বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ভিএআর ও পেনাল্টি সিদ্ধান্তকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত দুটি ম্যাচে রেফারির সিদ্ধান্ত এবং ভিএআরের হস্তক্ষেপ নিয়ে ফুটবলপ্রেমী, বিশ্লেষক ও সাবেক তারকারা ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন।
সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দেয় বেলজিয়াম ও সেনেগালের ম্যাচ। নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে সেনেগাল ২-০ গোলে এগিয়ে থেকে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জয়ের পথে ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে বেলজিয়াম নাটকীয়ভাবে সমতায় ফিরে আসে।
অতিরিক্ত সময়ের ১২৫তম মিনিটে ভিএআর পর্যালোচনার পর রেফারি সাঈদ মার্টিনেজ বেলজিয়ামের পক্ষে পেনাল্টি দেন, যখন লামিন কামারার চ্যালেঞ্জে ইউরি টিলেমান্স মাটিতে পড়ে যান। সেই পেনাল্টি থেকেই জয় নিশ্চিত করে বেলজিয়াম।
এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন কানাডিয়ান ধারাভাষ্যকার ক্রেইগ ফরেস্ট। তাঁর মতে, সেনেগালের বিপক্ষে এটি অত্যন্ত কঠোর সিদ্ধান্ত এবং বড় ম্যাচগুলোতে তারা ধারাবাহিকভাবে বিতর্কিত রেফারিংয়ের শিকার হচ্ছে।
সাবেক সুইডিশ তারকা জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার মতে এটি কোনোভাবেই পেনাল্টি ছিল না। খুবই সামান্য সংস্পর্শ ছিল, অথচ বেলজিয়ামের খেলোয়াড় সেটিকে বড় করে দেখিয়েছেন। সেনেগালকে কার্যত বঞ্চিত করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আধুনিক ফুটবলে অনেক আক্রমণভাগের খেলোয়াড় সামান্য স্পর্শ পেলেই পেনাল্টির আশায় পড়ে যান এবং ভিএআরের ওপর নির্ভর করেন। তাঁর ভাষায়, পেনাল্টি এমন সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত, যা স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন।
বেলজিয়ামের পক্ষে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হয়েছে, তার ব্যাখ্যা দিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য স্পোর্টিং নিউজ’। সংবাদমাধ্যমটির মতে, টিলেমান্সকে আটকাতে পেছন থেকে স্লাইডিং চ্যালেঞ্জ করেন লামিন কামারা। তাঁর ধাক্কায় বক্সে পড়ে যান অ্যাস্টন ভিলার এই মিডফিল্ডার। শুরুতে রেফারি ফাউলের বাঁশি বাজাননি।
তবে ওপরের (ওভারহেড) কোণ থেকে নেওয়া ক্যামেরার রিপ্লেতে দেখা যায়, কামারার চ্যালেঞ্জটি টিলেমান্সের পায়ের পাশে আঘাত করেছে এবং সেই ধাক্কাতেই তিনি ছিটকে যান। টিলেমান্স মৃদু ধাক্কায় মাঠে পড়ে গেছেন বলে মনে হলেও ভিডিও রিপ্লে পর্যালোচনার পর ফাউলের সিদ্ধান্ত নিতে সেই ট্যাকলটুকু যথেষ্ট ছিল।
ভিএআর থেকে রেফারিকে মাঠের পাশের মনিটর দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত হন্ডুরাসের রেফারি সাইদ মার্তিনেজ তাঁর ভিডিও সহকারীর সিদ্ধান্তের সঙ্গেই একমত হন এবং বেলজিয়ামের পক্ষে পেনাল্টির বাঁশি বাজান।
এর আগে ইংল্যান্ড ও কঙ্গোর ম্যাচেও পেনাল্টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। প্রথমার্ধে ১-০ গোলে পিছিয়ে থাকা অবস্থায় ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেন প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক লিওনেল এমপাসির সঙ্গে সংঘর্ষে বক্সের ভেতর পড়ে গেলেও রেফারি পেনাল্টি দেননি।
ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক অ্যালান শিয়ারার মনে করেন, এটি স্পষ্ট পেনাল্টি ছিল। তাঁর মতে, গোলরক্ষকের সঙ্গে পরিষ্কার সংস্পর্শ হয়েছে এবং কেনের দাবি যথার্থ ছিল।
তবে সাবেক ইংল্যান্ড তারকা ওয়েইন রুনি ভিন্নমত পোষণ করেন। তাঁর মতে, কেন নিজেই ভারসাম্য হারিয়ে গোলরক্ষকের দিকে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। তাই রেফারির সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল এবং ঘটনাটি পেনাল্টির যোগ্য নয়।
দুটি ম্যাচের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের পর আবারও প্রশ্নের মুখে পড়েছে ভিএআরের ব্যবহার এবং পেনাল্টি নির্ধারণের মানদণ্ড। ফুটবলবিশ্বে এখন আলোচনা—প্রযুক্তির সহায়তা কি সত্যিই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করছে, নাকি বিতর্ক আরও বাড়িয়ে তুলছে?
এমএমআর








