ব্রাজিল থেকে আমদানি করা অনেক পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন ট্রাম্প প্রশাসন। ওয়াশিংটনের দাবি, মার্কিন কোম্পানিগুলোর প্রতি ব্রাজিলের ‘অন্যায্য আচরণ’ এবং বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতার জবাব হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই) ঘোষিত নতুন এই শুল্ক ২২ জুলাই থেকে কার্যকর হবে।
এক বছর তদন্তের ভিত্তিতে ১৯৭৪ সালের মার্কিন ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ৩০১-এর আওতায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই আইনের মাধ্যমে বিদেশি রাষ্ট্রের অন্যায্য বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের জবাবে যুক্তরাষ্ট্র শুল্কসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যবস্থা নিতে পারে।
তবে, নতুন শুল্কের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে কফি ও গরুর মাংসের মতো গুরুত্বপূর্ণ ভোগ্যপণ্য। হোয়াইট হাউস বলছে, তাদের মূল উদ্দেশ্য মার্কিন ভোক্তাদের ওপর মূল্যস্ফীতির প্রভাব কমিয়ে রেখে ব্রাজিলের ওপর চাপ বাড়ানো।
এদিকে, বার্তা সংস্থা এজেন্সিকা ব্রাজিল-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আমদানি পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে ব্রাজিল সরকার। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্সির সামাজিক যোগাযোগ সচিবালয় (Secom) স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ব্রাজিলের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা এ ধরনের বাণিজ্যিক ব্যবস্থা গ্রহণের কোনো যৌক্তিকতা নেই। ব্রাজিল এসব তদন্তের বৈধতা অস্বীকার করে কারণ এগুলোর পক্ষে বহুপাক্ষিক আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতিমালার কোনো ভিত্তি নেই।
সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস-এর তথ্য মতে, এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা জানান, মার্কিন প্রযুক্তি ও পেমেন্ট কোম্পানিগুলোর জন্য অন্যায্য বাধা সৃষ্টি করছে ব্রাজিল। এছাড়া মার্কিন ইথানলের বাজারে প্রবেশ সীমিত করছে এবং মেধাস্বত্ব সুরক্ষায় যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে না ব্রাজিল। পাশাপাশি লাতিন এই দেশটি কিছু দেশের জন্য অগ্রাধিকারমূলক শুল্ক সুবিধা দিচ্ছে।
ওই কর্মকর্তা আরও অভিযোগ করেন, ব্রাজিল অবৈধ বন উজাড় রোধে কার্যকর আইন প্রয়োগে ব্যর্থ হচ্ছে। এর ফলে দেশটির উৎপাদকরা মার্কিন প্রতিষ্ঠানের তুলনায় অন্যায্য ব্যয়গত সুবিধা পাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত কেবল বাণিজ্যিক তদন্তের ফল নয়; এটি ট্রাম্প ও ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার মধ্যে চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনারও প্রতিফলন। এর আগে ট্রাম্প তার রাজনৈতিক মিত্র ও সাবেক ব্রাজিলীয় প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর প্রতি ব্রাজিলের আচরণের সমালোচনা করে দেশটির ওপর পৃথক শুল্ক আরোপ করেছিলেন।
যদিও মার্কিন প্রশাসনের দাবি, গত ছয় সপ্তাহের আলোচনায় আরও গঠনমূলক মনোভাব দেখিয়েছেন ব্রাজিলের কর্মকর্তারা। তবু দুই দেশের অবস্থানের মধ্যে এখনও উল্লেখযোগ্য দূরত্ব রয়েছে। তবে, উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
কেএম








