২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে দীর্ঘ ২৮ বছর পর প্রত্যাবর্তন করেই বিশ্বজুড়ে রীতিমতো ঝড় তুলেছে নরওয়ে। মাঠের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি দলটির সমর্থকদের বিশেষ উদযাপন ‘ভাইকিং রো’ ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে কৌতূহল ও আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
স্টেডিয়ামের গ্যালারি থেকে শুরু করে নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কয়ার, এমনকি নরওয়ের পার্লামেন্ট ভবন পর্যন্ত- সবখানেই এখন ‘বৈঠা চালানোর ভঙ্গির’ এই ভাইরাল উদযাপন দেখা যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, আইসল্যান্ডের বিখ্যাত ‘ভাইকিং ক্ল্যাপ’-এর পর উত্তর ইউরোপের ফুটবল সংস্কৃতিতে এটি আরেকটি অনন্য ও স্মরণীয় সংযোজন। খবর অ্যাথলন স্পোর্টসের।
‘ভাইকিং রো’ উদযাপন আসলে কী?
‘ভাইকিং রো’ হলো একদল মানুষের একসঙ্গে বসে বৈঠা বাওয়ার ভঙ্গিতে শরীরকে সামনে-পেছনে দোলানো। এবারের ফিফা বিশ্বকাপে নরওয়ের খেলোয়াড় ও তাদের সমর্থকেদের এমন উদযাপন এখন ভাইরাল। ম্যাচ চলাকালীন যেকোনো মুহূর্তেই সমর্থকেরা গ্যালারিতে এটি শুরু করে দেন, যেখানে একজন ড্রামবাদক বাদ্যের তালে তালে এর ছন্দ ঠিক করে দেন। ড্রামের প্রতি দুটি বিট পর পর পুরো গ্যালারি একসঙ্গে বৈঠা চালানোর ভঙ্গিতে চিৎকার করে ওঠে- ‘রো’, যার মানে ‘বৈঠা চালাও’।
ইতিহাস অনুযায়ী, খ্রিস্টাব্দ ৮০০ থেকে ১০৫০ সালের মাঝামাঝি সময়ে ভাইকিংদের অন্যতম প্রধান আদিভূমি ছিল নরওয়ে। আধুনিক নরওয়ে রাষ্ট্র গঠনে এই ‘ভাইকিং যুগ’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। সেই ঐতিহাসিক বীরত্ব, সমুদ্রযাত্রা ও দলীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবেই এই উদযাপনে বৈঠা চালানোর অঙ্গভঙ্গি ব্যবহার করা হয়েছে। এর মূল বার্তা হলো- দল ও সমর্থকেরা সবাই এক হয়ে একই লক্ষ্য অর্জনের জন্য লড়ে যাচ্ছে।
নরওয়ে দলের ‘সুপারফ্যান’ ওলে ফ্রইস্তাদকে এই ‘ভাইকিং রো’ উদযাপনের উদ্ভাবক এবং এটিকে জনপ্রিয় করে তোলার মূল কারিগর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ২০২৫ সালের মার্চ মাসে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে তিনি সমর্থকদের নিয়ে প্রথম এই কোরিওগ্রাফিটি প্রদর্শন করেন। তবে চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপে এসে এটি বৈশ্বিক ‘সেনসেশনে’ পরিণত হয়।
‘ভাইকিং রো’-এর জনপ্রিয়তা এখন আর শুধু গ্যালারিতে সীমাবদ্ধ নেই, তা মাঠে খেলোয়াড়দের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে। আইভরি কোস্টের বিপক্ষে নকআউট পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে জয় নিশ্চিত করে শেষ ১৬-তে ওঠার পর, নরওয়ের তারকা আর্লিং হলান্ড এবং অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড মাঠের ভেতরেই দলবল নিয়ে এই ‘ভাইকিং রো’ উদযাপনের নেতৃত্ব দেন। খেলোয়াড় ও সমর্থকদের এই মেলবন্ধনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।
নরওয়ের সমর্থকদের মতে, ‘ভাইকিং রো’ কেবল একটি স্লোগান বা সাধারণ উদযাপন নয়; এটি তাদের ঐক্য, সাহস এবং সম্মিলিত শক্তির প্রতীক। নরওয়ের বিশ্বকাপ অভিযান যত সামনে এগোচ্ছে, এই উদযাপনের পরিধিও তত বাড়ছে। বর্তমানে বহু নিরপেক্ষ ফুটবলপ্রেমীও নরওয়েজিয়ানদের এই ছন্দে গা ভাসাচ্ছেন। সব মিলিয়ে, ২০২৬ বিশ্বকাপের সবচেয়ে স্মরণীয় ও সুন্দর সমর্থক-সংস্কৃতি হিসেবে ইতোমধ্যেই নিজের নাম লিখিয়ে নিয়েছে ‘ভাইকিং রো’।








