ম্যাচের তখন ৫৯ মিনিট। ম্যাচে সমতা। জয়ের আশায় রোমেলু লুকাকুকে মাঠে নামালেন কোচ রুডি গার্সিয়া। ৭০ মিনিটে চোট পেয়ে চোখের জল মুছতে মুছতে মাঠ ছাড়েন বেলজিয়ামের নির্ভরতার প্রতীক গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। ৮৫ মিনিটে তুলে নেওয়া হলো অধিনায়ক কেভিন ডি ব্রুইনাকে। একে একে পর্দা নামতে শুরু করল বেলজিয়ামের ফুটবল ইতিহাসের এক অধ্যায়ের।

লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফাই স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেনের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নেয় বেলজিয়াম। ডি ব্রুইনা মাঠ ছাড়ার তিন মিনিট পর বদলি মিকেল মেরিনোর গোলে এগিয়ে যায় স্পেন। কোর্তোয়ার বদলি হিসাবে নামা ল্যামেন্সের একটি ভুলেই সর্বনাশ বেলজিয়ামের। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে শেষ দেশটির বহুল আলোচিত ‘গোল্ডেন জেনারেশনে’র শেষ বিশ্বকাপ অভিযাত্রা। একসময় ফিফা র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষে দীর্ঘ সময় অবস্থান করা এই প্রজন্মে ছিলেন থিবো কোর্তোয়া, কেভিন ডি ব্রুইনা, রোমেলু লুকাকু, অ্যাক্সেল ভিতসেল, এডেন হ্যাজার্ড ও ভিনসেন্ট কোম্পানির মতো বিশ্বমানের ফুটবলার। প্রতিভা, অভিজ্ঞতা ও সামর্থ্যরে বিচারে তারা ছিল বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দল। তবু বড় কোনো শিরোপা তাদের হাতে ওঠেনি। ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে বেলজিয়াম ছিল শিরোপার অন্যতম দাবিদার। দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে তারা পৌঁছে যায় সেমিফাইনালে। শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হওয়া ফ্রান্সের কাছে একমাত্র গোলে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয় তাদের। পরে তৃতীয় হওয়ার মধ্য দিয়ে শেষ হয় এই প্রজন্মের সর্বোচ্চ সাফল্য। ২০২১ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপেও তাদের যাত্রা থামে চ্যাম্পিয়ন হওয়া ইতালির কাছে হেরে।

বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর সমালোচনার জবাব দিয়েছেন কোর্তোয়া। তিনি বলেন, ‘যা করেছি, তা নিয়ে আমরা গর্বিত। অনেকেই বলেন, গোল্ডেন জেনারেশন কিছুই জিততে পারেনি। আমরা বেলজিয়ান। ইংল্যান্ড, স্পেন, ফ্রান্স নই। এক কোটি ২০ লাখেরও কম জনসংখ্যার দেশ হয়েও বড় টুর্নামেন্টগুলোতে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছি।’ কোর্তোয়া বলেন, ‘আমরা ২০১৮ বিশ্বকাপে সুন্দর ফুটবল খেলেছি। গর্ব করার মতো অনেক কিছুই আছে। সমালোচনা করা সহজ। বিশ্বের অনেক কিংবদন্তি ফুটবলারও বড় আন্তর্জাতিক শিরোপা জিততে পারেননি। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।’ শিরোপাখরার আক্ষেপ এই প্রজন্মকে সারা জীবন তাড়া করবে। কিন্তু নান্দনিক ফুটবল, অসাধারণ প্রতিভা এবং অদম্য লড়াকু মানসিকতা দিয়ে তারা বিশ্ব ফুটবলে নিজেদের আলাদা একটি জায়গা তৈরি করেছে। বেলজিয়ামের ‘সোনালি প্রজন্ম’ ফুটবল ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।