মিজেলস ভাইরাসবাহিত রোগ হামে শিশুমৃত্যু যেন স্বাভাবিক নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে দেশে আরও চার শিশু মারা গেছে। এ সময়ে হাম ও হামের উপসর্গে সারা দেশে ১ হাজার ৫৭ শিশু আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে হাম শনাক্ত হয়েছে ১১৬ শিশুর। হামের উপসর্গে মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে ঢাকায় দুই, সিলেটে এক ও ময়মনসিংহে একজন। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে ৭১২ শিশু মারা গেছে। রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে গত ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ৯৯ হাজার ২০৭ শিশু। আর হাম শনাক্ত হয়েছে ১১ হাজার ৭১০ শিশুর। এ পর্যন্ত ১ লাখ ১০ হাজার ৯১৭ শিশু হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে। এ সময় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮২ হাজার ৮৪৪ শিশু। সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ৭৯ হাজার ১৫২ শিশু বাড়ি ফিরেছে। ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা ৯৪১ এবং উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮৮৯ এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৮৬৫ শিশু।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের মতো সংক্রামক ব্যাধি ছড়িয়ে পড়লে জনস্বাস্থ্যের সামাজিক পদক্ষেপ যেমন সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, হাঁচি বা কাশির মতো রোগ ছড়ানোর প্রক্রিয়া রোধে জনসচেতনতা তৈরি, হাসপাতালে প্রয়োজনীয় আলাদা ব্যবস্থাপনার দরকার হয়।

কিন্তু এবার শুরু থেকেই হামের সংক্রমণ রোধে এসব তৎপরতার অভাব ছিল। ভাইরাসটি কোথা থেকে ছড়াচ্ছে। প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় আরও কী কী উদ্যোগ দরকার সে বিষয়ে তেমন তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। ফলে দিনদিন আক্রান্ত ও মৃত্যুর মিছিল বাড়ছেই।