ফ্রান্সের ফুটবল তারকা ২৪ বছর বয়সী মাইকেল ওলিসের বিরুদ্ধে তাঁর সাবেক প্রেমিকা ও সন্তানের মা ৩৪ বছর বয়সী ফাতিমা জাউনব্রেচার গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। আলিয়াহ নুর নামে তাঁদের ২০ মাস বয়সী এক গোপন কন্যাও রয়েছে।
আলিয়াহ নুরের মা জাউনব্রেচার জার্মান সংবাদমাধ্যম বিল্ডকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওলিসকে ‘হৃদয়হীন’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, সন্তান জন্মের পর থেকে ওলিস তাঁর সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেননি। শুধু আইনজীবীর মাধ্যমে যোগাযোগ হয়েছে।
জাউনব্রেচার জানান, সন্তানের লালন-পালনে ওলিসের দেওয়া আর্থিক প্রস্তাবকে তিনি ‘হাস্যকর’ বলে মনে করেন। তিনি বলেন, ‘নিজের সন্তানের প্রতি এতটা নির্মম হওয়া যায় কীভাবে?’ এই ঘটনায় তিনি মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছেন বলেও জানিয়েছেন।
২০২২ সালে ইনস্টাগ্রামে যোগাযোগের মাধ্যমে তাঁদের সম্পর্কের শুরু হয়। তখন ওলিস ক্রিস্টাল প্যালেসে খেলতেন। পরে তিনি ৪৭.৪ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দেন। জাউনব্রেচার জানান, দুই মাস মেসেজ আদান-প্রদানের পর তিনি লন্ডনে ওলিসের সঙ্গে প্রথম ডেটে যান। দুজনের মধ্যে তাৎক্ষণিক আকর্ষণ তৈরি হয়। তিনি বলেন, ‘ওলিস অর্ধেক আলজেরিয়ান, আর আমি অর্ধেক মরোক্কান। প্রতিবেশী দেশ তো। আমরা দুজনেই ভিড় আর পার্টি পছন্দ করি না।’ প্রথম ডেটে চুমু খেতে চাইলে তিনি বাধা দেন এবং আরও ভালোভাবে জানাশোনার প্রস্তাব দেন। এরপর থেকে তিনি নিয়মিত লন্ডনে যাতায়াত করতেন।
সম্পর্কের মধ্যে অশান্তি দেখা দেয় ওলিসের প্লে-স্টেশন খেলার অভ্যাস ও কথিত অন্য নারীর সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ নিয়ে। জাউনব্রেচার জানান, সন্দেহভাজন অন্য নারীর কারণে তাঁদের সম্পর্ক ভেঙে যায়। কিন্তু সম্পর্ক ভাঙার দুই সপ্তাহ পর গর্ভবতী হওয়ার কথা জানতে পারেন জাউনব্রেচার। পরে ওলিসের অনুরোধে মিউনিখে গর্ভে থাকা সন্তানের ডিএনএ টেস্ট হয় এবং তাতে তাঁর পিতৃত্বও নিশ্চিত হয়।
ওলিসের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো অবশ্য বলছে, তিনি সন্তানের সঙ্গে দেখা করতে কখনো অস্বীকার করেননি এবং সন্তানের জন্য যথাযথ আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন। ওলিস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খুবই গোপনীয়তা বজায় রাখেন এবং জনসমক্ষে আলোকচিত্র এড়িয়ে চলেন। বিল্ডে খবর প্রকাশের পর তাঁর ইনস্টাগ্রাম কমেন্টস সেকশন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
এখন পর্যন্ত ওলিস অবশ্য নিজে কোনো প্রকাশ্য মন্তব্য করেননি।







