সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের কড়া নজরদারির মধ্যেও পুশইনের অপচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। এরই অংশ হিসাবে তারা শনিবার পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া সীমান্ত দিয়ে ১৩ জন, লালমনিরহাটের পাটগ্রাম দিয়ে চারজন, জয়পুরহাট সদর দিয়ে তিনজন ও দিনাজপুর দিয়ে চারজনকে বাংলাদেশে পুশইন করার চেষ্টা চালায়। তবে বিজিবি সদস্যরা তাদের এসব অপচেষ্টা সফলতার সঙ্গে ব্যর্থ করে দিয়েছে। পরে বাধা পেয়ে পিছু হটেছে বিএসএফ। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ায় সীমান্তে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন পুশইনের শিকার এসব নারী-পুরুষ। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

পঞ্চগড় : মাঝিপাড়া সীমান্তের বিপরীতে ভারতের নয়াবাড়ি বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা ভোরে শিশুসহ মোট ১৩ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে। এসময় বিজিবির টহল দল সেখান পৌঁছে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে। এরপর বিএসএফ তাদের ভারতের ভেতরে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। পঞ্চগড়-১৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আব্দুল্ল্যাহ মোহাম্মদ কায়েস বলেন, পুশইনের জন্য নিয়ে আসা ১৩ জন ভারতের সীমান্তের ভেতরেই ছিল। তাদের বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করলে বিজিবির সদস্যরা তা প্রতিহত করেন।

পাটগ্রাম (লালমনিরহাট) : উপজেলার পাটগ্রাম সদর ইউনিয়নের ধবলসূতি গ্রামের সীমান্ত দিয়ে ভারতের ৯৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের খরখড়িয়া বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা তিন নারীকে ভোরে পুশইনের চেষ্টা চালায়। বিজিবির টহল দল বিষয়টি টের পেয়ে বিএসএফকে সতর্কবার্তা ও টহল দলের সক্রিয় অবস্থানের কথা জানান। বিজিবির বাধার মুখে পড়ে বিএসএফ পিছু হটে এবং ওই তিন নারীকে নিয়ে ভারতের ১৫০ গজ ভেতরে চলে যায়।

দিনাজপুর : সদর উপজেলার দাইনুর সীমান্ত দিয়ে ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে এক নারীসহ চারজনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। বিজিবির বাধায় তাদের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় ওই চার ব্যক্তি এখন সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন। বিজিবির ২৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ আরিফ-উজ জামান বলেন, তাদের শূন্যরেখায় আটকে দেওয়া হয়েছে।

জয়পুরহাট : সদর উপজেলার পশ্চিম রামকৃষ্ণপুর সীমান্ত দিয়ে ভোর ৪টার দিকে বিএসএফ সদস্যরা ৩ জনকে পুশইনের চেষ্টা করে। এই খবর গ্রামবাসীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে লাঠিসোঁটা হাতে সীমান্তে জড়ো হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং বিষয়টি বিজিবিকে অবগত করে। খবর পেয়ে বিজিবির টহল দল দ্রুত সেখানে পৌঁছে সীমান্তে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে। গ্রামবাসী ও বিজিবির যৌথ প্রতিরোধের মুখে বিএসএফ পিছু হটতে বাধ্য হয়। এরপর পুশইনের শিকার ৩ জনকে শূন্যরেখায় নিজেদের হেফাজতে নেয় বিজিবি। বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, পুশইনের জেরে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে দুপুরে ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক পর্যায়ের পতাকা বৈঠক হলেও কোনো সমঝোতা ছাড়াই তা শেষ হয়। ওই ৩ জনকে বিএসএফ ফেরত নিতে অস্বীকার করায় বিকাল ৫টা পর্যন্ত তারা শূন্য রেখাতেই অবস্থান করছিলেন।