পরপর আঘাত হানা ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত ভেনেজুয়েলা। ৯২০ জনের প্রাণহানির খবর মিলেছে। আহতাবস্থায় আছে তিন হাজারেরও বেশি বাসিন্দা। খোঁজ মিলছে না ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষের। ধ্বংসস্তূপে প্রিয়জনদের খুঁজে বেড়াচ্ছেন স্বজনেরা। শক্তিশালী এই ভূমিকম্পে নিজের ছোট্ট মেয়েকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন এক মা। বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ওই নিহত নারী দেশটির ফুটবলার হেক্টর বেলোর স্ত্রী। ওই ফুটবলার এবং স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমটি।
স্ত্রী ‘আন্দ্রেয়া’-এর কথা তুলে ধরে ইনস্টাগ্রামে আবেগাপ্লুত হয়ে হেক্টর বেলো জানিয়েছেন, তাঁর স্ত্রী নিজের জীবন দিয়ে তাঁদের শিশুসন্তানকে বাঁচিয়েছেন।
বেলো আরও লিখেছেন, ‘আমার ভালোবাসা, আমাদের মেয়ে বড় হলে তাকে আমি জানাব, তুমি কীভাবে তাকে বাঁচিয়েছ। তাকে বলব, কীভাবে তুমি আমাদের মেয়ের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছ। শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত তুমি তাকে বুকে আগলে রেখেছিলে, তাকে জানাব, তুমি কতটা সাহসী নারী ছিলে।’
আরেক পোস্টে কারাকাসের অবস্থানের কথা উল্লেখ করে বেলো জানান, সেখানে তাঁর মেয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
গত শুক্রবার রাতে এক পোস্টে এই ফুটবলার লেখেন, ‘আমার মেয়ে ও তার আন্টি (খালা বা ফুফু) ভালো আছে। তবে এখনই তাদের হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হচ্ছে না। তারা হাসপাতালেই থাকছে। এই চরম কষ্টের সময়ে পাশে থাকার জন্য আপনাদের সবাইকে অনেক ধন্যবাদ।’
আলাদা একটি ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে বেলো লেখেন, ‘আমি তোমার মেয়েকে কীভাবে বুঝিয়ে বলব যে তাকে বাঁচাতে গিয়ে তুমি নিজের জীবন হারিয়েছ, আর আমি সেখানে কিছুই করতে পারিনি। কীভাবে বোঝাব আমি? আমাকে শক্তি দাও।’
ভেনেজুয়েলার স্থানীয় ফুটবল সংবাদ ও প্রচারসংস্থা কুমানা দে কাম্পেওনেসও আন্দ্রেয়ার মৃত্যুর খবর প্রকাশ করেছে। তারা লিখেছে, ‘আমরা অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, কুমানার বাসিন্দা ফুটবলার হেক্টর বেলো “কিকে”-এর সঙ্গিনীকে দেশটিতে আঘাত হানা ভূমিকম্পের পর ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।’
এতে আরও বলা হয়, ‘তারা যে ভবনে বসবাস করত, সেটি ধসে পড়লেও তাদের কন্যাসন্তানটি বেঁচে গেছে।’
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক স্প্যানিশ ভাষার সংবাদমাধ্যম ইউনিভিশনও বেলোর স্ত্রীর মৃত্যুর খবর প্রকাশ করেছে।
এদিকে ভেনেজুয়েলার ফুটবল ফেডারেশন (এফভিএফ) ও সংশ্লিষ্ট ক্লাবগুলো জানিয়েছে, ভূমিকম্পে নিহতদের মধ্যে দুই ফুটবলারও রয়েছেন।
কারাকাস ফুটবল ক্লাব জানিয়েছে, তাদের অনূর্ধ্ব-১৮ দলের খেলোয়াড় রাজান সিজা লা গুয়াইরায় নিজ বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিহত হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ক্লাবটি বলেছে, ‘তার হাসি, নিষ্ঠা ও সহমর্মিতা আমাদের সঙ্গী হয়ে থাকবে।’
কারাকাসভিত্তিক ক্লাব স্পোর্ত সান আগুস্তিন ইনস্টাগ্রামে লিখেছে, ভিক্টর পালাসিওস তাঁদের একাডেমিতে ‘অমলিন ছাপ’ রেখে গেছেন। তারা আরও লিখেছে, ‘তার প্রয়াণে আমরা যে কষ্ট পাচ্ছি, তা প্রকাশ করার মতো যথেষ্ট ভাষা আমাদের জানা নেই।’
এফভিএফও তাঁর মৃত্যুর খবর জানিয়ে বলেছে, তিনি মারিতিমো দে লা গুয়াইরার হয়ে খেলেছিলেন।
এদিকে সাবেক মিস ভেনেজুয়েলা জিসেল রেয়েস ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে জানান, লা গুয়াইরায় জোড়া ভূমিকম্পে তাঁর মা মারা গেছেন। তাঁর মা যে ভবনে থাকতেন সে ভবনটি সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে।
রেয়েস আরও জানান, মায়ের দেখাশোনা করা নার্সকে ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ভূমিকম্পের ধাক্কা ও আতঙ্কে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মায়ের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।






