পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের এবং আদালতে হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালত নিজেই মামলার বাদী হচ্ছেন।

নির্দেশ অনুযায়ী, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় কোতোয়ালী থানায় মামলা দায়ের করা হবে।

আদালতের নথি অনুযায়ী, শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের ৮(১), ৮(২), ৮(৩), ৮(৪) ও ৮(৫) ধারায় অভিযোগ আনেন। পরে সেটি উত্তরা পশ্চিম থানার মামলা নং-১৪(১০)২৫ হিসেবে এফআইআর আকারে রুজু হয়।

পরে মামলাটির তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন

‘২ মাসের বেশি রিলেশনে থাকি না, টেস্ট চেঞ্জ করতে ভালো লাগে’

ওই মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত, ফরেনসিক তথ্য ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচার বা সংশ্লিষ্ট অপরাধের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ কারণে তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

তদন্ত প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ওমর ফারুক এর আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতে এবং তাকে হয়রানির উদ্দেশে শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন লিংক ব্যবহার করে পর্নোগ্রাফি প্রচারের অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

এ কারণে তদন্ত কর্মকর্তা শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও সুপারিশ করেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুক চৌধুরীকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেন। একই সঙ্গে শিমুর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়।

সর্বশেষ বুধবার (১৬ জুলাই) দেওয়া আদেশে আদালত বলেন, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দাখিল করা হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করার নির্দেশ দেন।

আরও পড়ুন

সোনা চোরাচালানের প্রমাণ মিলেছে, কেবিন ক্রু রুদাবাকে পদাবনতি

মামলার পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নথিপত্র ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের সিআর আমলি আদালতে (কোতোয়ালী) পাঠানো হয়েছে।

পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে দুপক্ষের সম্পর্কের বিষয়েও তথ্য উঠে এসেছে। সেখানে বলা হয়, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকের মাধ্যমে তাদের পরিচয় হয় এবং পরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেওয়ার অভিযোগে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন। তদন্তে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে, ওই অভিযোগের পরিণতি এড়াতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে পাল্টা মামলা করেছিলেন।

আদালতের নথি অনুযায়ী, গত বছরের ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, হানি ট্র্যাপ এবং ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

আরও পড়ুন

বিমানের ফ্লাইটে ফের যৌন হয়রানির অভিযোগ, আতঙ্কে নারী কেবিন ক্রুরা

ওই মামলায় দাবি করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে টাকা নেন শিমু।

অভিযোগ অনুযায়ী, জন্মদিনে প্রায় দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেওয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করেন কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমু। 

এমডিএএ/এমকেআর