বিশ্বকাপে সেনেগাল জাতীয় ফুটবল দলের চিকিৎসককে ঘিরে বিতর্ক নতুন মোড় নিয়েছে। সেনেগাল ফুটবল ফেডারেশনের (এফএসএফ) সভাপতি আবদুলায়ে ফল দাবি করেছেন, দলের চিকিৎসক ছিলেন একজন ‘প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ (গাইনোকোলজিস্ট) হিসেবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত’ এবং উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ চলাকালে দলের জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষায়িত চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার মতো উপযুক্ত পটভূমি তাঁর ছিল না।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্টের খবরে বলা হয়েছে, গত সোমবার দেওয়া বক্তব্যে আবদুলায়ে ফল বলেন, বিষয়টি অনেক দেরিতে ধরা পড়ে। এরপর খেলোয়াড়দের মধ্যে দলের চিকিৎসা সহায়তার মান নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। তিনি বলেন, ‘আমি যে প্রতিক্রিয়া পেয়েছি, তাতে খেলোয়াড়রা মনে করেননি যে তাঁর কাছ থেকে তাঁরা পর্যাপ্ত চিকিৎসা সহায়তা পাবেন।’
খেলোয়াড়দের আস্থা ফিরিয়ে আনতে ফেডারেশন অতিরিক্ত চিকিৎসা বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বলেও জানান তিনি। ফল বলেন, ‘আমাদের এমন একজন বিশেষজ্ঞের ব্যবস্থা করতে হয়েছে, যাঁর দক্ষতার ওপর খেলোয়াড়রা আস্থা রাখতে পারেন। কারণ, সবকিছুর আগে স্বাস্থ্য।’
তবে এসব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে সেনেগালিজ অ্যাসোসিয়েশন অব স্পোর্টস মেডিসিন। সোমবার গভীর রাতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংগঠনটি অভিযোগগুলোকে ‘ভিত্তিহীন ও মানহানিকর’ বলে অভিহিত করে। বিবৃতিতে বলা হয়, দলের চিকিৎসক আবদেরাহমানে ফেদিওরের কাছে শেইখ আন্তা দিয়োপ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদ থেকে স্পোর্টস মেডিসিন ও স্পোর্টস বায়োলজিতে বিশেষজ্ঞ ডিপ্লোমা রয়েছে।
এ ছাড়া, তিনি ফান হাসপাতালের ফিজিওথেরাপি বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৭ সাল থেকে সেনেগাল জাতীয় দলের চিকিৎসক হিসেবে কাজ করছেন এবং এই সময়ে তিনটি বিশ্বকাপ ও পাঁচটি আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে দলের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এদিকে, বিশ্বকাপে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর শনিবার প্রধান কোচ পাপে বৌনা থিয়াওকে বরখাস্ত করেছে সেনেগাল ফুটবল ফেডারেশন। ৪৫ বছর বয়সী এই কোচ ২০২৪ সাল থেকে দায়িত্বে ছিলেন। ফেডারেশন এক বিবৃতিতে জানায়, ‘জাতীয় দলের প্রধান কোচ পাপে থিয়াও এবং তাঁর পুরো কারিগরি স্টাফের দায়িত্ব অবসানের প্রক্রিয়া শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’ এতে আরও বলা হয়, ‘জাতীয় দলের ক্রীড়া ফলাফল ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার ব্যাপক মূল্যায়নের পর নির্বাহী কমিটি মনে করেছে, সেনেগালের ফুটবলের সর্বোত্তম স্বার্থে এই প্রক্রিয়া শুরু করা প্রয়োজন।’
জানুয়ারিতে আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের ফাইনালে মরক্কোকে হারিয়ে শিরোপা জয়ের পর সেনেগালকে বিশ্বকাপের অন্যতম সম্ভাব্য শিরোপাপ্রত্যাশী দল হিসেবে দেখা হচ্ছিল। কিন্তু টুর্নামেন্টে দলটি প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। গ্রুপ ‘আই’-এ সেনেগাল ইরাককে হারালেও প্রথম দুই গ্রুপ ম্যাচে ফ্রান্স ও নরওয়ের কাছে পরাজিত হয়। পরে শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে বেলজিয়ামের বিপক্ষে নির্ধারিত সময় শেষ হতে পাঁচ মিনিট বাকি থাকতে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও সেই লিড ধরে রাখতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ে ৩-২ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় দলটি।
বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর অংশগ্রহণকারী দলগুলোর প্রধান কোচদের মধ্যে ইতোমধ্যে ২৫ শতাংশেরও বেশি হয় বরখাস্ত হয়েছেন, নয়তো স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন।








