এবারের বিশ্বকাপে বাংলাদেশ সময় শনিবার সকাল পর্যন্ত হ্যাটট্রিক হয়েছে তিনটি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি এবারের আসরের প্রথম হ্যাটট্রিক করেন। এরপর কানাডার জোনাথান ডেভিড এই কৃতিত্ব অর্জন করেন কাতারের বিপক্ষে ম্যাচে। তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন উসমান দেম্বেলে। নরওয়ের বিপক্ষে শুক্রবার রাতে ফ্রান্সের ৪-১ গোলের জয়ে দেম্বেলে একাই তিনটি গোল করেন। বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয় দ্রুততম হ্যাটট্রিক।

বিশ্বকাপের এটি ২৩তম আসর। আগের ২২ আসরে সব মিলিয়ে হ্যাটট্রিক হয়েছে ৫৪টি। ১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে ইতিহাসের প্রথম ফুটবল বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক হয়েছিল তিনটি। সেবার দল ছিল মাত্র ১৩টি। অথচ ৩২ দলের সবশেষ তিন আসরে হ্যাটট্রিক হয়েছে মাত্র দুটি করে। ২০১০ বিশ্বকাপ দেখেছে একটি হ্যাটট্রিক। ২০০৬ বিশ্বকাপের চিত্র আরও করুণ। সেবার এক ম্যাচে তিন গোল করতে পারেননি কেউ। সবচেয়ে বেশি আটটি হ্যাটট্রিক হয়েছে ১৯৫৪ বিশ্বকাপে। এছাড়া ১৯৩৮, ১৯৮২ ও ১৯৮৬ বিশ্বকাপ দেখেছে চারটি করে হ্যাটট্রিক। বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম হ্যাটট্রিক হিরো যুক্তরাষ্ট্রের বার্ট প্যাটেনাউডে। ১৯৩০ আসরে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের ৩-০ ব্যবধানের জয়ে তিনটি গোলই ছিল তার। একই আসরে মেক্সিকোর বিপক্ষে দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক করেন আর্জেন্টিনার গুইলেরমো স্তাবিল।

বিশ্বকাপে একাধিক হ্যাটট্রিকের কীর্তি গড়েছেন মাত্র চারজন। ১৯৭০ আসরে জার্মানির জার্ড মুলার, ১৯৫৮ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের জাঁ ফঁতে ও ১৯৫৪ আসরে হাঙ্গেরির স্যান্ডর ককচিচ করেছিলেন দুটি করে হ্যাটট্রিক। বিশ্বকাপে দুটি হ্যাটট্রিক আছে আর্জেন্টিনার গ্যাবিয়েল বাতিস্তুতারও। একদিক থেকে তিনি অনন্য। একমাত্র ফুটবলার হিসাবে ভিন্ন দুটি বিশ্বকাপে (১৯৯৪ ও ১৯৯৮) হ্যাটট্রিক করেছেন বাতিস্তুতা।

বিশ্বকাপ ফাইনালে হ্যাটট্রিক হয়েছে মাত্র দুটি। জিওফ হার্স্টের হ্যাটট্রিকে তৎকালীন পশ্চিম জার্মানিকে ৪-২ গোলে হারিয়ে ১৯৬৬ বিশ্বকাপ জিতেছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু সবশেষ ২০২২ বিশ্বকাপ ফাইনালে হ্যাটট্রিক করেও ফ্রান্সকে জেতাতে পারেননি কিলিয়ান এমবাপ্পে। টাইব্রেকারে এমবাপ্পের ফ্রান্সকে হারিয়ে শেষ হাসি হাসে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা।