্য এগিয়ে আসেন। সেই সময় সুভাষ ছুরি উঁচিয়ে তাদের দিকে তেড়ে যান। এর পরপরই ধারালো ছুরিটি নিজের পেটে ঢুকিয়ে দিয়ে তিনি নিজেও মাটিতে পড়ে যান।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরেই গীতা এবং সুভাষের মধ্যে অশান্তি চলছিল। তবে আজ হঠাৎ করেই এমন নৃশংস ঘটনা ঘটবে, তা কেউ ভাবেনি।

ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডিসি সেন্ট্রাল কার্তিক চন্দ্র মন্ডল জানিয়েছেন, ঘটনাটি নিয়ে কিছু প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। ঠিক কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।

ডিডি/কেএএ/