তীব্র দাবদাহে পুড়ছে দেশ। এর মধ্যেই ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে নাভিশ্বাস উঠেছে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের। যুগান্তর প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর : ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় অধিকাংশ গ্রামগুলোতে দিনে ৮-১০ বার লোডশেডিং হচ্ছে। একবার বিদ্যুৎ গেলে যেন আর আসতে চায় না। এতে সেবাগ্রহীতাদের মাঝে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি গত একমাস ধরে লোডশেডিংয়ে কারণে ছেলেমেয়েদের লেখাপড়াসহ দৈনন্দিন কাজে ব্যাপক সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এদিকে বিদ্যুতের সঙ্গে গ্যাসের সংকটও দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে রয়েছেন কৃষকরা। বিদ্যুৎ না থাকায় তারা ফসলের জমিতে সেচ দিতে পারছেন না। উপজেলার ভিটিবাড়ী, দাওগাঁও, বড়গ্রাম, গাবতলী বাজার, রসুলপুর, বনগ্রাম, রামভদ্রপুর, খেরুয়াজানী দুল্লা, চেচুয়া, বিন্নাকুড়ি, বড়গ্রামে দিন-রাত মিলিয়ে অন্তত ১০-১২ বার বিদ্যুৎ বিভ্রাটের শিকার হচ্ছে উপজেলাবাসী। তবে গত এক সপ্তাহে বিদ্যুতের এ সমস্যা তীব্র আকার ধারণ করেছে বলে জানান তারা। জানা গেছে, উপজেলার কুমারগাতা, মনকোনা, কাশিমপুর, বাসাটি ইউনিয়নে প্রতিদিন গড়ে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। এছাড়া সংস্কারের নামে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখায় ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। কনফেকশনারি ব্যবসায়ী লিজন রহমান বলেন, পৌর শহরেও ঠিকমতো বিদ্যুৎ থাকছে না। লোডশেডিংয়ের কারণে দোকানের মালামাল নষ্ট হওয়ার পথে। বড়গ্রামের বাসিন্দা লাইলা খাতুন জানান, বিদ্যুৎ এত অল্প সময় থাকে যে, মনে হয় আমাদের এলাকায় বিদ্যুৎ যায় না, মাঝে মধ্যে আসে। ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর জিএম শহীদ উদ্দিন জানান, জ্বালানি সরবরাহ কম থাকায় বিদ্যুৎ প্ল্যান্টগুলোতে উৎপাদন কম হচ্ছে, আবার কিছু প্ল্যান্ট বন্ধ রয়েছে। শুধু মুক্তাগাছায় বিদ্যুতের চাহিদা ৪০-৪৫ মেগাওয়াটের বিপরীতে ২২-২৫ মেগাওয়াট সরবরাহ করতে পারছি। গরম কমে গেলে বা বৃষ্টি হলে এমন পরিস্থিতি সহনশীল পর্যায়ে চলে আসবে। ময়মনসিংহের ভালুকায় চাহিদার তুলনায় অর্ধেক বিদ্যুৎ সরবরাহে বেড়েছে লোডশেডিং। এতে জনজীবন বিপর্যস্তের পাশাপাশি শিল্প উৎপাদনে যোগ হচ্ছে বাড়তি খরচ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে টিএম টেক্সটাইলের এক কর্মকর্তা জানান, চার দিন ধরে লোডশেডিং আগের চেয়ে দ্বিগুণ বেড়েছে। বিকল্প ব্যবস্থায় কারখানার উৎপাদন ধরে রাখতে খরচ বাড়ছে। জানা যায়, ভালুকা পৌর সদরসহ রাতের প্রায় তিন ভাগের দুই ভাগ সময় বিদ্যুৎ থাকে না বলে জানিয়েছেন গ্রাহকরা। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ভালুকা কার্যালয় থেকে জানা গেছে, তাদের মোট গ্রাহক প্রায় ৩৮ হাজার। চাহিদা প্রায় ২০ মেগাওয়াট হলেও বর্তমানে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১২ থেকে ১৩ মেগাওয়াট। ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ জানায়, ভালুকা ও গফরগাঁওয়ে চাহিদা প্রায় ১৬০ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ অর্ধেকেরও কম। ফলে লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। মূলত জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। নরসিংদীর রায়পুরায় গত কয়েক দিন ধরে তীব্র গরমের মধ্যে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে সব শ্রেণিপেশার মানুষ। দিনের পাশাপাশি রাতেও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন ২ জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। এতে পরীক্ষা সামনে রেখে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের। এছাড়া ব্যবসা-বাণিজ্য, স্বাস্থ্যসেবা ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। জানা যায়, প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎবিহীন থাকতে হচ্ছে উপজেলার প্রায় পাঁচ লাখ মানুষকে। রায়পুরা সরকারি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী সোহান সরকার বলেন, সকাল, বিকাল কিংবা রাত যখনই পড়তে বসি, তখনই বিদ্যুৎ চলে যায়। কয়েক দিন পর পরীক্ষা কিন্তু এভাবে পড়াশোনা করা খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও। উপজেলার আল-মামুন কম্পিউটারের পরিচালক আয়মান জাবেদ বলেন, আমাদের ব্যবসা সম্পূর্ণ বিদ্যুৎনির্ভর। ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ায় ডিজিটাল যন্ত্রপাতির ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ছে। কাজেরও ব্যাঘাত ঘটছে। নরসিংদী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার শওকত আলম বলেন, চাহিদার তুলনায় আমরা অনেক কম বিদ্যুৎ পাচ্ছি। আমাদের দৈনিক প্রয়োজন প্রায় ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কিন্তু সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে তার অর্ধেক। তাই বাধ্য হয়ে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।