টানা বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও উজানের পানিতে দেশের বিভিন্ন জেলায় বন্যা ও নদীভাঙনের আশঙ্কা বেড়েছে। ফেনী, ভোলা, বরিশাল ও বগুড়ায় নদীতীরের বিস্তীর্ণ এলাকা ভাঙনের মুখে পড়ায় হাজারো মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্তরা দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ ও কার্যকর ভাঙনরোধী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। যুগান্তর ব্যুরো ও প্রতিনিধিরা জানান : বগুড়ার সোনাতলায় উজানের ঢল এবং কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে যমুনা ও বাঙালি নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রবল স্রোতে বিস্তীর্ণ এলাকা হুমকির মুখে পড়ায় নদীতীরের শত শত পরিবার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। গত দুদশকে যমুনার ভাঙনে শত শত একর ফসলি জমি ও অসংখ্য বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এবারও খাবুলিয়া, দাউদিয়ারপাড়া, জন্তিয়ারপাড়াসহ কয়েকটি এলাকায় ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরি ভিত্তিতে কিছু স্থানে জিওব্যাগ ফেললেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, ভাঙনরোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ চলছে। ফেনীর দাগনভূঞার নিম্নাঞ্চলে বন্যা ও নদীভাঙনের আশঙ্কায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে সিন্দুরপুর, পূর্ব চন্দ্রপুর, মাতুভূঞা, সদর ও জায়লস্কর ইউনিয়নের নদী ও খালপাড়ের বাসিন্দারা গত বছরের ভয়াবহ বন্যার স্মৃতি মনে করে উদ্বেগে রয়েছেন। ছোট ফেনী নদীর ভাঙনে জগতপুর গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা বিলীন হয়েছে। ফাজিলেরঘাট-তালতলী সড়কও নদীগর্ভে হারিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এদিকে সম্ভাব্য বন্যা মোকাবিলায় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত, স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন এবং উদ্ধার কাজে নৌকার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. মাহবুব আলম বলেন, পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী ও আর্থিক বরাদ্দ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ইউএনও মো. শাহীদুল ইসলাম জানান, নদীভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। ভোলার দৌলতখানে টানা তিন দিনের ভারি বৃষ্টি ও মেঘনার উত্তাল ঢেউয়ে মেদুয়া ও চরপাতা ইউনিয়নে ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে বসতবাড়ি, ফসলি জমি, বাজারসহ বিভিন্ন স্থাপনা বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় শতাধিক পরিবার চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। অনেকেই ঘরবাড়ি সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ভাঙনরোধে সিসি ব্লক নির্মাণের দাবিতে স্থানীয়রা পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয় ঘেরাও এবং সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করলেও এখনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। স্থানীয়রা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জিয়া উদ্দীন আরিফ বলেন, মেদুয়া ও চরপাতা ইউনিয়নের ভাঙনরোধে একটি প্রকল্প প্রস্তুত করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বরিশালের বাবুগঞ্জে সুগন্ধা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে দেহেরগতি ইউনিয়নের রাকুদিয়া গ্রামের প্রায় ৪শ একর ফসলি জমি, দুই শতাধিক ঘরবাড়ি, একটি কলেজ ছাত্রাবাস ও প্রায় ৫০০ ফুট সড়ক নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেললেও পানির তোড়ে তা ভেসে যাওয়ায় ভাঙন থামছে না। এতে নদীপাড়ের বাসিন্দারা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল জানান, স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে একটি প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে; বরাদ্দ পেলে কাজ শুরু হবে।







