জীবনের কঠিন বাস্তবতায় পিষ্ট হয়ে কত রঙিন স্বপ্নই তো অযত্নে ধুলো মেখে পড়ে থাকে! পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে গিয়ে নিজের সাধ ও স্বপ্নগুলোকে বিসর্জন দেওয়া এক সাধারণ মানুষের সেই অব্যক্ত যন্ত্রণার গল্পই এবার জয় করে নিল হাজারো হৃদয়। প্রতিবেশী দেশ ভারতের তিনটি স্বনামধন্য চলচ্চিত্র উৎসবে রীতিমতো বাজিমাত করেছেন ঢাকার তেজগাঁও কলেজের একঝাঁক মেধাবী তরুণ শিক্ষার্থী। তাদের নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ধুলোমাখা অর্জন করেছে অভাবনীয় ২৮টি পুরস্কার।‘সাউথ ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল’, ‘আমাদের ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল’ এবং ‘১২তম ইন্ডি ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল’-এই তিন আসরে বিভিন্ন মর্যাদাপূর্ণ বিভাগে সেরার সম্মাননা ছিনিয়ে নিয়েছে ছবিটি। গল্পের কেন্দ্রে রয়েছেন এমন একজন পুরুষ, যিনি পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে নিতে গিয়ে বাধ্য হন নিজের স্বপ্নগুলোকে দূরে ঠেলে দিতে। প্রতিদিনের ৯টা-৫টার একঘেয়ে যান্ত্রিক জীবনে আটকা পড়ে, জীবিকার তাগিদে তার ভেতরের আসল মানুষটি কীভাবে দায়িত্বের ধুলোর আড়ালে চিরতরে হারিয়ে যায়-সেই হৃদয়স্পর্শী আখ্যানই অত্যন্ত সহজ-সরল অথচ গভীর সামাজিক বার্তায় পর্দায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।এই অসাধারণ চলচ্চিত্রটির পেছনের কারিগররা সবাই তেজগাঁও কলেজের ‘থিয়েটার অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ’ বিভাগের শিক্ষার্থী। সীমিত বাজেট আর নানা সীমাবদ্ধতার দেয়াল টপকে তারা প্রমাণ করেছেন-সদিচ্ছা, মেধা ও একাগ্রতা থাকলে কোনো বাধাই প্রতিভার পথে অন্তরায় হতে পারে না। নির্মাতা মাশরাফি সজিবের দুর্দান্ত রচনা ও পরিচালনায় এই চলচ্চিত্রে মূল চরিত্রে অসাধারণ অভিনয় করেছেন শেখ সায়েম হোসেন। তার পাশাপাশি মানিয়া সাদিয়া, মিনহাজ উদ্দিন নাকিবসহ সকল অভিনয় শিল্পির সাবলিল উপস্থিতি দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। এম. সাইফুর রহমানের চমৎকার চিত্রগ্রহণ এবং মো. জাহিদুল ইসলামের নিপুণ কালার গ্রেডিং, ভিএফএক্স ও আবহসঙ্গীত ছবিটিকে দিয়েছে অন্যরকম এক মাত্রা।তরুণ এই নির্মাতাদের এমন আকাশছোঁয়া সাফল্য বাংলাদেশের স্বাধীন চলচ্চিত্র অঙ্গনে এক নতুন আশার সঞ্চার করেছে। সাধারণ দর্শকদের জন্য আনন্দের খবর হলো, ‘ধুলোমাখা আয়না’ চলচ্চিত্রটি বর্তমানে ইউটিউবে উন্মুক্ত করা হয়েছে। এই জয়যাত্রা কেবল তেজগাঁও কলেজের একদল শিক্ষার্থীর নয়, বরং এটি দেশের সমস্ত স্বপ্নবাজ তরুণ নির্মাতাদের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত।








