যেকোন মানুষের কোনো কিছু,নিয়ে ভীতি কাজ করবেই। তবে ব্রাজিল দলের সেই ভীতি যেন কাজ করে বিশ্বকাপের নকআউটে ইউরোপিয়ান দল দেখলেই। বিশ্বকাপের নকআউটে ইউরোপিয়ান দলগুলোর বিপক্ষে ২০০৬ থেকে শুরু কোনোবারই জিততে পারেনি তারা।

এবার ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে আরেকটি তিক্ত রেকর্ডের অংশ হয়ে গেল ব্রাজিল। ইউরোপের প্রতিপক্ষের বিপক্ষে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে টানা সপ্তম ম্যাচেও জয়ের দেখা পেল না পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

ব্রাজিলের এই হতাশাজনক ধারার শুরু ২০০৬ বিশ্বকাপে। সেবার কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিদায় নেয় সেলেসাওরা। এরপর ২০১০ সালে নেদারল্যান্ডসের কাছে ২-১ ব্যবধানে পরাজিত হয়।

নিজেদের মাটিতে অনুষ্ঠিত ২০১৪ বিশ্বকাপে ইতিহাসের অন্যতম বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়ে ব্রাজিল। সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের লজ্জাজনক হার এবং তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের কাছে ৩-০ গোলে পরাজিত হয় তারা।

২০১৮ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের কাছে ২-১ গোলে হারার পর ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার সঙ্গে ১-১ ড্র করে টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে পরাজিত হয়ে বিদায় নিতে হয় ব্রাজিলকে।

আর এবার ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে সেই ব্যর্থতার তালিকায় যুক্ত হলো আরও একটি অধ্যায়।

সব মিলিয়ে ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ব্রাজিলের সর্বশেষ জয়টি এসেছিল ২০০২ সালের ফাইনালে জার্মানিকে ২-০ গোলে হারিয়ে। এরপর কেটে গেছে ২৪ বছর, কিন্তু ইউরোপের কোনো দলকে নকআউট পর্বে আর হারাতে পারেনি সেলেসাওরা। এই দীর্ঘ ব্যর্থতা ব্রাজিলের জন্য এখন বড় এক দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আরআর/আইএন