যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে সেনেগালের বিপক্ষে অবিস্মরণীয়ভাবে ৩-২ গোলের নাটকীয় জয়ের পর বেলজিয়ামের প্রধান কোচ রুডি গার্সিয়া ম্যাচে নিজের খেলোয়াড় বদলির সিদ্ধান্তের পক্ষে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই তিনি দলের দুই তারকা জেরেমি ডকু ও কেভিন ডি ব্রুইনাকে মাঠ থেকে তুলে নেন। এরপরই বেলজিয়াম অবিশ্বাস্যভাবে ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ায়।
ডকুকে বদলি করার সময় তাকে কিছুটা বিরক্ত মনে হচ্ছিলো। এ বিষয়ে গার্সিয়া বলেন, ‘একটি বিষয় মনে রাখতে হবে একজন কোচ যখন বদলি করেন, তখন সেটা মাঠ ছেড়ে যাওয়া খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে নয়; বরং যিনি মাঠে নামছেন, তার পক্ষে।’
কারণ কোচ মনে করেন, এতে দল আরও ভালো খেলবে। আমি সবসময়ই আমার দলকে উন্নত করতে চাই এবং এমন খেলোয়াড় নামাতে চাই, যারা ম্যাচ জিততে ও খেলার নিয়ন্ত্রণ নিতে বাড়তি কিছু যোগ করতে পারে। আজ সেটাই হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ডকু ছেলে সন্তানের জন্মের সময় পরিবারের পাশে থাকার জন্য সাত দিন অনুশীলনের বাইরে ছিলেন। তাই পুরো ৯০ মিনিট খেলার মতো শারীরিক অবস্থায় তিনি ছিলেন না।
গার্সিয়া ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে পানীয় বিরতির ঠিক আগে লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ড ও ইউরি টিলেমান্সের মধ্যে হওয়া উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা নিয়েও কথা বলেন। দুজনকে শান্ত করতে এগিয়ে এসেছিলেন রোমেলু লুকাকু। তবে কোচের মতে, এটি খেলারই একটি স্বাভাবিক অংশ।
‘লুকাকু নিজ উদ্যোগে দুজনকে একটু শান্ত করেছে, কিন্তু আমি এটা পছন্দ করি। এর মানে আমাদের দলে প্রাণ আছে। খেলোয়াড়দের মতবিরোধ হতেই পারে, তারা উত্তপ্ত তর্কও করতে পারে। ট্রোসার্ড ও টিলেমান্স দুজনই বেলজিয়াম জাতীয় দলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। তারা জয়ের জন্য এতটাই মরিয়া ছিল যে, তারা ঠিক কী নিয়ে তর্ক করছিলো, সেটাও আমি জানি না। তবে আমি এমন খেলোয়াড়ই চাই, যারা পরিস্থিতি খারাপ হলে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে চায়। মাঠে আমাদের এমন মানসিকতা ও দৃঢ় সংকল্পের প্রয়োজন।’
শেষে গার্সিয়া স্বীকার করেন, ম্যাচের একপর্যায়ে ২-০ গোলে এগিয়ে থাকা সেনেগাল শেষ ষোলোতে ওঠার যোগ্যতাও রাখত। তিনি বলেন, ‘ভুলে গেলে চলবে না, আজ মাঠে দুটি দলই ছিল এবং দুটিই এই বিশ্বকাপের দুর্দান্ত দল। আমি আগেও বলেছি, সেনেগাল পরের রাউন্ডে যাওয়ার যোগ্য ছিল। কিন্তু আমার দায়িত্ব হলো খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস জোগানো এবং প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা। এর মানে এই নয় যে বেলজিয়ামের শুরুর একাদশ খারাপ খেলেছে; বরং সেনেগাল অসাধারণ খেলেছে। এমনও হতে পারতো, ম্যাচ শেষ করা আমাদের দলটি যদি শুরু থেকেই খেলতো, তাহলেও হয়তো ৫০ মিনিটে আমরা ২-০ গোলে পিছিয়ে থাকতাম। বিষয়টি সেভাবেই দেখতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমরা পরিস্থিতি বদলে দিতে পেরেছি। এটাই ফুটবলের সৌন্দর্য। একসময় মনে হতে পারে আপনি হেরে যাচ্ছেন, কিন্তু যদি নিজের দল, নিজের সামর্থ্য এবং সতীর্থদের ওপর বিশ্বাস রাখেন, যথেষ্ট দৃঢ় সংকল্প দেখান, আর সঙ্গে একটু ভাগ্যও থাকে, তাহলে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়া সম্ভব।’
এখন বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে বেলজিয়ামের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। তারা বসনিয়াকে ২-০ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে পরের রাউন্ডে উঠেছে।
আরআর/আইএন








