ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের প্রায় দুই সপ্তাহ পার হলেও এখনো ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে পারেনি দেশটি। এখনো ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হচ্ছে একের পর এক লাশ। অনেকে জীবিত হয়ে ফিরলেও পরিবার-পরিজনদের হারিয়ে খুঁজছেন। তাদের জন্য প্রাণ কাঁদছে লিওনেল মেসির।
মেসি এখন বিশ্বকাপে কাঁপাচ্ছেন। মার্কিন মুলুকে একের পর এক গোল করে ভেঙেচূড়ে দিচ্ছেন রেকর্ড। তবে প্রযুক্তির উৎকর্ষতার যুগে কোনো কিছু তো নজর এড়ায় না। ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পের হতাহতের ঘটনা চোখে পড়ায় মন খারাপ মেসিরও। গতকাল মায়ামিতে কেপ ভার্দের বিপক্ষে শেষ বত্রিশের ম্যাচে ৩-২ গোলে রুদ্ধশ্বাস জয়ের পর আর্জেন্টিনা অধিনায়ক বলেন, ‘ভেনেজুয়েলার মানুষদের একটি বার্তা দিতে চাই। তাঁরা কী ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, সেটা আমরা জানি। তাঁরা বেশ কষ্টের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। যাঁরা তাঁদের প্রিয়জনদের খুঁজে পাচ্ছেন না এবং অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, তাঁদের পাশে আছি।’ এখান থেকে তাদের সবার জন্য অনেক অনেক শক্তি ও প্রার্থনা রইল।’
ভেনেজুয়েলায় গত ২৪ জুন কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে সাত মাত্রার বেশি জোরালো ভূমিকম্প হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী মারা গেছেন প্রায় আড়াই হাজার মানুষ। আহত ১০ হাজারেরও বেশি। এখনো অনেকে তাঁদের স্বজনদের খুঁজে বেড়াচ্ছেন। সামাজিক মাধ্যমে চোখ পড়তেই দেখা যাচ্ছে ভেনেজুয়েলার এমন মর্মান্তিক দৃশ্য। মেসিও তাই দিলেন আবেগঘন বার্তা।
কেপ ভার্দের বিপক্ষে গতকাল এক গোল করে মেসি সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডটা আরও একটু বাড়িয়ে নিলেন। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত তাঁর গোল ২০। যার মধ্যে অধিনায়ক হিসেবে করেছেন ১৯ গোল। এটাও ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থে’ অধিনায়ক হিসেবে সর্বোচ্চ গোল। আর মাঠে নেমেই বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ৩০ ম্যাচ খেলার রেকর্ড গড়েছেন আর্জেন্টাইন তারকা ফরোয়ার্ড।
গতকাল গোল করে মেসি ভেঙে দিয়েছেন পেলে, কিলিয়ান এমবাপ্পেরও রেকর্ড। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ১২ গোলে অবদান রেখেছেন মেসি। করেছেন ৬ গোল ও অ্যাসিস্ট করেছেন ৬ গোলে। পেলে, এমবাপ্পে—দুজনেরই বিশ্বকাপ নকআউটে ১১ গোলে অবদান রয়েছে। পরশু আটলান্টায় বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় শুরু হবে আর্জেন্টিনা-মিসর শেষ ষোলোর ম্যাচ।








