আর মাত্র কয়েক মিনিটের অপেক্ষা। বেলজিয়াম-সেনেগাল শেষ বত্রিশের ম্যাচটা তাহলে গড়াত পেনাল্টি শুটআউটে। কিন্তু সিয়াটলে শেষ মুহূর্তে বদলে গেল সবকিছু। পেনাল্টি থেকে জয়সূচক গোল করেন বেলজিয়ান মিডফিল্ডার ইউরি তিলেমান্স। অথচ এই পেনাল্টি নিয়ে যেখানে এত বিতর্ক, তা নিয়ে সেনেগালের কোচ, ফুটবলার কেউই কোনো মন্তব্য করতে চাইলেন না।

১২০ মিনিট পেরিয়ে যখন বেলজিয়াম-সেনেগাল ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ের খেলা চলছে, তখন ম্যাচের ফল ২-২। যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে সেনেগালের লামিনে কামারা বল ক্লিয়ারের উদ্দেশ্যে স্লাইড করেন। কিন্তু বলে পা লাগার আগেই বেলজিয়ামের তিলেমান্সের সঙ্গে লেগে যায় কামারার। প্রথমে খেলা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। কিন্তু ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) মাধ্যমে রিপ্লে দেখে দ্রুতই রেফারি সাইদ মার্তিনেস পেনাল্টির বাঁশি বাজান। এমন সুযোগ দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছেন তিলেমান্স।

তিলেমান্সের এই গোলে ৩-২ গোলের জয়ে বেলজিয়াম উঠে যায় শেষ ষোলোতে। রুদ্ধশ্বাস এই ম্যাচ শেষে আলোচনায় রেফারি মার্তিনেসের বিতর্কিত পেনাল্টির সিদ্ধান্ত। তবে সেনেগাল কোচ পাপে থিয়াও তা এড়িয়ে গেছেন। এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে উত্তরে তিনি বলেন, ‘রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না। এটা কষ্টদায়ক। পেনাল্টি নিয়ে সবাই মন্তব্য করতে পারে। কিন্তু আমি সে বিষয়ে কিছু বলতে চাই না।’

ইংল্যান্ডের সাবেক ডিফেন্ডার গ্যারি নেভিলও প্রশ্ন তুলেছেন রেফারি মার্তিনেসের পেনাল্টির সিদ্ধান্ত নিয়ে। তিনি বলেন, ‘মনে হচ্ছে না এটা আদৌ পেনাল্টি। তিলেমান্স আগে বলে স্পর্শ করার যদি তাকে লাথি মারা হতো, তাহলে পেনাল্টি দেওয়া যেত।’ ফুটবল বিশেষজ্ঞ রয় কিন বলেন, ‘পেনাল্টির সিদ্ধান্তটা আমার কাছে একটু কঠোরই মনে হয়েছে। আর ভিএআর দেখে রেফারি সিদ্ধান্ত নিতে অনেক বেশি সময় নিয়েছেন।’

সেনেগালের দুই গোল এসেছে মিডফিল্ডার হাবিব দিয়ারা এবং ফরোয়ার্ড ইসমাইলা সার করেছেন। প্রথম ৬০ মিনিটের মধ্যেই দলটি ২-০ গোলে এগিয়ে যায়। কিন্তু অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর পর রেফারির সিদ্ধান্তের কাছে হার মানতে হলো সেনেগালকে। রেফারি মার্তিনেসের সিদ্ধান্ত নিয়ে দিয়ারাও কোনো মন্তব্য করেননি। সেনেগাল নিজেদের দোষে হেরেছে বলে মনে করেন দিয়ারা। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘পেনাল্টির বিষয়ে? আমি রেফারিকে নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।প্রথমার্ধে আমরা ভালো খেলেছিলাম। কিন্তু সেটা যথেষ্ট ছিল না। একটা ম্যাচ সাধারণত ৯০ মিনিটের হয়। আমরা ভীষণ হতাশ ও বিধ্বস্ত। এটা মেনে নেওয়া খুব কঠিন।’

২৪ ও ৫১ মিনিটে দিয়ারা ও ইসমাইলার গোলে সেনেগাল এগিয়ে যায় ২-০ গোলে। মনে হচ্ছিল প্রথম ৯০ মিনিটেই ম্যাচ জিতে তারা কাটবে শেষ ষোলোর টিকিট। কিন্তু চমকে ভরা বিশ্বকাপে কখন যে কী হয়, তা অনুমান করা কঠিন। ৮৬ মিনিটে বেলজিয়ান ফরোয়ার্ড রোমেলু লুকাকু গোল করে ব্যবধান। এরপর সমতাসূচক গোল ৮৯ মিনিটে করেন তিলেমান্স। এই তিলেমান্সই পেনাল্টি থেকে গোল করে বেলজিয়ামের জয় নিশ্চিত করেছেন।

২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও জিততে না পারার হতাশায় পুড়ছেন থিয়াও। বেলজিয়ামের বিপক্ষে হারের পর সেনেগাল কোচ বলেন,আমাদের সেই দলকে অভিনন্দন জানাতেই হবে যারা শেষ পর্যন্ত নিজেদের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছে। ২-০ গোলের লিডটা ধরে রাখতে পারিনি। আমাদের কিছু শারীরিক সমস্যা ছিল। কয়েকজন খেলোয়াড় আর খেলা চালিয়ে যেতে পারছিল না। তাই বাধ্য হয়ে পরিবর্তন আনতে হয়েছে। আমাদের এটা মেনে নিতে হবে। এটাই ফুটবল।’

‘আই’ গ্রুপে থাকা সেনেগাল গ্রুপ পর্বে ফ্রান্স-নরওয়ের কাছে হেরেছিল। ইরাককে ৫-০ গোলে হারিয়ে ‘আই’ গ্রুপের তৃতীয় দল হিসেবে উঠেছিল সেনেগাল। তবে সিয়াটলে গতকাল রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কাছেই হার মানতে হলো আফ্রিকার দলকে।