সিকিম ,ভুটান ও পশ্চিমবঙ্গের উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টির জেরে বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। ভুটানের হড়পা বানে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে পশ্চিমবঙ্গের ডুয়ার্স।
সিকিমে প্রবল বৃষ্টিপাতের জেরে তিস্তার পানির স্তর বেড়েছে। ইতিমধ্যেই উত্তরের দুই পাহাড়ি নদী তিস্তা এবং জলঢাকার সংরক্ষিত ও অসংরক্ষিত দুই ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ সীমান্ত পর্যন্ত জারি করা হয়েছে হলুদ বিপদ সংকেত। রবিবার সকাল ৬টায় তিস্তার গজলডোবা ব্যারেজে প্রবল পানির চাপ বাড়ায় এক ঘন্টায় ছাড়া হয়েছে প্রায় এক লক্ষ কিউসেক পানি।
শুক্রবার রাত থেকে প্রবল বৃষ্টি শুরু হলে সিকিমে ফের ভূমিধস দেখা দেয়। ভুটানে বিভিন্ন নদী ও ঝোরা উথলে ওঠায় হড়পা বানের পরিস্থিতি দেখা দেয়। সিকিম ও ভুটানে একাধিক রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েড়। পাহাড়ে বৃষ্টির জেরে উত্তরের সমতলে বিভিন্ন নদীর পানির স্তর বাড়ছে। ভূমিধসের জেরে সিকিমের গুইয়া খোলসায় ইয়াংগাং-সিংতাম সড়ক অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। পশ্চিম সিকিমের লেগশিপের কাছে ভূমিধসে রাস্তা ভেসে যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে। লেগশিপের ওপরের দিকের একটি বাঁকে রাস্তার প্রায় অর্ধেক অংশ ধসে নেমেছে। পানির তোড়ে ভেঙে গিয়েছে বেইলি ব্রিজ। ফরে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে উত্তর সিকিমের জঙ্গু ভ্যালি।
ভূমিধসে লাভা-কোলাখাম রোড অবরুদ্ধ হয়েছে। শিলিগুড়ি-সিকিম সড়ক যোগাযোগের ‘লাইফ লাইন’ ১০ নম্বর জাতীয় সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হলেও তীব্র যানজটে নাকাল হতে হচ্ছে পর্যটকদের। অনেকেই ঘুরপথে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন।
এদিকে, শুক্রবার রাত থেকে একটানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত ভুটানের বিস্তীর্ণ এলাকা। দাওলা খোলা এলাকায় গেলেফু-ত্রংসা মহাসড়ক হড়পা বানের জলে তলিয়ে অবরুদ্ধ হয়েছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ওই রুটে যান চলাচল বন্ধ রেখেছে ভুটান প্রশাসন। ভুটানের প্রবল বৃষ্টির প্রভাব পড়ছে পশ্চিমবঙ্গের ডুয়ার্সে। হাতিনালার জল ঢুকে পড়েছে বানারহাটের বিস্তীর্ণ এলাকায়। রবিবার ভোর ৪টা নাগাদ হাতিনালার পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে বয়েছে। তবে ভোর ৫টার পর থেকে বানারহাটে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমতে শুরু করলে হাতিনালার পানির স্তরও ধীরে ধীরে নামতে থাকে। পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বানারহাট, বিন্নাগুড়ি-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় মাইকিং করে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হচ্ছে। সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতির মোকাবিলায় অস্থায়ী ত্রাণ শিবিরও খোলা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে রবিবার ও সোমবার উত্তরের ৫ জেলায় জারি লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়িতে চরম ভারী বর্ষণের সতর্কতা থাকছে। চরম ভারী বর্ষণের সতর্কতা আলিপুরদুয়ার, কোচবিহারেও। একদিনে ২০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টির আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। ফলে ধস নামতে পারে পাহাড়ের নানা প্রান্তেই। মঙ্গলবার পর্যন্ত হড়পা বানের আশঙ্কাও থাকছে। তবে আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে বুধবার থেকে ধীরে ধীরে বৃষ্টি কমবে উত্তরবঙ্গে।








