২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ জয় নিয়ে চাঞ্চল্যকর ভবিষ্যদ্বাণী করে ফের আলোচনায় ঘানার বিতর্কিত তান্ত্রিক নানা কোয়াকু বোনসাম। তিনি দাবি করেছেন যে, এবারের বিশ্বকাপ ট্রফিটি উঠতে যাচ্ছে পর্তুগালের হাতে। খবর: ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ডাব্লিউআইওএন-এর। 

বোনমাসের মতে, ফাইনালের লড়াইয়ে ফুটবলাররা নামার আগেই ‘আধ্যাত্মিক জগতে’ এই টুর্নামেন্টের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে গেছে। বোনসাম বলেন, “এবারের বিশ্বকাপটি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এবং পর্তুগালের, তারাই জিতবে। পর্তুগাল ইতোমধ্যে আধ্যাত্মিক জগতে এই টুর্নামেন্ট জিতে নিয়েছে।”

রোনালদোকে পুরোপুরি নিশ্চিন্ত থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি জানান, ফুটবল বিধাতা এবার সিআরসেভেনের জন্য ‘সেই মাহেন্দ্রক্ষণ’ নির্ধারণ করে রেখেছেন।

তবে শুধু পর্তুগালকে জেতানোই নয়, বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে নিয়েও নেতিবাচক ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন তিনি। তার দাবি, আর্জেন্টিনা এবার নকআউট পর্বে কেপ-ভার্দের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেবে।

চলতি বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বে ইংল্যান্ড বনাম ঘানা ম্যাচের আগে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইনকে নিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন বোনসাম। কেইনকে থামাতে তিনি ‘কালা জাদু’ বা বিশেষ অভিশাপ দেওয়ার দাবি করেছিলেন। ব্রিটিশ গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, “আমি আগে কী করতে পারি তা দেখিয়েছি। কেইনকে থামাতে আমার কী করতে হবে তা ভালো করেই জানা আছে।”

কাকতালীয়ভাবে, ঘানার বিরুদ্ধে সেই ম্যাচটিতে ইংল্যান্ড গোলশূন্য (০-০) ড্র করে এবং কেইন গোল করতে ব্যর্থ হন। এর ফলে ভক্তদের মাঝে বোনসামের আধ্যাত্মিক ক্ষমতা নিয়ে গুঞ্জন আরো ঘনীভূত হয়।

তবে ম্যাচ শেষে সুর বদলান এই ঘানাইয়ান তান্ত্রিক। কেইনের প্রতি দেওয়া কথিত সেই ‘অভিশাপ’ তুলে নিয়ে তিনি বলেন, “হ্যারি কেইন আমার শত্রু নন। আমার একটি সন্তান হতে যাচ্ছে, যার নাম আমি হ্যারি কেইনের নামানুসারে রাখব।” পরবর্তী ম্যাচগুলোতে যেন কেইন গোল করতে পারেন, সেজন্য তাকে আধ্যাত্মিক ‘বন্ধন’ থেকে মুক্ত করে দেওয়ার ঘোষণাও দেন তিনি।

কে এই নানা কোয়াকু বোনসাম?

ঘানার রাজধানী আক্রায় তিনটি উপাসনালয় বা আস্তানা পরিচালনা করা নানা কোয়াকু বোনসাম দেশটির অন্যতম বিতর্কিত ও আলোচিত ব্যক্তিত্ব। নিজেকে আফ্রিকার ঐতিহ্যবাহী পুরোহিত ও কবিরাজ দাবি করা বোনসাম মূলত মানুষকে আধ্যাত্মিক পরামর্শ ও ভেষজ চিকিৎসা দিয়ে থাকেন।

ঘানার স্থানীয় ভাষায় ‘বোনসাম’ শব্দের অর্থ 'শয়তান। তিনি মূলত ফুটবল তারকাদের ওপর ‘কালো জাদু’ বা তুকতাক করার দাবি করে ও চমকপ্রদ ভবিষ্যদ্বাণী দিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি করেছেন।

নিজেকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব দাবি করার এই তান্ত্রিক আধুনিক বিলাসবহুল জীবনযাপন, দামি গাড়ি ও পোশাকের জন্যও বেশ পরিচিত।

এর আগে ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপেও ফুটবল বিশ্বে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন তিনি। সেবার ঘানার মুখোমুখি হওয়ার আগে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো মারাত্মক ইনজুরিতে পড়েছিলেন। বোনসাম তখন দাবি করেছিলেন, রোনালদোর সেই ইনজুরির পেছনে তার ‘আধ্যাত্মিক হাত’ ছিল।

১২ বছর আগে যে রোনালদোকে আটকে দিতে কালা জাদুর আশ্রয় নিয়েছিলেন, সময়ের পরিক্রমায় ২০২৬ বিশ্বকাপে এসে সেই রোনালদোর হাতেই বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফি দেখছেন নানা কোয়াকু বোনসাম। তার এই ভেলকি শেষ পর্যন্ত বাস্তবে রূপ নেয় কিনা, তা দেখার জন্য ফুটবলপ্রেমীদের অপেক্ষা করতে হবে মাঠের চূড়ান্ত লড়াই পর্যন্ত।