বিশ্বকাপ ফুটবলের ডামাডোলে ক্রিকেটের লড়াইয়ে খুব বেশি আমেজ থাকার কথা না। আবার ফরম্যাট যদি হয় টেস্ট তাহলে তো আগ্রহ আরও কমে যাওয়ার কথা। আবার প্রতিপক্ষ ভেদে সেই আগ্রহের সূচক ওঠানামা করে। যেমন, ২০২২ ফুটবল বিশ্বকাপের সময় ভারত বাংলাদেশে সফর করেছিল। দুই টেস্ট ও তিন ওয়ানডে খেলেছিল। বিশ্বকাপের উত্তেজনার মাঝেও সেই সিরিজ নিয়ে ছিল চরম উত্তেজনা। অথচ আগামীকাল শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে টেস্ট সিরিজ; এই সিরিজ নিয়ে ভক্তদের আগ্রহ বেশ কম। হারারেতে বাংলাদেশ সময় দুপুর দেড়টায় শুরু হবে দুই দলের একমাত্র টেস্টের প্রথম দিনের খেলা।
২০২১ সালে জিম্বাবুয়েতে সবশেষ পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলেছিল বাংলাদেশ। এবারের সফরে বাংলাদেশ একটি টেস্ট, তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলবে। এক বছর পর বাংলাদেশ দেশের বাইরে টেস্ট খেলার অপেক্ষায়। সবশেষ ২০২৫ সালে শ্রীলঙ্কায় টেস্ট খেলেছিল। এরপর ঘরের মাঠে আয়ারল্যান্ড ও পাকিস্তানের বিপক্ষে দুটি করে টেস্ট খেলে। চারটি টেস্ট জয়ের সুখস্মৃতি নিয়ে হারারেতে ভালো করতে মুখিয়ে বাংলাদেশ।
অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত বলেছেন, ‘‘ম্যাচটা জিততে চাই এবং ভালো ক্রিকেট খেলতে চাই। কারণ এই সিরিজের পরে আমাদের বেশ কিছু অ্যাওয়ে সিরিজ আছে। এই সিরিজটাতে আমরা কত ভালো ক্রিকেট খেলতে পারছি এটা ইম্পর্ট্যান্ট। ব্যাটসম্যান এবং বোলাররা এখানে যদি ভালো করতে পারে এটা আমাদের সামনের সিরিজগুলোর জন্যও কাজে আসবে। লক্ষ্য থাকবে যে কত ভালো ক্রিকেট আমরা খেলতে পারি।’’
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ নয়। এজন্য মেহেদী হাসান মিরাজ, তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা ও শরিফুল ইসলামকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। ফেরানো হয়েছে খালেদ আহমেদ ও হাসান মাহমুদকে। তৃতীয় পেসার হিসেবে দল যুক্ত করেছে রবিউল হককে। এছাড়া ইবাদত হোসেন পেস আক্রমণে আছেন। রবিউল হক ৩২ প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট ম্যাচে ১০৭ উইকেট পেয়েছেন। রান করেছেন ৬০২। দুটি ফিফটি আছে তার নামের পাশে।
২০২৪ সালের পর আবার টেস্ট দলে ডাক পেয়েছেন তাওহীদ হৃদয়। সেবার মুশফিকুর রহিমের বিকল্প হিসেবে তাওহীদকে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু খেলার সুযোগ পাননি। এবার তাওহীদ সুযোগ পেলেন মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানদের ভরসা হয়ে। ১৬ প্রথম শ্রেণির ম্যাচে ৮৩ রান করেছেন তাওহীদ। সর্বোচ্চ রান ২১৭। ৩টি সেঞ্চুরি ও ৪টি ফিফটি আছে তাওহীদের। লিটন দাসও স্কোয়াডে ছিলেন। কিন্তু চোটের কারণে ছিটকে গেছেন। তার জায়গায় সুযোগ পেয়েছেন মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন।
যারা জিম্বাবুয়ে গিয়েছেন তাদের নিয়ে নাজমুল বেশ আত্মবিশ্বাসী। টেস্টের নিয়মিত ক্রিকেটাররা আগেভাগে যাওয়ায় প্রস্তুতিতে, কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না দাবি নাজমুলের, ‘‘আমরা বেশ কিছু খেলোয়াড় কয়েকদিন আগে আসছি। ওই অ্যাডজাস্টমেন্টটা আমাদের ভালোভাবেই হয়েছে। আমি আশা করছি যে ম্যাচের জন্য আমরা এখন পুরোপুরিভাবে প্রস্তুত। কিছু খেলোয়াড় পরে আসছে কিন্তু ওরাও গত কয়েক দিনের অনুশীলনে অনেকটাই মানিয়ে নিতে পেরেছে। আশা করছি যে ম্যাচে খুব বেশি একটা অ্যাডজাস্টমেন্টে প্রবলেম হবে না।’’ নিজেদের প্রস্তুতি ভালো হয়েছে দাবি করে নাজমুল যোগ করেন, ‘‘প্রস্তুতির দিক থেকে আমরা ভালো প্রস্তুতি নিতে পেরেছি। যতটুকু এখানে সুযোগ সুবিধা ছিল ওর মধ্য দিয়ে আমরা সেরা প্রস্তুতি নেওয়ার চেষ্টা করেছি। সবাই আত্মবিশ্বাসী আছে। গত কয়েকটা সিরিজ আমরা ভালো ক্রিকেট খেলছি এবং আমি বিশ্বাস করি যে এই টেস্ট ম্যাচটাতে আমরা ভালো কিছু করতে পারব।’’








