কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর হত্যাকাণ্ডের চারদিন পর মামলা হয়েছে। নিহতের স্ত্রী তসলিমা আক্তার চৌধুরী বাদী হয়ে দায়ের করা মামলায় তিনজনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।

শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার হোসেন। এর আগে, শুক্রবার (১৭ জুলাই) দিনগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে মিঠামইন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন নিহতের স্ত্রী।

জানা গেছে, নাম উল্লেখ করা তিন আসামিকেই ঘটনার রাতেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের পরিকল্পনাকারী ও অন্য জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ওসি মনোয়ার হোসেন বলেন, মামলার তিন আসামিকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, নাম উল্লেখ করা আসামিরা হলেন- বরগুনার বামনা উপজেলার চাকাতাসুনিয়া গ্রামের মৃত সুলতান মীরনের ছেলে মো. হেলাল (২৪), লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার সুধামপুর গ্রামের নূর হোসেনের ছেলে মহিন উদ্দিন (৩২) এবং একই উপজেলার মধ্যপাড়া গ্রামের রহমত উল্লাহ খোকনের ছেলে মো. শাহিন আলম ওরফে শাকিল (২৭)। এছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, হামলার পর স্থানীয় লোকজন মো. হেলালকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরে অভিযান চালিয়ে একই রাতে মহিন উদ্দিন ও শাহিন আলম ওরফে শাকিলকে গ্রেফতার করা হয়। তিনজনই বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, গত বুধবার রাত পৌনে ১০টার দিকে মিঠামইন উপজেলা সদরের বেড়িবাঁধ এলাকায় নিজ বাসভবনে প্রবেশের সময় আগে থেকে ওত পেতে থাকা একদল সশস্ত্র ব্যক্তি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা চাপাতি, কিরিচ, কুড়াল ও রামদাসহ বিভিন্ন ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এর আগে, শুক্রবার জুমার নামাজের পর উপজেলা সদরের হেলিপ্যাড মাঠে জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি মো. শরীফুল আলম, কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুর রহমানসহ বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী ও স্থানীয় মানুষ অংশ নেন। পরে কাঠবাজার-সংলগ্ন পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

এসকে রাসেল/কেএইচকে/এএসএম