পর্তুগাল ফুটবল দলের কোচ রবের্তো মার্তিনেজের ভাষায়, তাদের আসল বিশ্বকাপ শুরু হচ্ছে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটা দিয়ে। তাছাড়া এই স্প্যানিশ কোচের সমর্থকদের আশা রাখার অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন যে, বিশ্বকাপে এটাই রোনালদোর শেষ ম্যাচ না।
টরন্টোয় বাংলাদেশ সময় শুক্রবার (৩ জুলাই) ভোর ৫টায় শেষ ৩২-এ মুখোমুখি হবে পর্তুগাল ও ক্রোয়েশিয়া। দুই দলই নিজ-নিজ গ্রুপে রানার্সআপ হয়ে জায়গা করে নিয়েছে নকআউটে। তাই এবার ভুলের কোনো সুযোগ নেই। একটি পরাজয় মানেই বিশ্বকাপের ইতি।
গ্রুপ পর্বে পর্তুগালের পারফরম্যান্স ছিল ওঠানামায় ভরা। ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ১-১ ড্র দিয়ে শুরু, এরপর উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ৫-০ গোলের দাপুটে জয়। কিন্তু শেষ ম্যাচে কলম্বিয়ার বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ের পর আবারও সমালোচনার মুখে পড়ে দলটি। সেই অধ্যায় পেছনে ফেলে নকআউটে নতুন পরিচয়ে হাজির হতে চান মার্তিনেস।
সংবাদ সম্মেলনে পর্তুগাল কোচ মার্তিনেজ বলেন, ‘ঐক্য, মেধা এবং প্রতিশ্রুতি থাকার কারণে আমাদের দলটা খুবই শক্তিশালী। আমি আত্মবিশ্বাসী। যে তিনটা ম্যাচ ইতোমধ্যে আমরা খেলেছি, সেগুলো প্রস্তুতির অংশ ছিল, কঠিন মুহূর্তে আমরা দৃঢ়তা ও তীব্রতা দেখিয়েছি। যখন আপনি ভালো একটা পর্যায়ে থাকবেন, তখন জেতাটা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, হারাটাও গুরুত্বপূর্ণ। কলম্বিয়ার বিপক্ষে না হারাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল আমাদের জন্য। বিশ্বকাপ শুরু হচ্ছে, আগামীকাল থেকে।’
বিশ্বকাপে এবার সবচেয়ে বেশি আলোচনায় থাকা নামগুলোর একটি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ৪১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের এটাই শেষ বিশ্বকাপ। একই অবস্থা ৪০ বছর বয়সী ক্রোয়েশিয়ান কিংবদন্তি লুকা মদ্রিচেরও। তবে প্রতিপক্ষের অধিনায়ককে নিয়ে মন্তব্য না করলেও রোনালদোকে নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন মার্তিনেজ। তিনি বয়সকে কোনো বাধা হিসেবে দেখতে নারাজ, ‘তারা (রোনালদো ও মদ্রিচ) আইকন। তাদের মতো উদাহরণ থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ। আশা করুন, এটা রোনালদোর লাস্ট ড্যান্স হবে না।’
ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে গোল না পাওয়ায় রোনালদোকে ঘিরে সমালোচনা শুরু হয়েছিল। তবে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করে জবাব দিয়েছিলেন তিনি। এরপর কলম্বিয়ার বিপক্ষে আবারও গোলশূন্য থাকায় আলোচনা নতুন করে জোর পায়। কিন্তু কোচের আস্থা এতটুকুও কমেনি। দলকে ঘিরে সমর্থকদের উদ্বেগও স্বাভাবিক বলেই মনে করেন মার্তিনেজ।
মার্তিনেজ বিশ্বাস করেন, তার খেলোয়াড়রা নিজেদের সর্বস্ব উজাড় করে দিতে প্রস্তুত, ‘বিশ্বকাপে এমনটা হয়ই, এটা কেবল পর্তুগালে নয়, সব দেশে (সমর্থকরা উদ্বিগ্ন থাকেন)। সব ম্যাচই খুব প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়। লড়াই করার এবং শেষ পর্যন্ত সবটুকু নিংড়ে দেওয়ার মানসিকতা দলের মধ্যে আছে। নিশ্চিন্ত থাকুন, সবটুকু ঢেলে দেওয়ার জন্য আমরা প্রস্তুত।’
ক্রোয়েশিয়াকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ দেখছেন না পর্তুগাল কোচ। অভিজ্ঞ লুকা মদ্রিচ, ইভান পেরিশিচদের নিয়ে গড়া দলটির সবচেয়ে বড় শক্তি বল নিয়ন্ত্রণ ও টেকনিক্যাল দক্ষতা বলে মনে করেন তিনি, ‘ক্রোয়েশিয়া সবসময় এমন, তারা বল নিয়ন্ত্রণে রাখতে পছন্দ করে। ভীষণ প্রভাব রাখার মতো খেলোয়াড়দের নিয়ে টেকনিক্যালি দক্ষ দল। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তারা খুবই উপরে উঠে খেলেছিল। পরে তারা বাস্তবমুখী হয়। আগামীকাল বল দখলে রেখে খেলাটা নিয়ন্ত্রণ করা গুরুত্বপূর্ণ হবে। বিস্ময়ের কিছু থাকবে না, কেননা, দুই দলই পরস্পরকে ভালোভাবে জানে।’








