বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো চরম গরমের কারণে ম্যাচ পরিচালনায় বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে ফিফা। মাঠের তাপমাত্রা প্রায় ১১০ ডিগ্রি ফারেনহাইটে পৌঁছালে খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে চালু করা হয়েছে ‘ওয়াটার ব্রেক’ বা পানিবিরতির নিয়ম। নতুন এই ব্যবস্থায় প্রতিটি ম্যাচে দুই দফায় তিন মিনিট করে খেলা বন্ধ থাকবে, যাতে খেলোয়াড়রা পানি পান করে কিছুটা স্বস্তি নিতে পারেন।

তবে বিষয়টি শুধু খেলোয়াড়দের সুরক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বিশাল অঙ্কের বাণিজ্যিক সম্ভাবনাও। ১০৪ ম্যাচের পুরো টুর্নামেন্টে দুই দফা করে বিরতির হিসাব করলে অতিরিক্ত প্রায় ১০ ঘণ্টার সম্প্রচার সময় তৈরি হয়। বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে যেখানে মাত্র ৩০ সেকেন্ডের একটি বিজ্ঞাপনের মূল্য প্রায় সাড়ে সাত লাখ মার্কিন ডলার, সেখানে এই অতিরিক্ত সম্প্রচার সময়ের সম্ভাব্য বাণিজ্যিক মূল্য প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এই অঙ্ক যুক্তরাষ্ট্রের সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান ফক্স নেটওয়ার্ক বিশ্বকাপ সম্প্রচারের স্বত্ব কিনতে যে অর্থ ব্যয় করেছে, তারও বেশি।

নতুন নিয়মটি শুধু অর্থনৈতিক দিক থেকেই নয়, ফুটবলের কৌশলগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে। ঐতিহ্যগতভাবে ফুটবলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো টাইমআউট বা কৌশলগত বিরতির সুযোগ থাকে না। পুরো ৯০ মিনিট কোচদের সাইডলাইনে দাঁড়িয়ে খেলোয়াড়দের নির্দেশনা দিতে হয়। কিন্তু এখন ওয়াটার ব্রেকের সময় খেলোয়াড়রা সরাসরি কোচের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারবেন।

ফলে এই সংক্ষিপ্ত বিরতি শুধু বিশ্রাম বা পানি পান করার সুযোগ নয়, বরং ম্যাচের গতি বদলে দেওয়া, নতুন কৌশল নির্ধারণ এবং প্রতিপক্ষের ছন্দ ভেঙে দেওয়ার কার্যকর একটি উপায়ে পরিণত হতে পারে। তাই অনেকের মতে, ফিফার এই নতুন নিয়ম একদিকে যেমন খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে, অন্যদিকে বিশ্বকাপের কৌশলগত ও বাণিজ্যিক চিত্রেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে।

The post বিশ্বকাপে নতুন ‘ওয়াটার ব্রেক’ নিয়ম, ফিফার সিদ্ধান্তে লুকিয়ে ৫০ কোটি ডলারের হিসাব appeared first on ZoomBangla.