ফ্রান্স জাতীয় দলের কোচ হিসেবে ১৪ বছরের দীর্ঘ অধ্যায়ের ইতি টানলেন দিদিয়ের দেশম। ২০২৬ বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৬-৪ গোলের হারের মধ্য দিয়ে ‘লে ব্লু’দের ডাগআউটে শেষবারের মতো দায়িত্ব পালন করলেন তিনি। বিদায়বেলাতেও অবশ্য বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজের নাম আরও উজ্জ্বল করে গেলেন ফরাসি কিংবদন্তি।

মিয়ামিতে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচটি ছিল দেশমের কোচিং ক্যারিয়ারের ২৭তম বিশ্বকাপ ম্যাচ। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচে কোচিং করানোর নিজের রেকর্ড আরও বাড়িয়ে নিলেন তিনি। আন্তর্জাতিক ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে এত দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিক সাফল্য দেখানোর নজির খুব কম কোচই গড়তে পেরেছেন।

২০১২ সালে ফ্রান্স জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশম বদলে দিয়েছিলেন দলটির চেহারা। তার অধীনে ফ্রান্স খেলেছে ১৮৭টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ, যেখানে ম্যাচ শুরুর আগে পর্যন্ত তার ঝুলিতে ছিল ১২১টি জয়। ফরাসি জাতীয় দলের ইতিহাসে কোনো কোচই এত বেশি ম্যাচ জেতাতে পারেননি।

খেলোয়াড় হিসেবে ১৯৯৮ সালে নিজ দেশের মাটিতে ফ্রান্সকে প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ এনে দিয়েছিলেন দেশম। দুই দশক পর সেই একই কীর্তি গড়েন কোচ হিসেবেও। তার অধীনে ২০১৮ সালে রাশিয়া বিশ্বকাপে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় ফ্রান্স। ফলে মারিও জাগালো ও ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ারের পর খেলোয়াড় এবং কোচ- দুই ভূমিকাতেই বিশ্বকাপ জয়ী হওয়া কিংবদন্তিদের কাতারে নাম লেখান তিনি।

বিশ্বকাপের পাশাপাশি ইউরোপীয় ফুটবলেও ছিল তার সফল পদচারণা। ২০১৬ ইউরোতে ফ্রান্সকে ফাইনালে তুলেছিলেন দেশম, যদিও শিরোপা জেতা হয়নি। পরে ২০২১ সালে উয়েফা নেশন্স লিগ জিতে আবারও সাফল্যের স্বাদ পান তিনি। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপেও দলকে ফাইনালে তুলেছিলেন, যদিও রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার কাছে টাইব্রেকারে হেরে রানার্সআপ হতে হয়।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি তাই শুধু তৃতীয় স্থান নির্ধারণী লড়াই ছিল না, ছিল ফরাসি ফুটবলের একটি সফল যুগের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি। প্রায় দেড় দশক ধরে দেশমের নেতৃত্বে ফ্রান্স বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম ধারাবাহিক শক্তিতে পরিণত হয়েছিল।

এখন শুরু হচ্ছে নতুন অধ্যায়। ফরাসি গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, সাবেক কিংবদন্তি জিনেদিন জিদানই দেশমের উত্তরসূরি হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন। যদি সেটিই হয়, তবে দীর্ঘদিন পর নতুন কোচের অধীনে নতুন পথচলা শুরু করবে ফ্রান্স। আর দেশম বিদায় নিলেন এমন এক উত্তরাধিকার রেখে, যা ফরাসি ফুটবলের ইতিহাসে বহু বছর স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

আইএইচএস/