বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) নির্দেশনা জারির দুই মাস পেরিয়ে গেলেও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থী পরিবহনে ব্যবহৃত বাসগুলোতে এখনো জানালার সঙ্গে সমান্তরাল স্টেইনলেস স্টিলের রড বহাল রয়েছে। দুর্ঘটনার সময় দ্রুত বাস থেকে বের হতে এসব রড বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

গত ৩০ এপ্রিল বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দুর্ঘটনার সময় যাত্রীদের জীবন রক্ষার লক্ষ্যে এসি গণপরিবহনে দৃশ্যমান স্থানে ‘ইমার্জেন্সি এক্সিট’ লেখা এবং জানালার কাচ ভাঙার জন্য এক বা একাধিক উপযুক্ত উপকরণ রাখতে হবে। একইসঙ্গে নন-এসি গণপরিবহনের জানালায় পর্দা লাগানোর জন্য মাঝ বরাবর সমান্তরালভাবে সংযুক্ত স্টেইনলেস স্টিলের রড অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়। কারণ, এসব রডের কারণে দুর্ঘটনার সময় যাত্রীদের নিরাপদে বের হওয়া অনেক ক্ষেত্রে অসম্ভব হয়ে পড়ে।

বিআরটিএ জানায়, এসি ও নন-এসি গণপরিবহন সড়ক-মহাসড়কে চলাচল, ফেরিঘাট পারাপার কিংবা রেলক্রসিং অতিক্রমের সময় দুর্ঘটনায় পড়লে যাত্রীরা তাৎক্ষণিকভাবে দরজা-জানালা দিয়ে বের হতে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হন। ফলে প্রাণহানির ঝুঁকি বেড়ে যায়।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিবহনে ব্যবহৃত নন-এসি বাসগুলো নিয়মিত শহরের বিভিন্ন রেলক্রসিং অতিক্রম করে চলাচল করে। এমন পরিস্থিতিতে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে জানালার এসব রড শিক্ষার্থীদের দ্রুত বেরিয়ে আসার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে শিক্ষকদের পরিবহনে ব্যবহৃত এসি বাসগুলোতেও বিআরটিএর নির্দেশনা অনুযায়ী ‘ইমার্জেন্সি এক্সিট’ লেখা বা জানালার কাচ ভাঙার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম চোখে পড়েনি।

এ বিষয়ে পরিবহন পুলের পরিচালক ও সহকারী রেজিস্ট্রার মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, “আমরা এই বিজ্ঞপ্তির বিষয়ে এখনো কিছু জানি না। তবে আমরা খোঁজ নিয়ে দ্রুতই পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করব।”

আইন বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাইনুল ইসলাম বলেন, “এই রডগুলো বাসের স্থায়ী কাঠামোর অংশ নয়। জানালার সমান্তরাল এই রডগুলো আসলেই ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোনো দুর্ঘটনায় এই রডগুলো শিক্ষার্থীদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। আমরা চাই প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে এই রডগুলো সরিয়ে ফেলা হোক।”

প্রসঙ্গত, গত ২৫ মার্চ ২০২৬ দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে একটি যাত্রীবাহী বাস পানিতে পড়ে গেলে জানালার সমান্তরাল রডের কারণে অনেক যাত্রী দ্রুত বের হতে পারেননি। ওই দুর্ঘটনায় প্রায় ২৬ জনের মৃত্যু হয়। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিআরটিএ এ গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে।