বান্দরবানে বৃষ্টিপাত কিছুটা কমে আসায় বন্যার পানি ধীরে ধীরে নামতে শুরু করেছে। কিন্তু, গত পাঁচদিন ধরে পানিবন্দি এখানকার কয়েক হাজার মানুষের দুর্ভোগ এখনো কমেনি।
নিম্ন অঞ্চলের সড়কগুলো পানিতে তলিয়ে থাকায় এক স্থান থেকে অপর স্থানে যেতে স্থানীয়দের ব্যবহার করতে হচ্ছে নৌকা। তাদের ধারণা, বৃষ্টি বাড়লে পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে।
শনিবার (১১ জুলাই) সরেজমিনে দেখা গেছে, বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় পানি কিছুটা নামলেও বান্দরবান পৌর এলাকার হাফেজঘোনা, কালাঘাটা, ক্যংচিংঘাটা, বালাঘাটা, বরিলাশপাড়া, মারমা বাজার নদীপাড়, কাশেমপাড়া ও মেম্বারপাড়া লেমুঝিরি, রেইচা গোলিয়াখোলাসহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে কোমর থেকে গলা সমান পানি জমে রয়েছে। হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
জেলা শহরের বালাঘাটা এলাকায় সড়কে এখনো কোমর সমান পানি রয়েছে। অন্যদিকে রেইচা, গোয়ালিয়াখোলা ও ডুংখি পাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় নৌকায় করে মানুষের যাতায়াত চলছে। স্বাভাবিক সময়ে যেখানে রিকশা ভাড়া ২০ টাকা, সেখানে বর্তমানে জরুরি প্রয়োজনের কারণে অনেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া দিয়ে তিনচাকার যানবাহনে যাতায়াত করতে হচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা।
শহরের বালাঘাটা বাজার এলাকার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, “প্রতিদিন নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে বান্দরবান সদরে যেতে হয়। বন্যার কারণে সড়কে পানি থাকায় তিনচাকার ভ্যান ও রিকশায় জনপ্রতি ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া দিতে হয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকে বৃষ্টি কমে আসায় রাস্তায় পানি কিছুটা কমেছে, তাই ভাড়া ৫০ টাকায় নেমেছে। দুর্ভোগ এখনো শেষ হয়নি।”
বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়া একটি এলাকা
একই এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ জাফর উদ্দিন বলেন, “আমার তিনতলা বাড়ির নিচ তলা পুরোপুরি পানিতে ডুবে গেছে। ঘরে কিছু জিনিসপত্র থাকায় আশ্রয়কেন্দ্রে যাইনি। প্রয়োজনীয় মালামাল ছাদে ত্রিপল দিয়ে ঢেকে রেখেছি। ঝুঁকি জেনেও আল্লাহর ওপর ভরসা করে গত কয়েকদিন ধরে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তৃতীয় তলায় অবস্থান করছি। পানি কিছুটা কমেছে।”
বান্দরবান সদর উপজেলার রেইছা এলাকার থুংখি পাড়ার বাসিন্দা উবাসিং মারমা বলেন, “২০২৩ সালে একবার ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছিলাম। আবার ২০২৬ সালে একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি। আমাদের এলাকার পাঁচটি পাড়া পানিবন্দি। মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছে। শত শত একর ক্ষেত-খামার পানির নিচে তলিয়ে গেছে।”
আবহাওয়া অধিদপ্তরের বান্দরবান কার্যালয়ের অফিসার ইনচার্জ সনাতন কুমার মণ্ডল জানান, ২৪ ঘণ্টায় (১১ জুলাই সকাল) সকাল ৬টা পর্যন্ত জেলায় ৮০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
জেলা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মমতা আফরিন বলেন, “বন্যায় কবলিত বম হোস্টেল ও ত্রিপুরা হোস্টেলে শিক্ষার্থীরা পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। তাদের শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট রয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ সহায়তা পাঠানো হয়েছে এবং পানিবন্দি অন্যান্য মানুষের কাছেও ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।”








