আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও পরিবারের আরও চার সদস্যের মরদেহ ইরাকের নাজাফ শহর থেকে কারবালায় নেওয়া হয়েছে। কারবালায় আবুল ফজল আল-আব্বাস (আ.) ও ইমাম হুসাইন (আ.)-এর পবিত্র মাজারে শেষ শ্রদ্ধা ও বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
ইরাকের আলসুমারিয়া নিউজ জানিয়েছে, কারবালায় শোকাবহ পরিবেশে ব্যতিক্রমধর্মী শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়। বিপুলসংখ্যক শোকাহত মানুষ, ধর্মীয় আলেম এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশ নেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, খামেনির পরিবারের সদস্যদের মরদেহ ইমাম হুসাইন (আ.) ও তার ভাই হজরত আবুল ফজল আল-আব্বাস (আ.)-এর মাজারে নিয়ে যাওয়া হয়। সে্খানে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী বরকত গ্রহণ ও শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

এদিকে, বুধবার ভোর থেকেই নাজাফে আয়াতুল্লাহ খামেনির জন্য সরকারি ও জনসাধারণের অংশগ্রহণে শোকানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ইমাম আলী (আ.)-এর পবিত্র মাজারের দিকে যাওয়া সড়কগুলোতে বিপুলসংখ্যক ইরাকি নাগরিক, জিয়ারতকারী এবং ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব জড়ো হন।
এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আয়াতুল্লাহ খামেনি এবং তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যের মরদেহ নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। সেখানে ইরান ও ইরাকের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিকভাবে মরদেহ গ্রহণ করেন। এরপর শোকানুষ্ঠান শুরু হয়।

নাজাফ শহরে জনসমুদ্রে রূপ নিয়েছে খামেনির শোকযাত্রায়। এতে অংশ নিয়েছে লাখো মানুষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণ দেখা গেছে।
মেহের নিউজ এজেন্সির তথ্য মতে, নাজাফের আল-কুফা সেতু থেকে শোভাযাত্রা শুরু হয়ে শিয়া মুসলমানদের অন্যতম পবিত্র স্থান ইমাম আলী (আ.) মাজারের দিকে অগ্রসর হয়। নাজাফ ও কারবালায় অনুষ্ঠিতব্য শোকানুষ্ঠানকে ঘিরে ইরাকি কর্তৃপক্ষ এবং স্বেচ্ছাসেবীরা ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছেন। ৮ জুলাই ইরাকের বাগদাদ, নাজাফ এবং কারবালায় ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে ৯ জুলাই ইমাম রেজা মাজারে দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রসঙ্গত, জেনেভা শহরে আলোচনা চলা অবস্থায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথবাহিনী। এতে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশকিছু শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। এর প্রতিবাদে ৩৯ দিনে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ১০০ দফা হামলা চালায় ইরান।
এরপর ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেন ট্রাম্প। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে সরাসরি বৈঠক করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়া ১৩ এপ্রিল হরমুজে নৌ-অবরোধ আরোপ করা হয়। এরপর কয়েক দফা যুদ্ধবিরতির সময় বাড়ান ট্রাম্প।
সর্বশেষ, ইরানের ১৪ দফা শর্তের ভিত্তিতে চলতি সপ্তাহে একটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে সমঝোতায় পৌছায় দুই পক্ষ। অ্যাক্সিওস এর সংবাদের তথ্য মতে, ১৪ দফার ভিত্তিতে দুই পক্ষ ৬০ দিনের জন্য আলোচনায় সম্মত হয়েছে এবং ইরানের ওপর হামলা তথা যুদ্ধ বন্ধের বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হয়েছে।
ইরানের লিগ্যাল মেডিসিন সংস্থার তথ্যমতে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সংঘাতে মোট ৩ হাজার ৩৭৫ জন নিহত হন, যার মধ্যে ২ হাজার ৮৭৫ জন পুরুষ এবং ৪৯৬ জন নারী। এছাড়া জরুরি চিকিৎসা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধে ১১৮ জন চিকিৎসাকর্মী আহত হন এবং ২৬ জন নিহত হন।
কেএম








