ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অকশন ডিপার্টমেন্টের ম্যানেজার পরিচয় দিয়ে অকশনে (নিলাম) কম মূল্যে আইফোনসহ দামি মোবাইল, ল্যাপটপ ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক্স পণ্য সরবরাহের প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ৩১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় প্রতারক চক্রের মূলহোতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)। গ্রেফতার ব্যক্তির নাম মো. ইব্রাহিম হোসেন ওরফে রবিন শিকদার (২৮)।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এ তথ্য জানান। তিনি জানান, সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) সাইবার ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশনসের একটি চৌকস আভিযানিক দল গতকাল সোমবার (৬ জুলাই) মধ্যরাতে উত্তর বাড্ডার কমিশনার গলি এলাকা থেকে ইব্রাহিমকে গ্রেফতার করে।

আরও পড়ুন

ইমাম-মুয়াজ্জিন / সম্মানী দেওয়ার প্রলোভনে প্রতারণা, আর্থিক লেনদেনে সাবধান করল ইফা

জসীম উদ্দিন জানান, ভুক্তভোগী বাদী ঢাকার একটি বেসরকারি জীবনবীমা প্রতিষ্ঠানে চাকরিরত। প্রতারক চক্রের সদস্যরা প্রথমে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে বাদীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। চক্রটি নিজেদের বিমানবন্দরের অকশন ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তা এবং পরবর্তীতে অপারেশন ম্যানেজার হিসেবে পরিচয় দিয়ে ভুক্তভোগীর আস্থা অর্জন করে। কথোপকথনের একপর্যায়ে তারা জানায়, বিমানবন্দরের অকশনে জব্দকৃত বা অব্যবহৃত আইফোন, স্যামসাং মোবাইল, ল্যাপটপ এবং বিভিন্ন মূল্যবান ইলেকট্রনিক্স পণ্য বাজারমূল্যের তুলনায় অত্যন্ত কম দামে বিক্রি করা হবে। পাশাপাশি তারা দাবি করে, তাদের অধীনে কর্মরত প্রায় ৫০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী জীবনবীমার পলিসি গ্রহণে আগ্রহী, যার মাধ্যমে ভুক্তভোগীর সঙ্গে একটি বিশ্বাসযোগ্য সম্পর্ক তৈরি করা হয়।

পরবর্তীতে প্রতারক চক্রটি ভুক্তভোগীকে ইলেকট্রনিক্স পণ্যের ব্যবসায় যুক্ত হওয়ার প্রস্তাব দেয় এবং ব্যবসার বৈধতা প্রমাণের জন্য বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের নামে জাল অনুমোদনপত্র, কথিত সরকারি নথি, সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশের (সিএএবি) ভুয়া ডকুমেন্ট, পুলিশ ক্লিয়ারেন্সসহ বিভিন্ন জাল কাগজপত্র সরবরাহ করে। এসব নথি দেখে ভুক্তভোগী প্রতারকদের কথায় বিশ্বাস স্থাপন করে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হয়। এরপর ১১০টি আইফোন, ৭০টি স্যামসাং মোবাইল এবং ৫৪৩টি ল্যাপটপ সরবরাহের কথা বলে বিভিন্ন ধাপে দুটি ব্যাংক হিসাব ও ৩টি এমএফএস অ্যাকাউন্টে মোট প্রায় ৩০ লাখ ৮৭ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারক চক্রটি। টাকা গ্রহণের পর তারা কোনো পণ্য সরবরাহ না করে বিভিন্ন অজুহাত দিতে থাকে এবং একপর্যায়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। তখন ভুক্তভোগী বুঝতে পারেন যে তিনি একটি সু-পরিকল্পিত প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

আরও পড়ুন

অনলাইনে সাধারণ মানুষকে প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করতেন তারা

ঘটনার পর গত ২২ জুন ভুক্তভোগী পল্টন থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করেন। পরবর্তীতে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) প্রতারণার সঙ্গে অভিযুক্ত ইব্রাহিম হোসেন ওরফে রবিন সিকদারের সম্পৃক্ততার সত্যতা পায়। গ্রেফতারের সময় তার কাছ থেকে একটি আইফোনসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৫টি মোবাইল ফোন ও ৭টি সিম জব্দ করা হয়।

প্রাথমিক তদন্তের তথ্য জানিয়ে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান বলেন, সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের নাম, পরিচয় এবং জাল নথিপত্র ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস অর্জন করতো। এরপর বিমানবন্দরের অকশনে স্বল্পমূল্যে মূল্যবান ইলেকট্রনিক্স পণ্য বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিত। তদন্তে চক্রটির অন্যান্য সদস্য, ব্যবহৃত ব্যাংক হিসাব, মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট এবং প্রতারণার নেটওয়ার্ক সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের লক্ষ্যে সিআইডির অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন

৫ চীনা নাগরিকসহ প্রতারক চক্রের ৮ সদস্য গ্রেফতার

গ্রেফতার ইব্রাহিম হোসেন ওরফে রবিন সিকদার ডিএমপির ভাটারা থানার একটি ডিজিটাল প্রতারণা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি, মামলাটি আদালতে বিচারাধীন। তার বিরুদ্ধে আরও মামলা বা অভিযোগ রয়েছে কি না তা যাচাই করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য জানিয়ে জসীম উদ্দিন বলেন, গ্রেফতারকৃত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রতারণামূলক কার্যক্রমে জড়িত থাকার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। মামলাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের লক্ষ্যে সিআইডির অভিযান চলমান রয়েছে।

গ্রেফতার ব্যক্তিকে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলমান বলে জানান তিনি।

কেআর/এমএমকে