​ডালাসের মাঠে হাইভোল্টেজ ম্যাচে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে হারিয়ে আবারও ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটাল নরওয়ে। রোমাঞ্চ ও উত্তেজনায় ঠাসা এই ম্যাচে সেলেসাওদের ২-১ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে নরওয়ের ফুটবলাররা। প্রথমার্ধে পেনাল্টি মিস ও গোল বাতিলের নাটকীয়তার পর দ্বিতীয়ার্ধের শেষ মুহূর্তে আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোল নরওয়েকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেয়। ম্যাচের শেষ দিকে নেইমার পেনাল্টি থেকে একটি গোল পরিশোধ করলেও তা কেবল ব্রাজিলের সান্ত্বনাই বাড়িয়েছে। ​যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে অনুষ্ঠিত শেষ ষোলোর এই লড়াইয়ের শুরু থেকেই টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছিল। ম্যাচের প্রথমার্ধে ৬৪ শতাংশ বল দখলে রেখে একের পর এক আক্রমণ চালায় নরওয়ে। তৃতীয় মিনিটেই দ্রুত পাল্টা আক্রমণে বক্সের ভেতর আলেকজান্ডার সোরলথের পাস থেকে বল জালে জড়ান প্যাট্রিক বের্গ। নরওয়ের খেলোয়াড়রা উল্লাসে মেতে উঠলেও রেফারি অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল করে দেন। এরপর ম্যাচের ১০ মিনিটে পেনাল্টি পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেনি ব্রাজিল। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের কাছ থেকে বল পেয়ে ব্রুনো গিমারায়েস পেনাল্টি শট নিলেও নরওয়ের গোলরক্ষক ওরইয়ান নিল্যান্ড তা অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন। এর ফলে দীর্ঘ চার দশক পর মূল সময়ে পেনাল্টি মিসের রেকর্ডে নাম লেখায় সেলেসাওরা। প্রথমার্ধের বাকি সময়ে মার্টিনেল্লি, ভিনিসিয়ুস ও নরওয়ের আর্লিং হালান্ড এবং মার্টিন ওডেগার্ড বেশ কিছু সুযোগ তৈরি করলেও গোলরক্ষকদের নৈপুণ্যে প্রথমার্ধ গোলশূন্য সমতায় শেষ হয়। ​দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই কাঙ্ক্ষিত গোলের জন্য মাঠে লড়ে যাচ্ছিলেন ব্রাজিলের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ম্যাচের ধার বাড়াতে পরে মাঠে নামানো হয় তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার জুনিয়রকেও। তবে নরওয়ের আক্রমণভাগের সামনে বারবার খেই হারিয়ে ফেলছিল ব্রাজিলের রক্ষণভাগ। হাফ ডজন সুযোগ নষ্ট করার পর অবশেষে ম্যাচের ৭৯ মিনিটে ডেডলক ভাঙেন নরওয়ের তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড। উড়ন্ত বলে চমৎকার হেডে গোল করে নরওয়েকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন তিনি। পিছিয়ে পড়ে ব্রাজিল যখন সমতায় ফিরতে মরিয়া, ঠিক তখনই ম্যাচের ৮৯ মিনিটে আবার আঘাত হানেন হালান্ড। সতীর্থের পাস থেকে পাওয়া বলে জোরালো শট নিয়ে নিজের এবং দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি। ফলে ২-০ ব্যবধানে লিড নিয়ে জয়ের সুবাস পেতে শুরু করে নরওয়ে। ​নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে রেফারি অতিরিক্ত ৭ মিনিট সময় যোগ করেন। তবে নাটকীয়তার তখনও বাকি ছিল। অতিরিক্ত সময়ের ৮ম মিনিটে নরওয়ের ডি বক্সে ব্রাজিলের খেলোয়াড় ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। এবার স্পট কিক থেকে গোল করতে কোনো ভুল করেননি নেইমার জুনিয়র। নেইমারের শান্তনাসূচক এই গোলের পরও নরওয়ে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থাকে। এরপর খেলা অতিরিক্ত ১২ মিনিট পর্যন্ত গড়ালেও ব্রাজিল আর কোনো গোল করতে পারেনি। রেফারি শেষ বাঁশি বাজানোর সাথে সাথেই ব্রাজিলের বিদায় এবং নরওয়ের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার আনন্দ উল্লাসে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো স্টেডিয়াম।