আর্জেন্টিনার জার্সিতে ২০০টিরও বেশি ম্যাচ খেলেছেন লিওনেল মেসি। তবে এত দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারেও কখনো ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হননি তিনি। সেই অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে এবারের বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে। আটলান্টায় বুধবার বাংলাদেশ সময় দিনগত রাত ১টায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা।
বিশ্বকাপজয়ী দেশগুলোর মধ্যে ইংল্যান্ডই একমাত্র দল, যার বিপক্ষে কখনো খেলেননি মেসি। সবশেষ ২০০৫ সালে একটি প্রীতি ম্যাচে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা। সে সময় মেসি বার্সেলোনায় নিজের পথচলা শুরু করছিলেন মাত্র এবং তখনও জাতীয় দলে নিয়মিত সুযোগ পাননি।
সেমিফাইনালের ম্যাচটি নিয়ে মেসি বলেন, ‘সত্যি বলতে, এটি বিশেষ একটি ম্যাচ হতে যাচ্ছে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এটাই আমার প্রথম ম্যাচ। ইংল্যান্ড ছাড়া প্রায় সব বড় দলের বিপক্ষেই খেলেছি। তারা দারুণ একটি দল, সত্যিকারের পরাশক্তি। এমন দলের বিপক্ষে খেলতে সব সময়ই ভালো লাগে।’
আরও পড়ুন
মেসির রেকর্ডযাত্রা অব্যাহত, বিশ্বকাপে গড়লেন আরও দুই কীর্তি
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এটিকে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল হিসেবেই দেখছি। পরাশক্তি একটি দলের বিপক্ষে খেলতে যাচ্ছি। তাই আবারও নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নেবো।’
১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হাত দিয়ে করা’ গোলের কথাও স্মরণ করেন মেসি।
তিনি বলেন, ‘আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ডের সেই ম্যাচ নিয়ে আমি যা জানি, সবই ভিডিও ও ছবির মাধ্যমে। আর্জেন্টিনার মানুষ এখনও সেই ম্যাচ বারবার দেখে এবং স্মরণ করে। তবে আমি মনে করি, আমাদের এই দল প্রতিপক্ষ যেই হোক না কেন, নিজেদের খেলাটাই খেলতে অভ্যস্ত।’
চলতি বিশ্বকাপে দারুণ ছন্দে রয়েছেন মেসি। এখন পর্যন্ত তিনি আট গোল করার পাশাপাশি দুটি গোলে সহায়তা করেছেন। অন্যদিকে সেমিফাইনালে তার প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন ও জুদ বেলিংহ্যাম দুজনেরই রয়েছে ছয় গোল ও একটি করে গোলে সহায়তা।
আরও পড়ুন
রক্তাক্ত মেসি বরং বেশি শক্তিশালী
শুধু চলতি বিশ্বকাপের পারফরম্যান্সই নয়, ইংলিশ ক্লাবগুলোর বিপক্ষেও মেসির পরিসংখ্যান তার পক্ষেই কথা বলে।
যদিও ইংল্যান্ড জাতীয় দলের বিপক্ষে কখনো খেলেননি, ক্লাব ফুটবলে ইংল্যান্ডের বিভিন্ন দলের বিপক্ষে তার রেকর্ড ঈর্ষণীয়। ৩৬ ম্যাচে তিনি করেছেন ২৭ গোল এবং ছয়টি গোলে সহায়তা করেছেন।
বিশেষ করে আর্সেনাল ও ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে ছিলেন সবচেয়ে সফল। এই দুই দলের বিপক্ষেই তার মোট ১৬ গোল ও তিনটি গোলে সহায়তা রয়েছে।
আরএএইচইউএল/আইএইচএস/কেএসআর








