বিয়ানীবাজারে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কবলে গোটা উপজেলাবাসীর জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। রাত ও দিনে আধ ঘণ্টা, এক ঘণ্টা পরপরই বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করে। এমন ভেলকিবাজির কারণে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। শিক্ষা কার্যক্রম এবং দৈনন্দিন কাজকর্ম মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে। ব্যবসার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে মার্কেট-শপিংমলগুলোতে। গত ৪-৫ দিন থেকে বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন বিয়ানীবাজারের বাসিন্দারা। এই লোডশেডিং কতদিন চলবে তাও জানা নেই স্থানীয় বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্টদের। তবে লোডশেডিংয়ের এই বিড়ম্বনা কেবল বিয়ানীবাজারেই নয়, পুরো সিলেট বিভাগজুড়ে চলছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা জানান, দিনের পাশাপাশি রাতেও একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে। প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন। ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার কারণে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, বিদ্যুতের এমন অনিয়মিত সরবরাহের কারণে দোকানপাট ও ক্ষুদ্র ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ফ্রিজ, কম্পিউটার ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রনির্ভর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভাষ্য, সন্ধ্যার পর দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় লেখাপড়া ব্যাহত হচ্ছে। অনলাইনভিত্তিক কাজ ও যোগাযোগ ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ ব্যাপারে বিয়ানীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডিজিএম পার্থ চক্রবর্তী বলেন, দুই দিন ধরে উপজেলায় চাহিদার অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। বিয়ানীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের প্রতিদিন ২৫ মেঘাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন। তার বিপরীতে আমরা মাত্র ১১-১২ মেঘাওয়াট বিদ্যুৎ পাচ্ছি। লোডশেডিংয়ের পুরো কার্যক্রম সিলেটের কুমারগাঁও গ্রিড উপকেন্দ্র থেকে কন্ট্রোল করা হচ্ছে। এই লোডশেডিংয়ের কবল থেকে কবে মুক্তি পাওয়া যাবে সেটি সুনির্দিষ্ট করে বলতে পারছি না। তবে বিবিয়ানাতে প্লান্ট চালু হয়ে গেলে এই সংকট কিছুটা কাটবে।

এদিকে মনিরামপুরে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে নাকাল গ্রাহকরা। প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গড়ে দুই থেকে তিন ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের অভিযোগ উঠেছে। এমনিতেই তীব্র গরমে মানুষের জীবন নাভিশ্বাস হয়ে উঠেছে। তার ওপর গোদের উপর বিষফোড়া হয়ে উঠেছে লোডশেডিং। সারা দিনের পরিশ্রমের পর বিশ্রামের সময় লোডশেডিং হচ্ছে। অবশ্য সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন তীব্র গরমে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতি হওয়ায় এ লোডশেডিং হচ্ছে। জানা যায়, ১৯৭৯ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠার পর যপবিস-২ (যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২)-এর কার্যক্রম ১৯৮১ সালের ২ ফেব্রুয়ারি হতে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। বর্তমানে একটি সদর দপ্তর, ৫ জোনাল অফিস, ৩টি সাব জোনাল অফিস ও ২৯ অভিযোগ কেন্দ্র নিয়ে গঠিত এই সমিতির আওতায় সংযোগকৃত গ্রাহক সংখ্যা ৬ লাখ ২০ হাজার ৭০৭। যপবিস-২-এর জেনারেল ম্যানেজার মো. হাদী উজ্জামান জানান, এই সমিতির আওতায় বিদ্যুতের চাহিদা দেড়শ মেগাওয়াট; কিন্তু সরবরাহ করা হচ্ছে ১১৫ হতে ১২০ মেঘাওয়াট। যে কারণে লোডশেডিং হচ্ছে।