নারী পুলিশ সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং জেন্ডার-সংবেদনশীল পুলিশিং আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্ক (বিপিডব্লিউএন)-এর কৌশলগত পরিকল্পনা (২০২৪-২৭) বাস্তবায়ন বিষয়ক ঢাকা বিভাগীয় পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাজধানীর রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ কর্মশালায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), ঢাকা রেঞ্জ এবং বিভিন্ন বিশেষায়িত ইউনিটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পদমর্যাদার ১৬০ জন পুলিশ সদস্য অংশ নেন।

অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৮০ শতাংশ নারী এবং ২০ শতাংশ পুরুষ ছিলেন। কর্মশালার উদ্বোধন করেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, বাংলাদেশ পুলিশকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, দক্ষ ও জনসেবামুখী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে বিপিডব্লিউএন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিপিডব্লিউএনের সাধারণ সম্পাদক ও অতিরিক্ত ডিআইজি (ট্রেনিং-২) ড. মোছা. শেহেলা পারভীন। তিনি বিপিডব্লিউএনের কার্যক্রম এবং ২০২৪-২০২৭ মেয়াদের কৌশলগত পরিকল্পনার প্রধান লক্ষ্য ও অগ্রাধিকার তুলে ধরেন।

কর্মশালায় বিপিডব্লিউএনের কৌশলগত পরিকল্পনা, সাইবার অপরাধ ও সচেতনতা এবং মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিষয়ে পৃথক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। ইউএন উইমেনের প্রতিনিধিরা জেন্ডার-সংবেদনশীল পুলিশিং বাস্তবায়ন, কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ এবং এ বিষয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করেন।

গেস্ট অব অনার হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল এম. এ. জলিল।

তিনি বলেন, জেন্ডার-সংবেদনশীল পুলিশিং শুধু নারী সদস্যের সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয় নয়; বরং নারী, পুরুষ, শিশু, বয়স্ক এবং লিঙ্গ-বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠীর প্রয়োজনের প্রতি ন্যায়সঙ্গত, কার্যকর ও সংবেদনশীল সেবা নিশ্চিত করাই এর মূল উদ্দেশ্য।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিনিধিদলের ইনক্লুসিভ গভর্ন্যান্স টিম লিডার এনরিকো লরেনজোন বলেন, বিপিডব্লিউএনের কৌশলগত পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়ন জাতীয় নেতৃত্ব, প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ এবং ধারাবাহিক কার্যক্রমের ওপর নির্ভরশীল। এর মাধ্যমে পুলিশ সদস্যদের পেশাগত উন্নয়ন, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং নারী ও কন্যাশিশুসহ সব নাগরিকের জন্য উন্নত সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

ইউএন উইমেনের প্রোগ্রাম ম্যানেজার (নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ ইউনিট) শ্রবণা দত্ত নারী পুলিশ সদস্যদের সক্ষমতা উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সুপারিশ তুলে ধরার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, দেশের আটটি বিভাগের পরামর্শ সভা থেকে পাওয়া মতামত সমন্বিত সুপারিশ প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আয়োজকরা জানান, ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিপিডব্লিউএন বাংলাদেশ পুলিশে নারী নেতৃত্বের বিকাশ এবং নারী সদস্যদের পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশে ১৭ হাজার ৯৭০ জন নারী সদস্য কর্মরত, যা মোট পুলিশ সদস্যের ৯ দশমিক ৭ শতাংশ।

ইউএন উইমেন ও বিপিডব্লিউএন দীর্ঘদিন ধরে নারী পুলিশ সদস্যদের প্রাতিষ্ঠানিক ও পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে যৌথভাবে কাজ করছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে বাস্তবায়িত ‘পাবলিক স্পেস, কর্মক্ষেত্র এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ’ প্রকল্পের আওতায় জেন্ডার-সংবেদনশীল পুলিশিং জোরদার এবং নারী ও কন্যাশিশুর জন্য সারভাইভার-কেন্দ্রিক সেবা উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

টিটি/এমকেআর