রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) পরিত্যক্ত কূপে পড়ে এবার এক মহিষের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার বিকালে দেওপাড়া ইউনিয়নের শাহানাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন মহিষের মালিক বিকাশ খা। মহিষের এ দশা দেখে তিনি সেখানেই অচেতন হয়ে পড়েন। পরে গ্রামের লোকজন তার মাথায় পানি ঢালেন। মহিষ হারিয়ে বিকাশ দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

গোদাগাড়ী ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মহিষটি উদ্ধারের চেষ্টা করে। প্রায় ৮০ ফুট গভীরে থাকায় এটি উদ্ধার করতে পারেননি তারা। অভিযান স্থগিত করে রাত ৮টার দিকে ফিরে যায় ফায়ার সার্ভিসের দল।

গোদাগাড়ী ফায়ার স্টেশনের ইনচার্জ রফিকুজ্জামান জানান, কূপটি পানি দিয়ে ভরে দিলে মহিষের মৃতদেহ ভেসে উঠত। কিন্তু মহিষের মালিক জানান, মৃত মহিষ উদ্ধার করে লাভ নেই। বিএমডিএর গোদাগাড়ী জোন-২ এর সহকারী প্রকৌশলী হাবিবুল আহসান বলেন, গভীর নলকূপ স্থাপনের কথা থাকলেও সেটি হয়নি। তাই কূপটি বন্ধ করার কথা ছিল। কেন বন্ধ হয়নি তা বলতে পারছি না।

মহিষের মালিক বিকাশ জানান, দেড় বছর আগে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকায় তিনি দুটি মহিষ কিনেছিলেন। এজন্য দেড় লাখ টাকা কিস্তি নিয়েছিলেন। এই মহিষ দিয়ে তিনি হালচাষ করে সংসার চালান আর কিস্তি দেন। কিস্তি এখনো শেষ হয়নি।

জানা যায়, গত বছরের নভেম্বর-ডিসেম্বরে কূপটি খনন হয়েছিল আব্দুর রহিম নামের এক ব্যক্তির জমিতে। মালিগাছা গ্রামের বাশির উদ্দিন বাবুসহ কয়েকজন এখানে গভীর নলকূপ বসানোর চেষ্টা করেছিলেন। পরে নলকূপ বসানো না হলেও তারা বোরহোলটি বন্ধ করেননি।

যোগাযোগ করা হলে বাশির বলেন, খননের পর সেখানে পানির স্তরও পাওয়া যায়। তখন বিএমডিএ তাদের কাগজপত্র জমা দিতে বলে। জমির মালিক কাগজপত্র নিয়ে যাননি। তাই নলকূপটি স্থাপন করা হয়নি।

গত বছরের ডিসেম্বরে রাজশাহীর তানোর উপজেলায় বিএমডিএর এমন একটি পরিত্যক্ত বোরহোলে পড়ে মারা যায় দুবছরের শিশু সাজিদ। এ ঘটনার পর তৎকালীন বিভাগীয় কমিশনার এ ধরনের সব বোরহোল বন্ধের নির্দেশ দিয়ে ৮ জেলার জেলা প্রশাসকদের চিঠি দেন। তখন কিছু বোরহোল বন্ধ হলেও শাহানাপাড়া গ্রামের এই বোরহোলটি বন্ধ হয়নি।