বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী বিদেশি ভাষা শিক্ষায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের আওতাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ইংরেজি, জাপানিজ, ইতালিয়ান, কোরিয়ান, আরবি ও মান্দারিনসহ বিভিন্ন ভাষা শেখানোর জন্য ল্যাঙ্গুয়েজ ল্যাব স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. মোক্তার আলীর এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান শিক্ষামন্ত্রী। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে বিদেশি ভাষা শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের আওতাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ইংরেজি, জাপানিজ, ইতালিয়ান, কোরিয়ান, আরবি ও মান্দারিনসহ বিভিন্ন ভাষা শেখানোর জন্য ল্যাঙ্গুয়েজ ল্যাব স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ভাষা দক্ষতা বিকাশে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগগুলো হলো:

১. এ বিভাগের আওতাধীন চলমান ‘স্ট্রেংদেনিং ভোকেশনাল এডুকেশন ইন বাংলাদেশ (এসভিইবি)’ শীর্ষক চলমান স্কিমের আওতায় ১২ হাজার ৬৬০ জন কারিগরি শিক্ষার্থীকে ইংরেজি ভাষার ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

‘স্কিলস টোয়েন্টি-ওয়ান – এমপাওয়ারিং সিটিজেন্স ফর ইনক্লুসিভ অ্যান্ড সাসটেইনেবল গ্রোথ (স্কিলস-২১)’ প্রকল্পের মাধ্যমে ৮০ জন শিক্ষার্থীর ইতালিয়ান ভাষা প্রশিক্ষণ সমাপ্ত হয়েছে। ‘অ্যাকসেলারেটিং অ্যান্ড স্ট্রেংদেনিং স্কিলস ফর ইকোনমিক ট্রান্সফরমেশন (অ্যাসেট)’ শীর্ষক চলমান প্রকল্পের আওতায় ১২০ জনকে জাপানিজ ভাষা, ৪৮ জনকে কোরিয়ান ভাষা এবং ২৪ জনকে আরবি ভাষার ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, এন্টারপ্রাইজ বেইজড ট্রেনিং (ইবিটি) প্রশিক্ষণের আওতায় তিন হাজার ৬০০ জনকে জাপানিজ ভাষা এংব সাত হাজার ৮৪৮ জনকে ইংরেজি ভাষার ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

২. কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের প্রস্তাবিত ‘স্কিল আপ বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ১০ লাখ যুবাকে বিদেশি ভাষার (ইংরেজি, আরবি, জাপানিজ ও কোরিয়ান) ওপর প্রশিক্ষণের সংস্থান রাখা হয়েছে।

৩. নিয়মিতভাবে কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো স্কিলস কম্পিটিশন, ইনোভেশন কার্যক্রম, বিতর্ক প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন এক্সট্রা-কারিকুলার এক্টিভিটিস পরিচালনা করা হয়ে থাকে যা শিক্ষার্থীদের গাণিতিক যুক্তি ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা এবং পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর মতো গুণাবলি বাড়াতে সহায়ক হয়।

এমওএস/এমএএইচ/