ফরিদগঞ্জে বিদ্যুতের অব্যাহত লোডশেডিংয়ে বিক্ষুব্ধ জনতা বিদ্যুতের সাবস্টেশন থেকে এক লাইনম্যানকে উঠিয়ে নিয়ে আসে। এ ঘটনায় মামলার পর অভিযুক্তসহ এলাকার লোকজনের ঘরের বিদ্যুৎ সংযোগ কাটতে গিয়ে পুনরায় অবরুদ্ধ হয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। এদিকে অযথা গ্রাহকদের হাতে অবরুদ্ধ ও লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় রোববার ফরিদগঞ্জ জোনাল অফিসের ডিজিএম সাইফুল ইসলামকে তার অফিসেই অবরুদ্ধ করে রাখে বিদ্যুৎ কর্মীরা। জানা গেছে, বিদ্যুতের অসহনীয় লোডশেডিং এবং তিন মাস পর বিদ্যুৎ বিলের কাগজ একবারে দেওয়ার কারণ জানতে চেয়ে গত মঙ্গলবার বিদ্যুতের লাইনম্যানকে ফোন দেন গোবিন্দপুর উত্তর-পূর্ব ধানুয়া গ্রামের বাসিন্দারা। এসময় তাদের সঙ্গে ওই লাইনম্যানের কথা কাটাকাটি হয়। পরে নয়াহাট এলাকার বিদ্যুতের সাবস্টেশন থেকে গ্রামের লোকজন ওই লাইনম্যানকে উঠিয়ে নিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখে। একপর্যায়ে রাজনৈতিক নেতা ও স্থানীয় গণমান্যরা তা মীমাংসা করে দিয়ে ওই লাইনম্যানকে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ ওই রাতেই মামলা করে। মামলার পর রোববার বিদ্যুৎ কর্র্মীরা ওইসব গ্রাহকসহ এলাকার লোকজনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে শুরু করেন। এতে স্থানীয় লোকজন বাধা দিলে উভয়পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন বিদ্যুৎ কর্মীদের অবরুদ্ধ করে রাখে। সংবাদ পেয়ে পুলিশ এবং স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শাহ আলম শেখ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে পুনরায় বিদ্যুতের সংযোগ চালু করলে অবরুদ্ধ বিদ্যুৎ কর্মীরা মুক্ত হন। ফরিদগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম সাইফুল ইসলাম জানান, বিদ্যুৎ গ্রাহকের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার পর আইনানুযায়ী তাদের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার বিধান রয়েছে। এদিকে এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিসে কর্মীরা সাইফুল ইসলামকে অবরুদ্ধ করে রাখে। তাদের অভিযোগ, গ্রাহকদের সঙ্গে সৃষ্ট ঘটনার জন্য ডিজিএম এককভাবে দায়ী। তার স্বেচ্ছাচারিতার কারণে লোকজন আমাদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ আলম শেখ জানান, গত কয়েক মাসের বিদ্যুৎ বিলের কাগজ এই এলাকার লোকজন পায়নি। চলতি মাসে একসঙ্গে বিদ্যুৎ বিভাগ জরিমানাসহ তিন মাসের বিল পাঠায়। তাছাড়া ভয়াবহ লোডশেডিং তো রয়েছেই। এসব কারণে দুটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। আমরা উভয়পক্ষকে নিয়ে বসেছি। পুলিশ সার্বিক সহযোগিতা করছে।